ঢাকা ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় করতোয়া নদী পুনরুদ্ধারে ১১২২ কোটি টাকার প্রকল্প

বগুড়ায় করতোয়া নদীর প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, নদীর দুই তীরে সৌন্দর্যবর্ধন এবং শহরের যানজট কমাতে ১ হাজার ১২২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পের আওতায় করতোয়া, ইছামতি ও গজারিয়া নদী পুনঃখনন, নদীতীর সংরক্ষণ এবং সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৯ লাখ ৭০ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় করতোয়া নদীর ৯৫ কিলোমিটার পুনঃখনন, ২৮ কিলোমিটার নদীর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং বগুড়া শহর অংশে নদীর দুই তীরে ছয় কিলোমিটার স্লোপ প্রটেকশন বা ঢাল সংরক্ষণের কাজ করা হবে। এ ছাড়া নদীর পূর্ব পাশে মাটিডালি থেকে বনানী পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৪০ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। নদীর দুই তীরে দত্তবাড়ি থেকে ভাটকান্দি সেতু পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার হাঁটার পথও নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়িত হলে বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকার পানি নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি নিচু এলাকার প্রায় ২ হাজার ৬০৯ হেক্টর জমি জলাবদ্ধতা থেকে সুরক্ষা পেতে পারে। এতে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নাজমুল হক বলেন, করতোয়া, ইছামতি ও গজারিয়া নদী পুনঃখননের মাধ্যমে করতোয়ার পানিপ্রবাহ পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নদী পুনঃখনন হলে এর অস্তিত্ব রক্ষা এবং পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা বলেন, শহরের যানজট নিরসন এবং মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ কমাতে করতোয়া নদীর পূর্ব পাশে ৪০ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এ প্রস্তাব দেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠন করে ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। একই বছরের ৭ ডিসেম্বর যাচাই সভা অনুষ্ঠিত হয়। চলতি বছরের ৬ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয়। পরে ১৬ জুলাই প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। এরপর প্রশাসনিক অনুমোদন, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ ও সরকারি আদেশ জারির কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

করতোয়া নদী একসময় তিস্তা নদীর প্রধান শাখাগুলোর একটি ছিল। ১৯৮৮ সালের বন্যার পর তিস্তার গতিপথ পরিবর্তিত হওয়ায় নদীটির মূল উৎস বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে দখল, ভরাট ও দূষণের কারণে নদীটির অবস্থা আরও খারাপ হয়। বগুড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে নদীর তীর ও তলদেশ দখল করে দোকানপাট ও স্থাপনা গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নালা দিয়ে শহরের বর্জ্য নদীতে পড়ায় দূষণ বেড়েছে।

এর আগে ৪৭ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে করতোয়া নদী পুনঃখনন ও ডান তীরে ঢাল সংরক্ষণের কাজ করেছিল বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে নদীটির আরও বিস্তৃত অংশ পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

বগুড়ায় করতোয়া নদী পুনরুদ্ধারে ১১২২ কোটি টাকার প্রকল্প

আপডেট সময় ১১:৫৩:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

বগুড়ায় করতোয়া নদীর প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, নদীর দুই তীরে সৌন্দর্যবর্ধন এবং শহরের যানজট কমাতে ১ হাজার ১২২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পের আওতায় করতোয়া, ইছামতি ও গজারিয়া নদী পুনঃখনন, নদীতীর সংরক্ষণ এবং সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৯ লাখ ৭০ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় করতোয়া নদীর ৯৫ কিলোমিটার পুনঃখনন, ২৮ কিলোমিটার নদীর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং বগুড়া শহর অংশে নদীর দুই তীরে ছয় কিলোমিটার স্লোপ প্রটেকশন বা ঢাল সংরক্ষণের কাজ করা হবে। এ ছাড়া নদীর পূর্ব পাশে মাটিডালি থেকে বনানী পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৪০ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। নদীর দুই তীরে দত্তবাড়ি থেকে ভাটকান্দি সেতু পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার হাঁটার পথও নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়িত হলে বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকার পানি নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি নিচু এলাকার প্রায় ২ হাজার ৬০৯ হেক্টর জমি জলাবদ্ধতা থেকে সুরক্ষা পেতে পারে। এতে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নাজমুল হক বলেন, করতোয়া, ইছামতি ও গজারিয়া নদী পুনঃখননের মাধ্যমে করতোয়ার পানিপ্রবাহ পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নদী পুনঃখনন হলে এর অস্তিত্ব রক্ষা এবং পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা বলেন, শহরের যানজট নিরসন এবং মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ কমাতে করতোয়া নদীর পূর্ব পাশে ৪০ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এ প্রস্তাব দেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠন করে ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। একই বছরের ৭ ডিসেম্বর যাচাই সভা অনুষ্ঠিত হয়। চলতি বছরের ৬ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয়। পরে ১৬ জুলাই প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। এরপর প্রশাসনিক অনুমোদন, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ ও সরকারি আদেশ জারির কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

করতোয়া নদী একসময় তিস্তা নদীর প্রধান শাখাগুলোর একটি ছিল। ১৯৮৮ সালের বন্যার পর তিস্তার গতিপথ পরিবর্তিত হওয়ায় নদীটির মূল উৎস বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে দখল, ভরাট ও দূষণের কারণে নদীটির অবস্থা আরও খারাপ হয়। বগুড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে নদীর তীর ও তলদেশ দখল করে দোকানপাট ও স্থাপনা গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নালা দিয়ে শহরের বর্জ্য নদীতে পড়ায় দূষণ বেড়েছে।

এর আগে ৪৭ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে করতোয়া নদী পুনঃখনন ও ডান তীরে ঢাল সংরক্ষণের কাজ করেছিল বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে নদীটির আরও বিস্তৃত অংশ পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস