ঢাকা ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo ভারত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযানের জন্য প্রস্তুত: রাজনাথ সিং Logo হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ড্রোন আটকের দাবি ইরানের Logo দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বুঝব এটার ভাগ সবাই পাবেন: আসিফ মাহমুদ Logo অর্থনীতির পুনরুত্থানে চীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব বাংলাদেশের অগ্রাধিকার: জহির উদ্দিন স্বপন Logo ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ২১৫৮ Logo ভারতের উত্তর প্রদেশে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস, নিহত ৫৬ Logo আইনশৃঙ্খলার উন্নতি না করলেও পারিবারিক জমি-জমার উন্নতি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: পাটওয়ারী Logo এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুইবার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন মোজতবা খামেনি, উদ্ধার হন ধ্বংসস্তূপ থেকে Logo মিরপুরে রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা-ভাঙচুর-লুট : আরো ৬ আসামি কারাগারে

আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ সরকার: যুক্তরাষ্ট্র

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিকে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের একটি ‘বড় অস্বস্তি বা সংকট’ (ইরিট্যান্ট) হিসেবে উল্লেখ করে সংকট সমাধানে বাংলাদেশ ও ভারতকে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

স্থানীয় সময় গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের ফরেইন প্রেস সেন্টারে আয়োজিত ‘একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার সমর্থনে মার্কিন নীতি’ শীর্ষক বিশেষ ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এ অবস্থান তুলে ধরেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সংবাদকর্মীরা অংশ নেন।

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাইলে ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটন এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা উপলব্ধি করি যে বিষয়টি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে রয়েছে। তাই আমরা আশা করি, তারা নিজেরা একত্রে কাজ করে একটি সমাধানে পৌঁছাতে পারবে।’ শেখ হাসিনার বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কী হওয়া উচিত সে বিষয়ে অবস্থান না নিলেও উভয় দেশের মধ্যে ইতিবাচক ও কার্যকর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এর পরপরই আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘এটি বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়।’

বর্তমান বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ আখ্যা দিয়ে ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে মিলে কাজ করতে ওয়াশিংটন অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশের চলমান অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কে আমরা কোনো পক্ষ নেব না। তবে এটুকু বলব, বাংলাদেশের সঙ্গে এবং বিএনপির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার এক অবস্থানে রয়েছে। একটি শক্তিশালী, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য বাস্তবায়নেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

সন্ত্রাসবাদ দমন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, আল-কায়েদা একটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন এবং সন্ত্রাস দমনে যেকোনো দেশের সঙ্গেই ওয়াশিংটন কাজ করতে প্রস্তুত। তবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিস্তারিত না দেখায় এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।

বৃহৎ শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ঢাকাকে কোনো পক্ষ বেছে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে না জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, জাতীয় সক্ষমতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে সংবেদনশীল খাতগুলোতে ওয়াশিংটন আরও নিরাপদ বিকল্প তৈরি করতে চায়। তিনি বলেন, ‘আমরা বলছি না যে আপনাদের অমুক বা তমুক পক্ষকেই বেছে নিতে হবে। তবে বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও টেলিযোগাযোগের মতো স্পর্শকাতর কিছু ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।’ চীনা কমিউনিস্ট পার্টি–সমর্থিত বিভিন্ন কোম্পানির মূল্য প্রতিযোগিতার কারণে বিকল্প তুলে ধরা কঠিন হলেও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন করপোরেশন (ডিএফসি) ও সমমনা মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপদ বিকল্প উপস্থাপনে কাজ করছে বলে তিনি জানান।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ সরকার: যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় ০৩:২০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিকে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের একটি ‘বড় অস্বস্তি বা সংকট’ (ইরিট্যান্ট) হিসেবে উল্লেখ করে সংকট সমাধানে বাংলাদেশ ও ভারতকে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

স্থানীয় সময় গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের ফরেইন প্রেস সেন্টারে আয়োজিত ‘একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার সমর্থনে মার্কিন নীতি’ শীর্ষক বিশেষ ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এ অবস্থান তুলে ধরেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সংবাদকর্মীরা অংশ নেন।

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাইলে ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটন এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা উপলব্ধি করি যে বিষয়টি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে রয়েছে। তাই আমরা আশা করি, তারা নিজেরা একত্রে কাজ করে একটি সমাধানে পৌঁছাতে পারবে।’ শেখ হাসিনার বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কী হওয়া উচিত সে বিষয়ে অবস্থান না নিলেও উভয় দেশের মধ্যে ইতিবাচক ও কার্যকর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এর পরপরই আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘এটি বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়।’

বর্তমান বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ আখ্যা দিয়ে ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে মিলে কাজ করতে ওয়াশিংটন অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশের চলমান অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কে আমরা কোনো পক্ষ নেব না। তবে এটুকু বলব, বাংলাদেশের সঙ্গে এবং বিএনপির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার এক অবস্থানে রয়েছে। একটি শক্তিশালী, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য বাস্তবায়নেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

সন্ত্রাসবাদ দমন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, আল-কায়েদা একটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন এবং সন্ত্রাস দমনে যেকোনো দেশের সঙ্গেই ওয়াশিংটন কাজ করতে প্রস্তুত। তবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিস্তারিত না দেখায় এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।

বৃহৎ শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ঢাকাকে কোনো পক্ষ বেছে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে না জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, জাতীয় সক্ষমতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে সংবেদনশীল খাতগুলোতে ওয়াশিংটন আরও নিরাপদ বিকল্প তৈরি করতে চায়। তিনি বলেন, ‘আমরা বলছি না যে আপনাদের অমুক বা তমুক পক্ষকেই বেছে নিতে হবে। তবে বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও টেলিযোগাযোগের মতো স্পর্শকাতর কিছু ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।’ চীনা কমিউনিস্ট পার্টি–সমর্থিত বিভিন্ন কোম্পানির মূল্য প্রতিযোগিতার কারণে বিকল্প তুলে ধরা কঠিন হলেও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন করপোরেশন (ডিএফসি) ও সমমনা মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপদ বিকল্প উপস্থাপনে কাজ করছে বলে তিনি জানান।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ