ঢাকা ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সাংবাদিককে হুমকি ও জাতীয় সংগীত অবমাননায় পরীমনিকে আইনি নোটিশ Logo প্রথম ধাপে ১০৫০ ইউনিয়ন পরিষদে ভোট: ইসি সচিব Logo বুড়িগঙ্গায় নিষিদ্ধঘোষিত জবি ছাত্রলীগের নৌকা মিছিল Logo কলম্বিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় নিহত ৩ সেনা, আহত ১৬ Logo ট্রাইব্যুনালে উত্তেজনা, প্রসিকিউটর বললেন—‘জেন-জি ক্ষেপে গেলে বিপদ’ Logo সমবায় আন্দোলন ছাড়া আত্মনির্ভরশীল হওয়া সম্ভব নয়: রুহুল কবির রিজভী Logo জিয়াউর রহমানের কথা বলার স্টাইল ও আবেগ তারেক রহমানের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে: প্রতিমন্ত্রী নুর Logo গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন জোরদারে সহযোগিতার আশ্বাস Logo প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউনিয়ন পরিষদে ভোট : ইসি সচিব Logo আধুনিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে দক্ষ জনশক্তির বিকল্প নেই: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

এবার গাজীপুরে জুতার কারখানায় মজুরি আন্দোলন

সকালে এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের শ্রমিকরা যথারীতি কারখানায় প্রবেশ করেন। পরে তাঁরা কাজ বন্ধ রেখে বেতন বৃদ্ধি ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাসহ বেশ কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন।

গাজীপুরের পোশাকশিল্পে কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ কাটতে না কাটতেই এবার মজুরি বৃদ্ধিসহ ১৪ দফা দাবিতে জুতার কারখানায় আন্দোলন শুরু করেছেন শ্রমিকরা।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ শুরু করেন।

পরে বেলা ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে কর্তৃপক্ষ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলে শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে যান। একই গ্রুপের ভান্নারা-মৌচাক এলাকার জেনিথ ফুটওয়্যার লিমিটেডের শ্রমিকরাও কাজ বন্ধ করে কারখানার ভেতরে আন্দোলন শুরু করেন। পরে তাঁদের একটি অংশ বের হয়ে ভান্নারা-মৌচাক বাজার এলাকায় জড়ো হন। এ ঘটনায় শিল্পাঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের শ্রমিকরা যথারীতি কারখানায় প্রবেশ করেন। পরে তাঁরা কাজ বন্ধ রেখে বেতন বৃদ্ধি ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাসহ বেশ কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন। শ্রমিকরা কারখানার বাইরে না গিয়ে ভেতরেই বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। এরপর শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যান।

এপেক্স ফুটওয়্যারে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর একই গ্রুপের আরেকটি প্রতিষ্ঠান জেনিথ ফুটওয়্যার লিমিটেডের শ্রমিকরাও কাজ বন্ধ করে দেন। তাঁরা কারখানার ভেতরে আন্দোলন শুরু করেন। পরে শ্রমিকদের একটি অংশ বের হয়ে ভান্নারা-মৌচাক বাজার এলাকায় জড়ো হন। তাঁদের এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে-এমন আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরিস্থিতির ওপর গোয়েন্দা নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে।

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এপেক্স ফুটওয়্যার কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁরা ১৪ দফা দাবি তুলে ধরেছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-দাবি পূরণের আগে কাজে যোগ না দেওয়া এবং ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যার সমাধান, শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার জবাব ও বিচার, শ্রমিকদের মারধর বা নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত হারুন ও মহিবুল্লার বিচার এবং তাঁদের কারখানায় দায়িত্বে না রাখা, কোনো শ্রমিককে ছাঁটাই না করা,কারখানার চিকিৎসাকেন্দ্র ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা, এক সপ্তাহের মধ্যে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণকাজ শুরু,ছুটির টাকা পূর্ণ পরিশোধ এবং ছুটি নিলে হাজিরা বোনাস না কাটা।

এ ছাড়া শ্রমিকরা সুপারভাইজার ও কর্মকর্তাদের দুর্ব্যবহার বন্ধ, মানবসম্পদ বিভাগের ছুটি-সংক্রান্ত আচরণে পরিবর্তন, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে শ্রমিক প্রতিনিধি ও পিসি সদস্যদের বক্তব্যের গুরুত্ব দেওয়া, হাজিরা বোনাস এক হাজার টাকা এবং টিফিন বিল ৪০ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁদের সঙ্গে ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কিছু কর্মকর্তার আচরণ সন্তোষজনক নয়। এসব সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদনকাজ বন্ধ রাখার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন শুরু করলে কারখানা কর্তৃপক্ষ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। এরপর শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে যান। অন্যদিকে জেনিথ ফুটওয়্যার লিমিটেডের শ্রমিকরাও কাজ বন্ধ রেখে কারখানার ভেতরে আন্দোলন করছেন। তিনি বলেন, চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকারী কারখানার মজুরি কাঠামোর সঙ্গে বিজিএমইএর আওতাধীন পোশাক কারখানার মজুরি কাঠামোর মিল নেই। এপেক্স ও জেনিথ ফুটওয়্যারের শ্রমিকরা আগে থেকেই বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুরের পোশাকশিল্পে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে টানা কয়েক দিনের আন্দোলন, সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের পর শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরতে শুরু করেছিল। শ্রমিকরা কাজে ফেরায় কারখানাগুলোতে উৎপাদনও সচল হয়। এর মধ্যেই জুতাশিল্পের দুটি কারখানায় নতুন করে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেওয়ায় শিল্পাঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি ও অভিযোগের বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিককে হুমকি ও জাতীয় সংগীত অবমাননায় পরীমনিকে আইনি নোটিশ

এবার গাজীপুরে জুতার কারখানায় মজুরি আন্দোলন

আপডেট সময় ০৩:০২:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

সকালে এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের শ্রমিকরা যথারীতি কারখানায় প্রবেশ করেন। পরে তাঁরা কাজ বন্ধ রেখে বেতন বৃদ্ধি ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাসহ বেশ কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন।

গাজীপুরের পোশাকশিল্পে কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ কাটতে না কাটতেই এবার মজুরি বৃদ্ধিসহ ১৪ দফা দাবিতে জুতার কারখানায় আন্দোলন শুরু করেছেন শ্রমিকরা।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ শুরু করেন।

পরে বেলা ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে কর্তৃপক্ষ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলে শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে যান। একই গ্রুপের ভান্নারা-মৌচাক এলাকার জেনিথ ফুটওয়্যার লিমিটেডের শ্রমিকরাও কাজ বন্ধ করে কারখানার ভেতরে আন্দোলন শুরু করেন। পরে তাঁদের একটি অংশ বের হয়ে ভান্নারা-মৌচাক বাজার এলাকায় জড়ো হন। এ ঘটনায় শিল্পাঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের শ্রমিকরা যথারীতি কারখানায় প্রবেশ করেন। পরে তাঁরা কাজ বন্ধ রেখে বেতন বৃদ্ধি ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাসহ বেশ কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন। শ্রমিকরা কারখানার বাইরে না গিয়ে ভেতরেই বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। এরপর শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যান।

এপেক্স ফুটওয়্যারে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর একই গ্রুপের আরেকটি প্রতিষ্ঠান জেনিথ ফুটওয়্যার লিমিটেডের শ্রমিকরাও কাজ বন্ধ করে দেন। তাঁরা কারখানার ভেতরে আন্দোলন শুরু করেন। পরে শ্রমিকদের একটি অংশ বের হয়ে ভান্নারা-মৌচাক বাজার এলাকায় জড়ো হন। তাঁদের এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে-এমন আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরিস্থিতির ওপর গোয়েন্দা নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে।

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এপেক্স ফুটওয়্যার কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁরা ১৪ দফা দাবি তুলে ধরেছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-দাবি পূরণের আগে কাজে যোগ না দেওয়া এবং ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যার সমাধান, শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার জবাব ও বিচার, শ্রমিকদের মারধর বা নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত হারুন ও মহিবুল্লার বিচার এবং তাঁদের কারখানায় দায়িত্বে না রাখা, কোনো শ্রমিককে ছাঁটাই না করা,কারখানার চিকিৎসাকেন্দ্র ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা, এক সপ্তাহের মধ্যে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণকাজ শুরু,ছুটির টাকা পূর্ণ পরিশোধ এবং ছুটি নিলে হাজিরা বোনাস না কাটা।

এ ছাড়া শ্রমিকরা সুপারভাইজার ও কর্মকর্তাদের দুর্ব্যবহার বন্ধ, মানবসম্পদ বিভাগের ছুটি-সংক্রান্ত আচরণে পরিবর্তন, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে শ্রমিক প্রতিনিধি ও পিসি সদস্যদের বক্তব্যের গুরুত্ব দেওয়া, হাজিরা বোনাস এক হাজার টাকা এবং টিফিন বিল ৪০ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, তাঁদের সঙ্গে ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কিছু কর্মকর্তার আচরণ সন্তোষজনক নয়। এসব সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদনকাজ বন্ধ রাখার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন শুরু করলে কারখানা কর্তৃপক্ষ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। এরপর শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে যান। অন্যদিকে জেনিথ ফুটওয়্যার লিমিটেডের শ্রমিকরাও কাজ বন্ধ রেখে কারখানার ভেতরে আন্দোলন করছেন। তিনি বলেন, চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকারী কারখানার মজুরি কাঠামোর সঙ্গে বিজিএমইএর আওতাধীন পোশাক কারখানার মজুরি কাঠামোর মিল নেই। এপেক্স ও জেনিথ ফুটওয়্যারের শ্রমিকরা আগে থেকেই বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুরের পোশাকশিল্পে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে টানা কয়েক দিনের আন্দোলন, সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের পর শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরতে শুরু করেছিল। শ্রমিকরা কাজে ফেরায় কারখানাগুলোতে উৎপাদনও সচল হয়। এর মধ্যেই জুতাশিল্পের দুটি কারখানায় নতুন করে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেওয়ায় শিল্পাঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি ও অভিযোগের বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ