যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সব ধরনের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সম্পদকে হামলার আওতায় আনতে সামরিক লক্ষ্যবস্তুর ডেটাবেস হালনাগাদের নির্দেশ দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।
একই সঙ্গে শত্রুপক্ষের যেকোনও হুমকি বা হামলার জবাবে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পাল্টা পদক্ষেপ নিতে সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডারদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন খামেনি।
তিনি বলেন, শত্রুপক্ষ আবারও সামরিক বা সন্ত্রাসী হামলা চালালে সেই সংঘাতের সমাপ্তি কখন এবং কীভাবে হবে, তা নির্ধারণ করবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও দেশটির জনগণ।
খামেনির বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সব ধরনের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সম্পদ যেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নাগালের মধ্যে থাকে, সে লক্ষ্যে ‘টার্গেটস ব্যাংক’ বা লক্ষ্যবস্তুর ডেটাবেস হালনাগাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই তালিকায় কী ধরনের স্থাপনা বা সম্পদ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বৈঠকে খামেনি শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে শক্তিশালী মোকাবিলার জন্য সামরিক বাহিনীর ‘বুদ্ধিদীপ্ত যুদ্ধপ্রস্তুতি’ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। তার মতে, সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলার অন্যতম শর্ত এটি।
তিনি ইরানের সামরিক গোয়েন্দা ও তথ্যব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সামরিক কৌশল ও রণকৌশলের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা হালনাগাদ করার বিষয়েও আলোচনা করেন তিনি।
খামেনির নির্দেশনায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের জন্য ইরান শুধু প্রচলিত সামরিক প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করতে চায় না; বরং গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তি ও লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ ব্যবস্থাকেও আরও কার্যকর করতে চাইছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে ইরানের এই নতুন সামরিক নির্দেশনা এমন এক সময়ে এল, যখন তেহরান বারবার সতর্ক করে বলছে, দেশটির ওপর নতুন করে হামলা হলে পাল্টা জবাব শুধু ইরানের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এবার লক্ষ্যবস্তুর ডেটাবেস হালনাগাদ এবং ভৌগোলিক সীমা ছাড়িয়ে তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়ার নির্দেশ সেই অবস্থানকেই আরও স্পষ্ট করেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
বাংলা৭১নিউজ/আরকে



























