কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ক্লডে নতুন নিরাপত্তা ফিচার যুক্ত করেছে এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। ‘সেলফ অ্যাসেসমেন্ট’ নামের এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের কথোপকথন নিজেই পর্যালোচনা করতে পারবে ক্লড।
কোনো কথোপকথনে ক্ষতিকর বা অপব্যবহারের ইঙ্গিত পাওয়া গেলে সেটি পরবর্তী পর্যালোচনার জন্য চিহ্নিত করবে এআই।
ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জুন থেকে ক্লডের বিভিন্ন মডেলে এই পদ্ধতি চালু রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিবার উত্তর দেওয়ার পর ক্লডকে গোপনে একটি অতিরিক্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে নিজের দেওয়া উত্তরসহ পুরো কথোপকথন পর্যালোচনা করে নিরাপত্তা মূল্যায়ন করতে বলা হয়।
এই মূল্যায়নে কথোপকথনটি ক্ষতিকর কি না, কী ধরনের ঝুঁকি রয়েছে এবং মানবীয় পর্যালোচনার জন্য কতটা অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করে ক্লড। কথোপকথন স্বাভাবিক হলে সেটি আলাদাভাবে চিহ্নিত করার প্রয়োজন হয় না। পুরো প্রক্রিয়াটি ব্যবহারকারীর অজান্তেই পেছনে সম্পন্ন হয়। ফলে সাধারণ কথোপকথনে কোনো সতর্কবার্তা বা পপ-আপ দেখানোর প্রয়োজন পড়ে না।
অ্যানথ্রপিকের দাবি, নতুন পদ্ধতিতে নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত কম্পিউটিং সক্ষমতা প্রয়োজন হয়। প্রতিটি যাচাইয়ে প্রায় ১০টি অতিরিক্ত টোকেন ব্যবহার হয়, যা মোট কম্পিউটিং খরচ ২ শতাংশেরও কম বাড়ায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্লড ফেবল ৫ মডেলে পরীক্ষার সময় সেলফ অ্যাসেসমেন্ট ব্যবস্থা ৭৮ শতাংশ ক্ষতিকর কথোপকথন শনাক্ত করতে পেরেছে। উচ্চ অগ্রাধিকারের ঝুঁকিপূর্ণ কথোপকথনের ক্ষেত্রে শনাক্তের হার ছিল ৯৪ শতাংশ। অন্যদিকে, ভুলভাবে নিরীহ কথোপকথনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করার হার ছিল মাত্র ১ শতাংশ।
বাস্তব ব্যবহারে এই ব্যবস্থার কার্যকারিতার উদাহরণও তুলে ধরেছে অ্যানথ্রপিক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত আগস্টে একটি গ্রাহকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিশু যৌন নির্যাতনের উপাদানসংক্রান্ত এক লাখের বেশি ঘটনা শনাক্ত করে সেলফ অ্যাসেসমেন্ট ব্যবস্থা। পরে সেগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
এ ছাড়া নতুন ধরনের প্রতারণা ও সাইবার হামলার মতো ঝুঁকিও শনাক্ত করতে পারে এই ব্যবস্থা। যেসব উদাহরণ প্রশিক্ষণের সময় সরাসরি ব্যবহার করা হয়নি, সেগুলোর ক্ষেত্রেও পরীক্ষায় ৯০ শতাংশ হুমকি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে নতুন ফিচারটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এটি মূলত কথোপকথন শনাক্ত করে পরবর্তী সময়ে পর্যালোচনার জন্য চিহ্নিত করে। ব্যবহারকারীর ক্ষতিকর অনুরোধ বা কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করতে পারে না।
অ্যানথ্রপিকের অভ্যন্তরীণ সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষায় দেখা গেছে, শুধু সেলফ অ্যাসেসমেন্ট ব্যবস্থা চালু থাকলে হ্যাকাররা ৫৪ শতাংশ ক্ষেত্রে নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে পেরেছে। কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকলে এই হার ছিল ৭৯ শতাংশ। অন্যদিকে, তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিকর কার্যক্রম আটকে দেওয়ার পৃথক ব্যবস্থা চালু থাকলে হ্যাকারদের সফলতার হার নেমে আসে ২৫ শতাংশে।
এ কারণে অ্যানথ্রপিক সেলফ অ্যাসেসমেন্টকে নিরাপত্তার অতিরিক্ত স্তর হিসেবে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি তাৎক্ষণিক ঝুঁকি ঠেকাতে আলাদা নিরাপত্তাব্যবস্থাও চালু রাখছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ



























