ইসলামী ফ্রন্টের নেতা ও টিভির ইসলামী অনুষ্ঠানের উপস্থাপক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যা মামলায় ৬ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরু করেছেন আদালত। এর ফলে মামলাটির বিচার অনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।
রবিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার নবম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. শহিদুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ৬ ডিসেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, কারাগারে থাকা আসামি হাদিসুর রহমান সাগরকে ভার্চুয়ালি চার্জ পড়ে শোনানো হয়। জামিনে থাকা তিন আসামির পক্ষে অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করা হয়।
তবে অপর দুই আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো শুনানি হয়নি।
আসামিরা হলেন হাদিসুর রহমান ওরফে সাগর, আব্দুল্লাহ আল তাসনিম নাহিদ, রফিকুল ইসলাম ফারদীন, আবু রায়হান মাহমুদ আব্দুল হাদী, মাহমুদ ইবনে বাশার ও রতন চৌধুরী ওরফে ইঞ্জিনিয়ার রিপন ওরফে রাকিবুল ইসলাম রিয়াজ।
জামিনে থাকা আব্দুল্লাহ আল তাসনিম নাহিদ, ইঞ্জিনিয়ার ওরফে রিয়াজ ওরফে রিপন, ও আবু রায়হান মাহমুদ আব্দুল হাদী আদালতে হাজিরা দেন। মামলার দুই আসামি মাহমুদ ইবনে বাশার ও রফিকুল ইসলাম ফারদীন পলাতক রয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কে এম আবুল কাশেম। এ ছাড়া চার্জশিটে ১২ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে নুরুল ইসলাম ফারুকীর বাসায় কলিং বেল চাপ দেয় দুর্বৃত্তরা। বাসার দরজা খুললে দুজন লোক বাসায় প্রবেশ করে নুরুল ইসলামের সঙ্গে ড্রয়িং রুমে বসে।
এর কিছুক্ষণ পর আরো ৬-৭ জন লোক বাসায় প্রবেশ করে। বসার স্থান সংকুলান না হওয়ায় ফয়সাল ফারুকীর মামাতো ভাই মারুফ হোসেন ভেতর থেকে চেয়ার আনতে যান। সে ফিরে এসে দেখে নুরুল ইসলামের মাথায় পিস্তল ও চাপাতি ধরে রেখেছে আসামিরা। পরে তারা বাসার সবাইকে বেধে নুরুল ইসলাম ফারুকীতে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় তার ছেলে ফয়সাল ফারুকী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ


























