এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
তিনি বলেছেন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে সরকার ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি উপেক্ষা করেছে।
নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ে চাপে থাকা মানুষের জন্য জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি নতুন সংকট তৈরি করবে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন সাইফুল হক।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। ১১ মাসে দাম বেড়েছে ৭৫৪ টাকা, যা প্রায় ৫৮ শতাংশ।
প্রতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে এলপিজির দাম সমন্বয় করা হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার সুফল ভোক্তারা কতটা পান, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দাম বাড়লে কেন পুরো বাড়তি ব্যয় সাধারণ মানুষকে বহন করতে হবে, তার জবাব নেই।
সাইফুল হকের অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের কমিশন, মুনাফা ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন মূল্যকাঠামোয় সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে কমিশন বাড়ানো হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা হলেও বাড়তি ব্যয়ের চাপ পড়েছে ভোক্তাদের ওপর।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব ব্যবসায়ীদের মুনাফা নিশ্চিত করা নয়, বরং জনগণের স্বার্থ ও ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা করা।
তিনি বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক পরিবার রান্নার কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। হোটেল-রেস্তোরাঁ, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও বিভিন্ন উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডেও এই জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। ফলে এলপিজির দাম বাড়লে খাদ্যপণ্য ও বিভিন্ন সেবার উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়বে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।
মূল্যস্ফীতির মধ্যে জ্বালানির বাড়তি ব্যয় নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনযাত্রাকে আরো কঠিন করে তুলবে।
বিবৃতিতে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগও তোলেন সাইফুল হক। তিনি বলেন, কৃত্রিম সংকট, মজুদদারি ও অতিরিক্ত মুনাফার অভিযোগ তদন্ত না করে ব্যবসায়ীদের দাবির ভিত্তিতে দাম বাড়ানো গ্রহণযোগ্য নয়।
এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার, বাজারে কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বচ্ছ ও যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের আহ্বান জানান।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ





















