প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্নার ব্যবহৃত গাড়ি মেরামত করতে গিয়ে আগুন লাগার ঘটনায় করা মামলায় তার পরিবারের ব্যবস্থাপক ও এক টেকনিশিয়ানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
তবে আসামিপক্ষের দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়নি, মেরামতের সময় যান্ত্রিক ত্রুটি থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়।
বুধবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কারাগারে পাঠানো দুই আসামি হলেন মান্নার পরিবারের ব্যবস্থাপক মো. মামুন মণ্ডল (২৯) ও টেকনিশিয়ান মো. সোহেল পাটওয়ারী (৩৭)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াউর রহমান তাদের আদালতে হাজির করে কারাগারে রাখার আবেদন করেন।
প্রাথমিক তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে রাখার আবেদন জানানো হয়।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম আদালতে দাবি করেন, গাড়িটিতে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন দেওয়া হয়নি। ২০০৮ সালে মান্নার মৃত্যুর পর গাড়িটি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় ছিল। মেরামতের সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আগুন লাগে বলে দাবি করেন তিনি।
বুধবার আসামিদের জামিন আবেদনের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর ভাটারা ধানাধীন এলাকার একটি ভবনের নিচতলার গ্যারেজে মান্নার ব্যবহৃত গাড়িটি রাখা ছিল। ওই ভবনের একটি ফ্ল্যাটে থাকেন তার স্ত্রী। গাড়ি থেকে তেল পড়ায় সেটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য ভবন কর্তৃপক্ষ অনুরোধ জানায়। পরে মান্নার স্ত্রী পরিবারের ব্যবস্থাপক মামুনকে গাড়িটি বাইরে কোনো ওয়ার্কশপে নিয়ে মেরামত করতে বলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেই নির্দেশনা না মেনে মামুন টেকনিশিয়ান সোহেলকে নিয়ে ভবনের গ্যারেজেই গাড়িটি মেরামতের কাজ শুরু করেন। সোমবার সন্ধ্যা আনুমানিক ছয়টার দিকে গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। এতে মান্নার ব্যবহৃত গাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনে পাশের একটি ব্যক্তিগত গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ছাড়া আগুনে ভবনের গ্যারেজ, বৈদ্যুতিক তার, সিসিটিভি ক্যামেরা ও গেটের শাটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পুড়ে যায়। ভবনের কয়েকটি অংশের কাচও ভেঙে যায়। এ ঘটনায় প্রায় ৯০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ভবনটির ব্যবস্থাপক মো. গাজি মানিক মিয়া মঙ্গলবার সকালে ভাটারা থানায় মামলা করেন। পরে বেলা ১১টার দিকে ভাটারা ধানাধীন এলাকা থেকে মামুন ও সোহেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, গাড়িটি প্রায় দেড় বছর ধরে পড়ে ছিল। বাইরে নিয়ে মেরামতের কথা থাকলেও মেকানিক ডেকে ভবনের গ্যারেজেই কাজ শুরু করা হয়। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ





























