ঢাকা ০২:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

ঘুম থেকে জেগে উঠতে অ্যালার্মের প্রয়োজন হবে না, জেনে নিন রহস্য

সকালে অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙে, তবুও বিছানা ছাড়তে মন চাই না। অথচ কেউ কেউ অ্যালার্ম ছাড়াই প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুম থেকে উঠতে পারেন। এটা কি কেবল অভ্যাস, নাকি এর পেছনে কাজ করে শরীরের ভেতরে থাকা কোনো বিশেষ ব্যবস্থা? গবেষণা বলছে, নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুললে অ্যালার্ম ছাড়াই জেগে ওঠা সম্ভব হতে পারে।

আমাদের শরীরে রয়েছে নিজস্ব জৈবঘড়ি, যা ঘুম ও জেগে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। এই ঘড়িকে নিয়মিত ছন্দে রাখতে হলে প্রথমেই প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করতে হবে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সাধারণত সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। আর ছয় ঘণ্টার কম ঘুমালে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি ২০ শতাংশ বেড়ে যায়।

এরপর আসে আলোর বিষয়টি। গবেষকদের মতে, শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ির সবচেয়ে বড় নিয়ন্ত্রক হলো আলো। সকালের সূর্যের আলো শরীরকে জেগে ওঠার সংকেত দেয়। অন্যদিকে, ঘুমানোর প্রায় দুই ঘণ্টা আগে ঘরের আলো কমিয়ে দিলে শরীর ঘুমের জন্য প্রস্তুত হতে পারে। অর্থাৎ, সকালে আলো এবং রাতে মৃদু পরিবেশ শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে সাহায্য করে।

ঘুমের পরিবেশও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তুলনামূলক ঠান্ডা ঘরে ঘুমানো সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি, রাতে দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোনে স্ক্রল করার অভ্যাস কমাতে হবে। একের পর এক কনটেন্ট দেখতে গিয়ে কখন যে ঘুমের সময় পেরিয়ে যায়, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না।

এ ছাড়া প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে খাবার খাওয়া, ঘুমানোর অন্তত তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করা এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলার পরামর্শও দিয়েছেন গবেষকেরা। কারণ, অ্যালকোহল আরইএম স্লিপ বা গভীর ঘুমের পর্যায়কে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

এক গবেষক নিজের ওপর এই পদ্ধতি পরীক্ষা করতে টানা সাত দিন অ্যালার্ম ছাড়া ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করেন। জরুরি প্রয়োজনে স্বাভাবিক জাগার সময়ের ২০ মিনিট পর একটি অ্যালার্মও রেখেছিলেন। কয়েকটি রাতে ছন্দে ব্যাঘাত ঘটলেও চতুর্থ দিন থেকে সকালে ঘুমঘুম ভাব কমতে শুরু করে। এক্ষেত্রে নিয়মিত রুটিন ও রাতে ফোনের ব্যবহার কমানোকে কার্যকর মনে করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ঘুম ও জাগার সময় এগিয়ে আনতে চাইলে একবারে বড় পরিবর্তন না করে ধাপে ধাপে ৩০ মিনিট করে এগিয়ে নিতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, সবার ঘুমের ছন্দ এক নয়। পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত অভ্যাসই এখানে মূল বিষয়। শরীরের নিজস্ব ঘড়িকে বুঝে চলতে পারলে হয়তো একদিন অ্যালার্ম বাজার আগেই খুলে যাবে আপনার চোখ।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ধূমপান করলে ঠোঁট কালো হয় কেন

ঘুম থেকে জেগে উঠতে অ্যালার্মের প্রয়োজন হবে না, জেনে নিন রহস্য

আপডেট সময় ১১:৩৪:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

সকালে অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙে, তবুও বিছানা ছাড়তে মন চাই না। অথচ কেউ কেউ অ্যালার্ম ছাড়াই প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুম থেকে উঠতে পারেন। এটা কি কেবল অভ্যাস, নাকি এর পেছনে কাজ করে শরীরের ভেতরে থাকা কোনো বিশেষ ব্যবস্থা? গবেষণা বলছে, নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুললে অ্যালার্ম ছাড়াই জেগে ওঠা সম্ভব হতে পারে।

আমাদের শরীরে রয়েছে নিজস্ব জৈবঘড়ি, যা ঘুম ও জেগে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। এই ঘড়িকে নিয়মিত ছন্দে রাখতে হলে প্রথমেই প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করতে হবে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সাধারণত সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। আর ছয় ঘণ্টার কম ঘুমালে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি ২০ শতাংশ বেড়ে যায়।

এরপর আসে আলোর বিষয়টি। গবেষকদের মতে, শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ির সবচেয়ে বড় নিয়ন্ত্রক হলো আলো। সকালের সূর্যের আলো শরীরকে জেগে ওঠার সংকেত দেয়। অন্যদিকে, ঘুমানোর প্রায় দুই ঘণ্টা আগে ঘরের আলো কমিয়ে দিলে শরীর ঘুমের জন্য প্রস্তুত হতে পারে। অর্থাৎ, সকালে আলো এবং রাতে মৃদু পরিবেশ শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে সাহায্য করে।

ঘুমের পরিবেশও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তুলনামূলক ঠান্ডা ঘরে ঘুমানো সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি, রাতে দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোনে স্ক্রল করার অভ্যাস কমাতে হবে। একের পর এক কনটেন্ট দেখতে গিয়ে কখন যে ঘুমের সময় পেরিয়ে যায়, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না।

এ ছাড়া প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে খাবার খাওয়া, ঘুমানোর অন্তত তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করা এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলার পরামর্শও দিয়েছেন গবেষকেরা। কারণ, অ্যালকোহল আরইএম স্লিপ বা গভীর ঘুমের পর্যায়কে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

এক গবেষক নিজের ওপর এই পদ্ধতি পরীক্ষা করতে টানা সাত দিন অ্যালার্ম ছাড়া ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করেন। জরুরি প্রয়োজনে স্বাভাবিক জাগার সময়ের ২০ মিনিট পর একটি অ্যালার্মও রেখেছিলেন। কয়েকটি রাতে ছন্দে ব্যাঘাত ঘটলেও চতুর্থ দিন থেকে সকালে ঘুমঘুম ভাব কমতে শুরু করে। এক্ষেত্রে নিয়মিত রুটিন ও রাতে ফোনের ব্যবহার কমানোকে কার্যকর মনে করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ঘুম ও জাগার সময় এগিয়ে আনতে চাইলে একবারে বড় পরিবর্তন না করে ধাপে ধাপে ৩০ মিনিট করে এগিয়ে নিতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, সবার ঘুমের ছন্দ এক নয়। পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত অভ্যাসই এখানে মূল বিষয়। শরীরের নিজস্ব ঘড়িকে বুঝে চলতে পারলে হয়তো একদিন অ্যালার্ম বাজার আগেই খুলে যাবে আপনার চোখ।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস