ঢাকা ০২:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজীপুরে আবাসিক মাদরাসায় টানা তিন রাত নিপীড়নের শিকার ৮ বছরের ছাত্র

গাজীপুরে একটি আবাসিক কওমি মাদরাসায় টানা তিন রাত যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে ৮ বছরের এক ছাত্র। এ ঘটনায় ওই মাদরাসার শিক্ষকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন ভুক্তভোগী শিশুর মা। এরই মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী।

মামলার আসামিরা হলেন— মো. অলিউল্লাহ ইসলাম (২৩), মোহাম্মদ মিজান (৩৮) ও মো. আব্দুল কুদ্দুস শেখ (৪৫)। তাদের মধ্যে অলিউল্লাহ ইসলাম মাদরাসার শিক্ষক। বাকি দুজন তার সহযোগী।

জানা গেছে, গত ৭ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে নগরীর গাছা থানাধীন কলমেশ্বর এলাকার ডেঙ্গুর আলী সড়কে অবস্থিত দারুল হেদায়া কওমি মাদরাসার আবাসিক বিভাগে ওই শিক্ষার্থীকে দিয়ে যান তার মা। ১৩ অক্টোবর দুপুরে ছেলে বাসায় খেতে গেলে গোসল করানোর সময় শরীরের একটি অংশে প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছে বলে জানায় সে।

ব্যথার কারণ জানতে চাইলে শিশুটি তার মাকে জানায়, গত ১০ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১টার দিকে মাদরাসার অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত শিক্ষক মো. অলিউল্লাহ ইসলাম তাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখান। পরে মাদরাসার স্টোর রুমে নিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন করেন। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে গাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১১ অক্টোবর রাত আনুমানিক দেড়টা এবং ১২ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে একই স্থানে নিয়ে শিশুটিকে আবারও যৌন নিপীড়ন করা হয়। বিষয়টি কাউকে জানালে মারধরের ভয় দেখানো হয় শিশুটিকে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিশুটির মা মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। কিন্তু মাদরাসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তি অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে কৌশলে মাদরাসা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী বলেন, এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনজনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

গাজীপুরে আবাসিক মাদরাসায় টানা তিন রাত নিপীড়নের শিকার ৮ বছরের ছাত্র

আপডেট সময় ০৯:০০:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

গাজীপুরে একটি আবাসিক কওমি মাদরাসায় টানা তিন রাত যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে ৮ বছরের এক ছাত্র। এ ঘটনায় ওই মাদরাসার শিক্ষকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন ভুক্তভোগী শিশুর মা। এরই মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী।

মামলার আসামিরা হলেন— মো. অলিউল্লাহ ইসলাম (২৩), মোহাম্মদ মিজান (৩৮) ও মো. আব্দুল কুদ্দুস শেখ (৪৫)। তাদের মধ্যে অলিউল্লাহ ইসলাম মাদরাসার শিক্ষক। বাকি দুজন তার সহযোগী।

জানা গেছে, গত ৭ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে নগরীর গাছা থানাধীন কলমেশ্বর এলাকার ডেঙ্গুর আলী সড়কে অবস্থিত দারুল হেদায়া কওমি মাদরাসার আবাসিক বিভাগে ওই শিক্ষার্থীকে দিয়ে যান তার মা। ১৩ অক্টোবর দুপুরে ছেলে বাসায় খেতে গেলে গোসল করানোর সময় শরীরের একটি অংশে প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছে বলে জানায় সে।

ব্যথার কারণ জানতে চাইলে শিশুটি তার মাকে জানায়, গত ১০ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১টার দিকে মাদরাসার অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত শিক্ষক মো. অলিউল্লাহ ইসলাম তাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখান। পরে মাদরাসার স্টোর রুমে নিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন করেন। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে গাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১১ অক্টোবর রাত আনুমানিক দেড়টা এবং ১২ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে একই স্থানে নিয়ে শিশুটিকে আবারও যৌন নিপীড়ন করা হয়। বিষয়টি কাউকে জানালে মারধরের ভয় দেখানো হয় শিশুটিকে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিশুটির মা মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। কিন্তু মাদরাসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তি অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে কৌশলে মাদরাসা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী বলেন, এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনজনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস