বাসাবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছ্ন্ন রাখলে অর্ধেক মশার লার্ভা শুরুতেই ধ্বংস করা সম্ভব বলে জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
বুধবার নগর ভবন অডিটোরিয়ামে ‘বর্ষাকালীন এডিস মশার লার্ভা জরিপ ২০২৬’-এর ফলাফল প্রকাশ ও পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
সংস্থাটির বর্ষাকালীন এডিস মশার লার্ভা জরিপে দেখা গেছে, প্লাস্টিকের বালতি, ড্রাম, ভবনের বেজমেন্টে জমে থাকা পানি ও ফুলের টব এডিস মশার লার্ভা জন্মানোর অন্যতম উৎস। তাই বাসাবাড়ি ও আশপাশের বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করলে প্রাথমিক পর্যায়েই ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ এডিস মশার বিস্তার প্রতিরোধ করা সম্ভব।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ডিএসসিসি এলাকায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের বিস্তার রোধে এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১২ দিন ধরে জরিপের কাজ চলে।
সম্পূর্ণ দৈবচয়ন ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটি থেকে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি নমুনা হিসেবে নির্বাচন করা হয়। জরিপ পরিচালনায় ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার মোট ৩৬ জন মাঠকর্মী অংশ নেন।
জরিপে সংগৃহীত তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে আধুনিক ‘কোবো টুলবক্স’ (KoboToolbox) ব্যবহার করা হয়। পরে ব্রেটো ইনডেক্স (BI), হাউস ইনডেক্স (HI), কন্টেইনার ইনডেক্স (CI) ও পিউপা ইনডেক্স (PI)-এর মাধ্যমে তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এসব সূচকের ভিত্তিতে ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে।
জরিপের ফল অনুযায়ী, লার্ভার ঘনত্ব বিবেচনায় ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি ওয়ার্ড অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ২৮টি মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৮টি সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২৯টি ওয়ার্ড হলো ১, ২, ৯, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ৩১, ৫৩, ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৬১, ৬২, ৬৫ ও ৭১ নম্বর ওয়ার্ড।
বাংলা৭১নিউজ/এবি
























