ঢাকা ০৩:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিলানে অশ্রুসিক্ত কিংবদন্তি কাকা, পেলেন বিরল সম্মাননা

সান সিরোয় হাইভোল্টেজ মিলান ডার্বির আগে এসি মিলান সমর্থকদের জন্য অপেক্ষা করছিল এক অভাবনীয় ও আবেগময় মুহূর্ত। সান সিরোর সবুজ গালিচায় পা রেখে ক্লাবের বিখ্যাত ‘হল অব ফেম’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হলেন ক্লাবটির সর্বকালের অন্যতম সেরা তারকা ও কিংবদন্তি রিকার্ডো কাকা।

ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকরা করতালিতে মুখর হয়ে ওঠেন এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে দাঁড়িয়ে (স্ট্যান্ডিং ওভেশন) বরণ করে নেন তাদের প্রিয় তারকাকে। ভক্তদের এমন হৃদয়গ্রাহী ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কাকা; গ্যালারির দিকে তাকিয়ে ভালোবাসার প্রতিদান দিতে গিয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি এই ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা।

এসি মিলানে দুটি স্মরণীয় অধ্যায় কাটিয়েছেন কাকা। ২০০৩ সালে সাও পাওলো থেকে প্রথমবার মিলানে পা রেখে টানা ছয় মৌসুম দারুণ সফল এক সময় কাটানোর পর, ২০১৩-১৪ মৌসুমে তিনি আরও একবার ফিরে এসেছিলেন ভালোবাসার এই ঠিকানায়।

ক্লাবটির জার্সিতে দুই মেয়াদে মোট ৩০৭টি ম্যাচ খেলেছেন কাকা, যেখানে তার নামের পাশে রয়েছে ১০৪টি গোল এবং ৮১টি অ্যাসিস্ট।

লাল-কালো জার্সিতে কাটানো দিনগুলো তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সফল অধ্যায়গুলোর একটি। ২০০৩-০৪ মৌসুমে নিজের অভিষেক মৌসুমেই মিলানকে জিতিয়েছিলেন কাঙ্ক্ষিত সেরি আ লিগ শিরোপা। তবে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সোনালী সময়টি আসে ২০০৭ সালে, যখন তিনি নিজ কাঁধে ভর করে এসি মিলানকে এনে দেন উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা।

ইউরোপসেরার সেই পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছিলেন কাকা। ১০ গোল করে সেবার প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি এথেন্সের ফাইনালে লিভারপুলকে হারিয়ে মিলানের ইউরোপ জয় নিশ্চিত করেছিলেন তিনি।

আর ঠিক সেই বছরই আসে তার ব্যক্তিগত অর্জনের সর্বোচ্চ শিখর—ব্যালন ডি’অর জয়। তিনিই এখন পর্যন্ত এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জয়ী শেষ কোনো ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার। একই বছরে মিলানের জার্সিতে তিনি উয়েফা সুপার কাপ এবং ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপেরও স্বাদ লাভ করেছিলেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

মিলানে অশ্রুসিক্ত কিংবদন্তি কাকা, পেলেন বিরল সম্মাননা

আপডেট সময় ১০:৩৭:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

সান সিরোয় হাইভোল্টেজ মিলান ডার্বির আগে এসি মিলান সমর্থকদের জন্য অপেক্ষা করছিল এক অভাবনীয় ও আবেগময় মুহূর্ত। সান সিরোর সবুজ গালিচায় পা রেখে ক্লাবের বিখ্যাত ‘হল অব ফেম’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হলেন ক্লাবটির সর্বকালের অন্যতম সেরা তারকা ও কিংবদন্তি রিকার্ডো কাকা।

ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকরা করতালিতে মুখর হয়ে ওঠেন এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে দাঁড়িয়ে (স্ট্যান্ডিং ওভেশন) বরণ করে নেন তাদের প্রিয় তারকাকে। ভক্তদের এমন হৃদয়গ্রাহী ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কাকা; গ্যালারির দিকে তাকিয়ে ভালোবাসার প্রতিদান দিতে গিয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি এই ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা।

এসি মিলানে দুটি স্মরণীয় অধ্যায় কাটিয়েছেন কাকা। ২০০৩ সালে সাও পাওলো থেকে প্রথমবার মিলানে পা রেখে টানা ছয় মৌসুম দারুণ সফল এক সময় কাটানোর পর, ২০১৩-১৪ মৌসুমে তিনি আরও একবার ফিরে এসেছিলেন ভালোবাসার এই ঠিকানায়।

ক্লাবটির জার্সিতে দুই মেয়াদে মোট ৩০৭টি ম্যাচ খেলেছেন কাকা, যেখানে তার নামের পাশে রয়েছে ১০৪টি গোল এবং ৮১টি অ্যাসিস্ট।

লাল-কালো জার্সিতে কাটানো দিনগুলো তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সফল অধ্যায়গুলোর একটি। ২০০৩-০৪ মৌসুমে নিজের অভিষেক মৌসুমেই মিলানকে জিতিয়েছিলেন কাঙ্ক্ষিত সেরি আ লিগ শিরোপা। তবে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সোনালী সময়টি আসে ২০০৭ সালে, যখন তিনি নিজ কাঁধে ভর করে এসি মিলানকে এনে দেন উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা।

ইউরোপসেরার সেই পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছিলেন কাকা। ১০ গোল করে সেবার প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি এথেন্সের ফাইনালে লিভারপুলকে হারিয়ে মিলানের ইউরোপ জয় নিশ্চিত করেছিলেন তিনি।

আর ঠিক সেই বছরই আসে তার ব্যক্তিগত অর্জনের সর্বোচ্চ শিখর—ব্যালন ডি’অর জয়। তিনিই এখন পর্যন্ত এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জয়ী শেষ কোনো ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার। একই বছরে মিলানের জার্সিতে তিনি উয়েফা সুপার কাপ এবং ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপেরও স্বাদ লাভ করেছিলেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ