ঢাকা ০৭:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কলেজছাত্র রোহান হত্যা : অভিযুক্তদের বাড়িঘরে আগুন দিল এলাকাবাসী Logo খেলা শুরু হয়ে গেছে’, মোদি সরকারকে অভিনেতা প্রকাশ রাজ Logo ‘পতনের দ্বারপ্রান্তে মোদি’, সোমবার দিল্লিতে বড় বিক্ষোভের ডাক ইন্ডিয়া জোটের Logo নিম্নমানের বই দিলে গ্রহণ করবেন না : শিক্ষামন্ত্রী Logo প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে যাওয়ায় স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দিলেন দ্বিতীয় স্ত্রী Logo ভারতে শেখ হাসিনাকে আশ্রয়, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক উন্নয়নে বড় বাধা : রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল Logo এআই দিয়ে জামায়াত-শিবির সরকারবিরোধী যে অপপ্রচার ছড়াচ্ছে, তা আ. লীগও করেনি Logo দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড়, পরিচয়পত্র দেখিয়েও আটক সাংবাদিকেরা Logo লালন শাহের মাজারের দানবাক্সে মিলল ৬ লাখ ৪৯ হাজার টাকা Logo প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বাণিজ্য-বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেবে ঢাকা

দক্ষিণ আফ্রিকায় আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণের অনুমতি বাতিল

দক্ষিণ আফ্রিকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে, আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণের অনুমতি দিয়ে জারি করা একটি নির্দেশনা প্রত্যাহার করা হয়েছে। জোহানেসবার্গ ও ডারবানে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠার এক দিন পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

রয়টার্স জানায়, গত ৭ জুলাই দেশটির সাংবিধানিক আদালত একটি রায় দিয়েছিলেন। সেই রায় কার্যকর করতেই নির্দেশনাটি জারি করা হয়েছিল। রায়ে বলা হয়েছিল, শুধু প্রক্রিয়াগত কারণে আশ্রয়প্রার্থীদের দক্ষিণ আফ্রিকার আশ্রয়ব্যবস্থার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। যেমন—কেউ অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করলেও শুধু সেই কারণে তার আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকার করা যাবে না।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কাজের সুবিধার জন্য নির্দেশনাটি জারি করা হয়েছিল। কিন্তু এটি কার্যকর করার কয়েক দিনের মধ্যেই শরণার্থীদের আবেদন গ্রহণের কার্যালয়গুলোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এতে কর্মকর্তারা ঝুঁকির মুখে পড়েন। পাশাপাশি জননিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলার জন্য হুমকি তৈরি হয়।

সরকার বলেছে, আদালতের রায় নিয়ে ছড়ানো ভুল তথ্যের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরকার আরো জানিয়েছে, আদালতের ওই রায়ের ফলে অনিবন্ধিত অভিবাসীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শরণার্থীর মর্যাদা, স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা অন্য কোনো আইনি অধিকার পান না।

আফ্রিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ বাড়ছে। এতে অন্যান্য আফ্রিকান দেশের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি হাজার হাজার বিদেশি নাগরিক দেশটি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বেকারত্ব, অপরাধ এবং সরকারি সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপের জন্য প্রায়ই অভিবাসীদের দায়ী করা হয়। তবে সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, এসব অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। বৃহস্পতিবার উপকূলীয় শহর ডারবানে দাঙ্গাকারীরা ১৪টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। জোহানেসবার্গের সোয়েতো এলাকায় আগুন দেওয়া হয় আরো ১০টি গাড়িতে। এ ছাড়া বিদেশিদের মালিকানাধীন দোকানপাটেও লুটপাট চালানো হয়।

শুক্রবার সোয়েতোতে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল পুলেং ডিমপানে এ কথা জানান। সেখানে পোড়া গাড়িগুলোর ধ্বংসাবশেষের কাছেই সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। ডিমপানে বলেন, ওই এলাকায় পরিস্থিতি আবার শান্ত হয়েছে।

ডারবানে পুলিশের মুখপাত্র রবার্ট নেটশিউন্ডাও জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তিনি বলেন, পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় আরো বেশি ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

কলেজছাত্র রোহান হত্যা : অভিযুক্তদের বাড়িঘরে আগুন দিল এলাকাবাসী

দক্ষিণ আফ্রিকায় আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণের অনুমতি বাতিল

আপডেট সময় ০৩:৫১:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

দক্ষিণ আফ্রিকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে, আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণের অনুমতি দিয়ে জারি করা একটি নির্দেশনা প্রত্যাহার করা হয়েছে। জোহানেসবার্গ ও ডারবানে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠার এক দিন পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

রয়টার্স জানায়, গত ৭ জুলাই দেশটির সাংবিধানিক আদালত একটি রায় দিয়েছিলেন। সেই রায় কার্যকর করতেই নির্দেশনাটি জারি করা হয়েছিল। রায়ে বলা হয়েছিল, শুধু প্রক্রিয়াগত কারণে আশ্রয়প্রার্থীদের দক্ষিণ আফ্রিকার আশ্রয়ব্যবস্থার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। যেমন—কেউ অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করলেও শুধু সেই কারণে তার আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকার করা যাবে না।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কাজের সুবিধার জন্য নির্দেশনাটি জারি করা হয়েছিল। কিন্তু এটি কার্যকর করার কয়েক দিনের মধ্যেই শরণার্থীদের আবেদন গ্রহণের কার্যালয়গুলোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এতে কর্মকর্তারা ঝুঁকির মুখে পড়েন। পাশাপাশি জননিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলার জন্য হুমকি তৈরি হয়।

সরকার বলেছে, আদালতের রায় নিয়ে ছড়ানো ভুল তথ্যের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরকার আরো জানিয়েছে, আদালতের ওই রায়ের ফলে অনিবন্ধিত অভিবাসীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শরণার্থীর মর্যাদা, স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা অন্য কোনো আইনি অধিকার পান না।

আফ্রিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ বাড়ছে। এতে অন্যান্য আফ্রিকান দেশের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি হাজার হাজার বিদেশি নাগরিক দেশটি ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বেকারত্ব, অপরাধ এবং সরকারি সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপের জন্য প্রায়ই অভিবাসীদের দায়ী করা হয়। তবে সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, এসব অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। বৃহস্পতিবার উপকূলীয় শহর ডারবানে দাঙ্গাকারীরা ১৪টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। জোহানেসবার্গের সোয়েতো এলাকায় আগুন দেওয়া হয় আরো ১০টি গাড়িতে। এ ছাড়া বিদেশিদের মালিকানাধীন দোকানপাটেও লুটপাট চালানো হয়।

শুক্রবার সোয়েতোতে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল পুলেং ডিমপানে এ কথা জানান। সেখানে পোড়া গাড়িগুলোর ধ্বংসাবশেষের কাছেই সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। ডিমপানে বলেন, ওই এলাকায় পরিস্থিতি আবার শান্ত হয়েছে।

ডারবানে পুলিশের মুখপাত্র রবার্ট নেটশিউন্ডাও জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তিনি বলেন, পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় আরো বেশি ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ