ঢাকা ০৬:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পুলিশ বাহিনীর প্রধান হয়ে ক্রসফায়ারের কথা বলেন কী করে, প্রশ্ন রিজভীর Logo আ.লীগের যারা ভালো মানুষ, তারা আপন ঠিকানা খুঁজে নেবেন : জামায়াত আমির Logo দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo আদালত চত্বরে আসামিদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে উত্তেজনা, হামলায় পুলিশ আহত Logo রাজউকের প্লট দেওয়ার নামে সোয়া ৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ, আসামি মঞ্জুরুল কারাগারে Logo ব্যালন ডি’অরে কে কোন পুরস্কার পেলেন Logo এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপে আজ কে-কার মুখোমুখি Logo নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ভারতের ৩ বিশ্বরেকর্ড Logo কোপা ট্রফি কার জেতা উচিত ছিল, পুরস্কার নেওয়ার সময় জানালেন ইয়ামাল Logo ব্যালন ডি’অর তোমার প্রাপ্য : ‘বন্ধু’ কেইনকে কোহলির বার্তা

স্বাস্থ্য খাতে জাপানি ফাউন্ডেশনকে সহযোগিতা বাড়াতে আহ্বান জুবাইদা রহমানের

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য গবেষণা, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য এবং আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান।

আজ মঙ্গলবার জাপানের টোকিওতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন আয়োজিত স্বাস্থ্যবিষয়ক এক সেমিনারে বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষাকে প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সবার জন্য সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং পরিবারভিত্তিক সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি ও ফ্যামিলি কার্ড চালুসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার।

স্বাস্থ্যকে নিজের পেশাগত ও ব্যক্তিগত আগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র উল্লেখ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্রমাগত বিকশিত হচ্ছে। দুই দেশের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতের উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, শিশুদের সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠা এবং তাদের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও জাপান উভয় দেশই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে টেকসই সামাজিক ব্যবস্থা, শক্তিশালী অর্থনীতি, মানসম্মত শিক্ষা এবং সহিংসতা, দারিদ্র্য ও অন্যান্য ঝুঁকি থেকে মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিশ্বব্যাপী আন্তঃসংযোগ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য কূটনীতির গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সবার জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে স্বাস্থ্য কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

বাংলাদেশে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ এবং জনকল্যাণমূলক ফাউন্ডেশনগুলোর অবদানের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। চিকিৎসক হিসেবে বাংলাদেশে নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উপযুক্ত স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়ন, স্বাস্থ্য গবেষণার অগ্রগতি এবং আধুনিক চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।

সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করে ডা. জুবাইদা রহমান বাংলাদেশে ফাউন্ডেশনটির কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। উদীয়মান স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আরো বেশি সম্পদ ও সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসার জন্যও তিনি ফাউন্ডেশনটির প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, স্বাস্থ্যোন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত উদ্যোগগুলোতে বাংলাদেশ সরকার পূর্ণ সহযোগিতা ও সমর্থন দিতে প্রস্তুত।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশ বাহিনীর প্রধান হয়ে ক্রসফায়ারের কথা বলেন কী করে, প্রশ্ন রিজভীর

স্বাস্থ্য খাতে জাপানি ফাউন্ডেশনকে সহযোগিতা বাড়াতে আহ্বান জুবাইদা রহমানের

আপডেট সময় ০৪:৫৫:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য গবেষণা, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য এবং আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান।

আজ মঙ্গলবার জাপানের টোকিওতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন আয়োজিত স্বাস্থ্যবিষয়ক এক সেমিনারে বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষাকে প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সবার জন্য সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং পরিবারভিত্তিক সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি ও ফ্যামিলি কার্ড চালুসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার।

স্বাস্থ্যকে নিজের পেশাগত ও ব্যক্তিগত আগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র উল্লেখ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্রমাগত বিকশিত হচ্ছে। দুই দেশের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতের উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, শিশুদের সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠা এবং তাদের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও জাপান উভয় দেশই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে টেকসই সামাজিক ব্যবস্থা, শক্তিশালী অর্থনীতি, মানসম্মত শিক্ষা এবং সহিংসতা, দারিদ্র্য ও অন্যান্য ঝুঁকি থেকে মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিশ্বব্যাপী আন্তঃসংযোগ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য কূটনীতির গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, সবার জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে স্বাস্থ্য কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

বাংলাদেশে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ এবং জনকল্যাণমূলক ফাউন্ডেশনগুলোর অবদানের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। চিকিৎসক হিসেবে বাংলাদেশে নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উপযুক্ত স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়ন, স্বাস্থ্য গবেষণার অগ্রগতি এবং আধুনিক চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।

সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করে ডা. জুবাইদা রহমান বাংলাদেশে ফাউন্ডেশনটির কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। উদীয়মান স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আরো বেশি সম্পদ ও সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসার জন্যও তিনি ফাউন্ডেশনটির প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, স্বাস্থ্যোন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত উদ্যোগগুলোতে বাংলাদেশ সরকার পূর্ণ সহযোগিতা ও সমর্থন দিতে প্রস্তুত।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ