ঢাকা ০৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo মঈন খানের শারীরিক অবস্থার উন্নতি Logo কেমন জীবনসঙ্গী চান সাই পল্লবী Logo অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল Logo ফ্যাসিবাদের উত্থান ঠেকাতে রাজনৈতিক ঐক্য বেশি প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে জাটকা ইলিশ ধরায় ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা Logo শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার পাশে থাকবে: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী Logo মার্কিন-ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদের নির্দেশ খামেনির Logo ফ্যাসিস্ট আমলে অর্থ অপচয় করে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী Logo শ্রমিক বিক্ষোভে কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রার সব পোশাক কারখানায় ছুটি Logo সংবিধান সংশোধন ছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়: রিজভী

অধিকারবঞ্চিত শিশুদের মূলধারায় পুনর্বাসনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সমাজের অবহেলিত, পরিত্যক্ত ও অধিকারবঞ্চিত শিশুদের উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলো—অবহেলিত, অধিকারবঞ্চিত, পরিত্যক্ত ও পিতামাতাহীন শিশুদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এবং দিনশেষে তাদের সমাজে মর্যাদাপূর্ণভাবে পুনর্বাসিত করা।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রামের ফরহাদাবাদে অবস্থিত ‘চট্টগ্রাম সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র’ পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

পথশিশু ও ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত শিশুদের পুনর্বাসনের কৌশল সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে ডা. জাহিদ বলেন, “পথশিশু ও ভিক্ষাবৃত্তিতে যুক্ত শিশুদের সফল পুনর্বাসনের জন্য সবার আগে তাদের মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর বা ‘সাইকোসোশ্যাল মোটিভেশন’-এর আওতায় আনতে হবে। এটি ছাড়া তাদের স্থায়ী পুনর্বাসন সম্ভব নয়। সেই লক্ষ্যে সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী কেন্দ্র প্রাঙ্গণে একটি পেয়ারা গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর হলরুমে শিশুদের হাতে আঁকা দেয়ালিকার ১২তম সংখ্যা ‘আলোকবর্তিকা’র মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি। পরিদর্শনের অংশ হিসেবে কেন্দ্রের বালক-বালিকারা লাল-সবুজের পোশাক পরে ‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি বাংলাদেশের নাম’সহ দেশাত্মবোধক গানের সঙ্গে মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশন করে।

চট্টগ্রাম সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের উপ-প্রকল্প পরিচালক জেসমিন আক্তার জানান, এখানে পথশিশু, শ্রমজীবী শিশু, গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশু, পিতামাতাহীন ও পরিত্যক্ত শিশু, পাচার থেকে উদ্ধারকৃত শিশু, আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু এবং প্রতিবন্ধী শিশুসহ মোট ১৬ ধরনের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আশ্রয় দেওয়া হয়।

খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, সাধারণ শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করার চেষ্টা চলছে।

২০১২ সালের ১২ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত এ কেন্দ্রটি থেকে এ পর্যন্ত ২ হাজার ২৪ জন শিশু সেবা পেয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৭৮ জন শিশু সমাজে পুনর্বাসিত হয়েছে এবং ৫০০ জন শিশুকে নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী ১০০ জন বালক এবং ১০৪ জন বালিকা নিয়ে মোট ২০৪ জন শিশু কেন্দ্রে অবস্থান করছে।

পরিদর্শনকালে বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিনসহ স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজসেবা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

 

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

মঈন খানের শারীরিক অবস্থার উন্নতি

অধিকারবঞ্চিত শিশুদের মূলধারায় পুনর্বাসনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:০৮:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

সমাজের অবহেলিত, পরিত্যক্ত ও অধিকারবঞ্চিত শিশুদের উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলো—অবহেলিত, অধিকারবঞ্চিত, পরিত্যক্ত ও পিতামাতাহীন শিশুদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এবং দিনশেষে তাদের সমাজে মর্যাদাপূর্ণভাবে পুনর্বাসিত করা।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রামের ফরহাদাবাদে অবস্থিত ‘চট্টগ্রাম সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র’ পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

পথশিশু ও ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত শিশুদের পুনর্বাসনের কৌশল সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে ডা. জাহিদ বলেন, “পথশিশু ও ভিক্ষাবৃত্তিতে যুক্ত শিশুদের সফল পুনর্বাসনের জন্য সবার আগে তাদের মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর বা ‘সাইকোসোশ্যাল মোটিভেশন’-এর আওতায় আনতে হবে। এটি ছাড়া তাদের স্থায়ী পুনর্বাসন সম্ভব নয়। সেই লক্ষ্যে সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী কেন্দ্র প্রাঙ্গণে একটি পেয়ারা গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর হলরুমে শিশুদের হাতে আঁকা দেয়ালিকার ১২তম সংখ্যা ‘আলোকবর্তিকা’র মোড়ক উন্মোচন করেন তিনি। পরিদর্শনের অংশ হিসেবে কেন্দ্রের বালক-বালিকারা লাল-সবুজের পোশাক পরে ‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি বাংলাদেশের নাম’সহ দেশাত্মবোধক গানের সঙ্গে মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশন করে।

চট্টগ্রাম সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের উপ-প্রকল্প পরিচালক জেসমিন আক্তার জানান, এখানে পথশিশু, শ্রমজীবী শিশু, গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশু, পিতামাতাহীন ও পরিত্যক্ত শিশু, পাচার থেকে উদ্ধারকৃত শিশু, আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু এবং প্রতিবন্ধী শিশুসহ মোট ১৬ ধরনের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আশ্রয় দেওয়া হয়।

খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, সাধারণ শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের স্বাবলম্বী করার চেষ্টা চলছে।

২০১২ সালের ১২ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত এ কেন্দ্রটি থেকে এ পর্যন্ত ২ হাজার ২৪ জন শিশু সেবা পেয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৭৮ জন শিশু সমাজে পুনর্বাসিত হয়েছে এবং ৫০০ জন শিশুকে নিরাপদে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী ১০০ জন বালক এবং ১০৪ জন বালিকা নিয়ে মোট ২০৪ জন শিশু কেন্দ্রে অবস্থান করছে।

পরিদর্শনকালে বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিনসহ স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজসেবা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ