ভারতের পশ্চিমবঙ্গে একই দিনে পুলিশের গুলিতে দুই অভিযুক্ত নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার পর একই দিন দুপুরে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে আরো এক এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটেছে।
গাইঘাটায় ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় অভিযুক্ত এক যুবক পুলিশের গুলিতে নিহত হন। তার বিরুদ্ধে পুলিশের গুলি ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠেছে। অন্যদিকে বিজেপি নেতা সুজিত মণ্ডল হত্যা মামলার অন্যতম আসামি সামাউন শেখও পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন।
আনন্দবাজার ডট কমের খবরে বলা হয়েছে, সুজিত মণ্ডল হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সামাউনকে নিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।
দুপুর পৌনে ৩টার দিকে ধুলিয়ান বাজার এলাকায় এ সময় পুলিশের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয়।
একপর্যায়ে পুলিশের গুলি ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলিও ছোড়েন সামাউন। পরে পুলিশের পাল্টা গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন।
এ অবস্থায় সামাউনকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।
এর আগে গত ২৮ আগস্ট সামশেরগঞ্জের পুরাতন ডাকবাংলা এলাকার বাসিন্দা সুজিত মণ্ডল নিখোঁজ হন। পরে তার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সামিউল শেখ, তাজকিরা বিবি ও জনি শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে সামাউন শেখ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন বলে এক প্রতিবেদনে জানায় টিভি৯।
বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, পশুর মাংস কাটার ছুরি দিয়ে সুজিতকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সামিউন শেখ, তাজকিরা বিবি ও জনি শেখ নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেবে সরকার।
এদিকে ঘটনাটি ঘিরে পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগও ওঠে। সুজিতের স্ত্রী সুমনা মণ্ডল পুলিশের কাছে বারবার সাহায্য চেয়েও পাননি বলে অভিযোগ করেন। তবে বিষয়টিকে গুরুতর ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শুধু তাই নয়, এ ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ওই মামলার তদন্তের দায়িত্ব অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) হাতে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এর পরপরই দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ধুলিয়ান টিওপির ইনচার্জ এএসআই সুমন্তকুমার দাস ও সামশেরগঞ্জ থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা এসআই সাইফুল আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সামশেরগঞ্জ থানার আইসি সুব্রত ঘোষকে পুলিশ লাইনে পাঠিয়ে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফরাক্কার এসডিপিও শেখ শামসুদ্দিনকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়। এছাড়াও জঙ্গিপুরের পুলিশ সুপার সুরিন্দর সিংহকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ






















