ঢাকা ০২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বিদ্যুৎখাতে লুটপাট করতেই দায়মুক্তি আইন পাস করেছিল আওয়ামী লীগ Logo খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে আইন বাস্তবায়নের ওপর জোর দিলেন প্রতিমন্ত্রী Logo গোলাম পরওয়ার ফাটা বাঁশের চিপায় পড়েছেন: রাশেদ খাঁন Logo মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু ৩১ অক্টোবর, আগের রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য নয় Logo গাজায় এতিম ৭১ হাজার শিশু, বিধবা ৬৪ হাজার নারী Logo আমি নেতানিয়াহুর পরাজয় ঠেকিয়েছি: ট্রাম্প Logo জাতির কাছে ক্ষমা চাইলেন মুখে ‘চুন-কালি লাগা’ সেই মাসুদ, জানালেন নিজের সিদ্ধান্ত Logo রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ Logo গাজীপুরে বাসায় ফেরার সময় ছুরিকাঘাতে পোশাক শ্রমিক নিহত Logo ঢাকায় আরো একটি ই-পারিবারিক আদালত চালু হচ্ছে কাল

ফ্যাটি লিভার ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানে সকালের কিছু সহজ কাজ

সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস পানি পান করেন কেউ, কেউ আবার দিন শুরু করেন চা বা কফির কাপে চুমুক দিয়ে। ব্যস্ততার কারণে অনেকে সকালের নাশতা বাদ দেন, আবার কেউ ঘুম থেকে উঠেই ছুটতে শুরু করেন কাজের পেছনে। কিন্তু দিনের শুরুতে এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলোর প্রভাব পড়তে পারে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লিভারে। শরীরের বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করা থেকে শুরু করে চর্বি ভাঙা, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান জমা রাখা সবকিছুতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে যকৃত বা লিভার।

তবে লিভার সুস্থ রাখতে দামী ডিটক্স পানীয়, বিশেষ কোনো পাউডার কিংবা কঠিন ডায়েটের প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিনের জীবনযাপনে কিছু সহজ পরিবর্তনই হতে পারে এর সুস্থতা বজায় রাখার কার্যকর উপায়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কোন অভ্যাসগুলো যকৃতের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে সহায়তা করতে পারে, জেনে নেওয়া যাক।

১. দিন শুরু হোক এক গ্লাস পানি দিয়ে

রাতভর ঘুমানোর পর শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পান করা শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পানি হজম, রক্ত সঞ্চালন এবং কিডনির মাধ্যমে বর্জ্য অপসারণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। কেউ কেউ পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করতে পছন্দ করেন। এতে কিছু ভিটামিন সি পাওয়া যায়। তবে লেবুপানি সরাসরি যকৃতের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। সাধারণ পানিও এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট। চাইলে স্বাভাবিক তাপমাত্রার বা হালকা গরম পানি পান করতে পারেন।

২. সকালে কিছুক্ষণ হাঁটুন

সকালে ঘুম থেকে উঠেই দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করতে হবে, এমন নয়। ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং কিংবা সহজ কিছু যোগব্যায়াম দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম শরীরের বিপাকক্রিয়া সচল রাখতে, ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত করতে এবং যকৃতে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যাঁদের ওজন বেশি বা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম উপকারী।

৩. নাশতায় রাখুন পুষ্টিকর খাবার

সকালের নাশতায় কী খাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি পানীয়, বিস্কুট বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিবর্তে বেছে নিতে পারেন পুষ্টিকর ও সুষম খাবার। নাশতায় রাখতে পারেন—

ওটস বা লাল আটার রুটি: আঁশসমৃদ্ধ খাবার হজম ও বিপাকের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে।
ডিম, ডাল বা দই: শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের উৎস।
মৌসুমি ফল: ভিটামিন, খনিজ ও বিভিন্ন উপকারী উদ্ভিজ্জ উপাদান সরবরাহ করে।
বাদাম ও বীজ: পরিমিত পরিমাণে খেলে স্বাস্থ্যকর চর্বি ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।
৪. কফি পান করলে পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখুন

কফি শুধু ঘুম কাটানোর পানীয় নয়। বিভিন্ন গবেষণায় নিয়মিত কফি পানের সঙ্গে কিছু যকৃতের রোগের কম ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে কফি খেলেই যকৃত সুস্থ থাকবে কিংবা যকৃতের রোগ সেরে যাবে। কফি পানের অভ্যাস থাকলে অতিরিক্ত চিনি, সিরাপ বা ক্রিম এড়িয়ে চলুন। আর যাঁরা কফি পান করেন না, তাঁদের শুধু যকৃতের যত্নের জন্য কফি শুরু করারও প্রয়োজন নেই।

৫. ঘুম থেকে ওঠার সময় নির্দিষ্ট রাখুন

কখনো রাত জেগে কাজ, কখনো সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা এমন অনিয়ম অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। কিন্তু নিয়মিত ঘুম শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এই ছন্দ বিপাকক্রিয়া ও যকৃতের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গেও সম্পর্কিত। তাই প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। সকালে প্রাকৃতিক আলোয় কিছুক্ষণ থাকাও শরীরের ঘুম-জাগরণের ছন্দ ঠিক রাখতে সহায়ক হতে পারে।

৬. ‘ডিটক্স’ পানীয় ও সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর করবেন না

বাজারে যকৃত পরিষ্কার করার নামে নানা ধরনের পানীয়, হারবাল টনিক ও সাপ্লিমেন্ট পাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসব পণ্যের প্রচার দেখা যায়। কিন্তু এসব পণ্য যকৃত থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয় বা যকৃতের রোগ প্রতিরোধ করে এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। বরং কিছু হারবাল উপাদান ও সাপ্লিমেন্ট যকৃতের ক্ষতি করতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব পণ্য গ্রহণ করা উচিত নয়।

৭. অতিরিক্ত চিনি ও অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস থেকে দূরে থাকুন

লিভারের যত্ন নিতে শুধু সকালে কী করছেন, তা নয়; বরং সারা দিনের অভ্যাসেও নজর দিতে হবে। কোমল পানীয়, অতিরিক্ত মিষ্টি, ভাজাপোড়া ও প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস কমিয়ে আনুন। ওজন স্বাস্থ্যকর সীমায় রাখা এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করাও গুরুত্বপূর্ণ। ধূমপান এড়িয়ে চলুন। অ্যালকোহল যকৃতের ক্ষতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ তাই তা এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ। ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা ফ্যাটি লিভারের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস ও চিকিৎসা পরিকল্পনা অনুসরণ করুন।

লিভারের যত্ন নেয়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কোনো নিয়মের বোঝা কাঁধে তোলার প্রয়োজন নেই। ঘুম থেকে উঠে পানি পান করা, কিছুক্ষণ হাঁটা, সুষম নাশতা খাওয়া এবং নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস এই ছোট পরিবর্তনগুলো দিয়েই শুরু করা যায়। তবে মনে রাখতে হবে, কোনো সকালের অভ্যাসই যকৃতের রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়। দীর্ঘদিন ক্লান্তি, পেটের ডান দিকে অস্বস্তি, চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া কিংবা প্রস্রাবের রং অস্বাভাবিক গাঢ় হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। লিভারের রোগ অনেক সময় শুরুতে কোনো লক্ষণ ছাড়াও থাকতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎখাতে লুটপাট করতেই দায়মুক্তি আইন পাস করেছিল আওয়ামী লীগ

ফ্যাটি লিভার ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানে সকালের কিছু সহজ কাজ

আপডেট সময় ১১:০৬:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস পানি পান করেন কেউ, কেউ আবার দিন শুরু করেন চা বা কফির কাপে চুমুক দিয়ে। ব্যস্ততার কারণে অনেকে সকালের নাশতা বাদ দেন, আবার কেউ ঘুম থেকে উঠেই ছুটতে শুরু করেন কাজের পেছনে। কিন্তু দিনের শুরুতে এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলোর প্রভাব পড়তে পারে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লিভারে। শরীরের বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করা থেকে শুরু করে চর্বি ভাঙা, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান জমা রাখা সবকিছুতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে যকৃত বা লিভার।

তবে লিভার সুস্থ রাখতে দামী ডিটক্স পানীয়, বিশেষ কোনো পাউডার কিংবা কঠিন ডায়েটের প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিনের জীবনযাপনে কিছু সহজ পরিবর্তনই হতে পারে এর সুস্থতা বজায় রাখার কার্যকর উপায়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কোন অভ্যাসগুলো যকৃতের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে সহায়তা করতে পারে, জেনে নেওয়া যাক।

১. দিন শুরু হোক এক গ্লাস পানি দিয়ে

রাতভর ঘুমানোর পর শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পান করা শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পানি হজম, রক্ত সঞ্চালন এবং কিডনির মাধ্যমে বর্জ্য অপসারণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। কেউ কেউ পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করতে পছন্দ করেন। এতে কিছু ভিটামিন সি পাওয়া যায়। তবে লেবুপানি সরাসরি যকৃতের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। সাধারণ পানিও এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট। চাইলে স্বাভাবিক তাপমাত্রার বা হালকা গরম পানি পান করতে পারেন।

২. সকালে কিছুক্ষণ হাঁটুন

সকালে ঘুম থেকে উঠেই দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করতে হবে, এমন নয়। ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং কিংবা সহজ কিছু যোগব্যায়াম দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম শরীরের বিপাকক্রিয়া সচল রাখতে, ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত করতে এবং যকৃতে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যাঁদের ওজন বেশি বা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম উপকারী।

৩. নাশতায় রাখুন পুষ্টিকর খাবার

সকালের নাশতায় কী খাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি পানীয়, বিস্কুট বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিবর্তে বেছে নিতে পারেন পুষ্টিকর ও সুষম খাবার। নাশতায় রাখতে পারেন—

ওটস বা লাল আটার রুটি: আঁশসমৃদ্ধ খাবার হজম ও বিপাকের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে।
ডিম, ডাল বা দই: শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের উৎস।
মৌসুমি ফল: ভিটামিন, খনিজ ও বিভিন্ন উপকারী উদ্ভিজ্জ উপাদান সরবরাহ করে।
বাদাম ও বীজ: পরিমিত পরিমাণে খেলে স্বাস্থ্যকর চর্বি ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।
৪. কফি পান করলে পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখুন

কফি শুধু ঘুম কাটানোর পানীয় নয়। বিভিন্ন গবেষণায় নিয়মিত কফি পানের সঙ্গে কিছু যকৃতের রোগের কম ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে কফি খেলেই যকৃত সুস্থ থাকবে কিংবা যকৃতের রোগ সেরে যাবে। কফি পানের অভ্যাস থাকলে অতিরিক্ত চিনি, সিরাপ বা ক্রিম এড়িয়ে চলুন। আর যাঁরা কফি পান করেন না, তাঁদের শুধু যকৃতের যত্নের জন্য কফি শুরু করারও প্রয়োজন নেই।

৫. ঘুম থেকে ওঠার সময় নির্দিষ্ট রাখুন

কখনো রাত জেগে কাজ, কখনো সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা এমন অনিয়ম অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। কিন্তু নিয়মিত ঘুম শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক রাখতে সাহায্য করে। এই ছন্দ বিপাকক্রিয়া ও যকৃতের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গেও সম্পর্কিত। তাই প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত রাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। সকালে প্রাকৃতিক আলোয় কিছুক্ষণ থাকাও শরীরের ঘুম-জাগরণের ছন্দ ঠিক রাখতে সহায়ক হতে পারে।

৬. ‘ডিটক্স’ পানীয় ও সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর করবেন না

বাজারে যকৃত পরিষ্কার করার নামে নানা ধরনের পানীয়, হারবাল টনিক ও সাপ্লিমেন্ট পাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসব পণ্যের প্রচার দেখা যায়। কিন্তু এসব পণ্য যকৃত থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয় বা যকৃতের রোগ প্রতিরোধ করে এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। বরং কিছু হারবাল উপাদান ও সাপ্লিমেন্ট যকৃতের ক্ষতি করতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব পণ্য গ্রহণ করা উচিত নয়।

৭. অতিরিক্ত চিনি ও অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস থেকে দূরে থাকুন

লিভারের যত্ন নিতে শুধু সকালে কী করছেন, তা নয়; বরং সারা দিনের অভ্যাসেও নজর দিতে হবে। কোমল পানীয়, অতিরিক্ত মিষ্টি, ভাজাপোড়া ও প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস কমিয়ে আনুন। ওজন স্বাস্থ্যকর সীমায় রাখা এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করাও গুরুত্বপূর্ণ। ধূমপান এড়িয়ে চলুন। অ্যালকোহল যকৃতের ক্ষতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ তাই তা এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ। ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা ফ্যাটি লিভারের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস ও চিকিৎসা পরিকল্পনা অনুসরণ করুন।

লিভারের যত্ন নেয়ার জন্য প্রতিদিন নতুন কোনো নিয়মের বোঝা কাঁধে তোলার প্রয়োজন নেই। ঘুম থেকে উঠে পানি পান করা, কিছুক্ষণ হাঁটা, সুষম নাশতা খাওয়া এবং নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস এই ছোট পরিবর্তনগুলো দিয়েই শুরু করা যায়। তবে মনে রাখতে হবে, কোনো সকালের অভ্যাসই যকৃতের রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়। দীর্ঘদিন ক্লান্তি, পেটের ডান দিকে অস্বস্তি, চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া কিংবা প্রস্রাবের রং অস্বাভাবিক গাঢ় হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। লিভারের রোগ অনেক সময় শুরুতে কোনো লক্ষণ ছাড়াও থাকতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

বাংলা৭১নিউজ/জেএস