ঢাকা ০২:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা আফগানিস্তানের

বোলিংয়ে আলো ছড়ালেন রশিদ খান, মোহাম্মদ নবীরা। এরপর রান তাড়ায় ব্যাট হাতে দায়িত্বশীল ইনিংস খেললেন ইব্রাহিম জাদরান ও রহমত শাহ। তাতেই জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি নিজেদের করে নিয়েছে আফগানিস্তান।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ৯৩ বল হাতে রেখেই সহজ জয় নিশ্চিত করে আফগানরা। আগে ব্যাট করতে নেমে ৪৩.৩ ওভারে মাত্র ১৬৯ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস। জবাবে ৩৪.৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৭০ রান তুলে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান।

টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ে। তবে আফগান বোলারদের তোপের মুখে পড়ে তারা। শারজায় ২০০৩ সালের পর অনুষ্ঠিত প্রথম এই ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে রাজত্ব করেছেন আফগান বোলাররাই। লেগস্পিনার রশিদ খান ৪১ রানে ৩টি উইকেট শিকার করে জিম্বাবুয়ের ইনিংসের গতি থামিয়ে দেন। এছাড়া মোহাম্মদ নবী ২৫ রানে ২টি, ফজলহক ফারুকী ৪১ রানে ২টি এবং বিলাল সামি ২৭ রানে ২টি উইকেট নেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা, যা তিনি ৮৩ বলে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে সংগ্রহ করেন। রায়ান বার্লের ব্যাটে আসে ৩১ রান।

১৭০ রানের সহজ লক্ষ্যে জবাব দিতে নেমে ওপেনিং জুটিতেই উড়ন্ত সূচনা এনে দেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান। প্রথম পাওয়ারপ্লেতে চমৎকার ব্যাটিংয়ে ৯.৪ ওভারে ৬৮ রানের জুটি গড়েন তারা। গুরবাজ ৩১ বলে ৩৬ রান করে ফেরার পর সিদ্দিকউল্লাহ আতাল (৬) দ্রুত বিদায় নিলেও একপ্রান্ত আগলে রাখেন ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান।

তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক রহমত শাহকে সাথে নিয়ে ৮২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলের জয় সুনিশ্চিত করেন জাদরান। রহমত শাহ ৬৩ বলে ৪৩ রান করে আউট হন। তবে ইব্রাহিম জাদরান ৯৬ বলে ৭০ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। তাঁর হাতেই ওঠে ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’-এর পুরস্কার। শেষ দিকে হাশমতউল্লাহ শাহিদি ৫ বলে ৭ রানে অপরাজিত থেকে চারের মার মেরে দলীয় জয় নিশ্চিত করেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে নিউম্যান নিয়ামহুরি ২টি এবং ওয়েসলি মাধেভেরে ১টি উইকেট নেন।

এই ত্রিদেশীয় সিরিজে আফগানিস্তানই ছিল সবচেয়ে ধারাবাহিক দল। লিগ পর্বে জিম্বাবুয়ে ও বাংলাদেশ—দুটি দলকেই হারিয়ে ফাইনালে ওঠে তারা। দুই দিন আগে বাংলাদেশ যেভাবে ১৬০ রানে আটকে গিয়ে ৭ উইকেটে হেরেছিল, ঠিক একই পথে হেঁটে ফাইনাল হারল জিম্বাবুয়েও।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা আফগানিস্তানের

আপডেট সময় ১২:৫২:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

বোলিংয়ে আলো ছড়ালেন রশিদ খান, মোহাম্মদ নবীরা। এরপর রান তাড়ায় ব্যাট হাতে দায়িত্বশীল ইনিংস খেললেন ইব্রাহিম জাদরান ও রহমত শাহ। তাতেই জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি নিজেদের করে নিয়েছে আফগানিস্তান।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ৯৩ বল হাতে রেখেই সহজ জয় নিশ্চিত করে আফগানরা। আগে ব্যাট করতে নেমে ৪৩.৩ ওভারে মাত্র ১৬৯ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস। জবাবে ৩৪.৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৭০ রান তুলে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান।

টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ে। তবে আফগান বোলারদের তোপের মুখে পড়ে তারা। শারজায় ২০০৩ সালের পর অনুষ্ঠিত প্রথম এই ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে রাজত্ব করেছেন আফগান বোলাররাই। লেগস্পিনার রশিদ খান ৪১ রানে ৩টি উইকেট শিকার করে জিম্বাবুয়ের ইনিংসের গতি থামিয়ে দেন। এছাড়া মোহাম্মদ নবী ২৫ রানে ২টি, ফজলহক ফারুকী ৪১ রানে ২টি এবং বিলাল সামি ২৭ রানে ২টি উইকেট নেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা, যা তিনি ৮৩ বলে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে সংগ্রহ করেন। রায়ান বার্লের ব্যাটে আসে ৩১ রান।

১৭০ রানের সহজ লক্ষ্যে জবাব দিতে নেমে ওপেনিং জুটিতেই উড়ন্ত সূচনা এনে দেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান। প্রথম পাওয়ারপ্লেতে চমৎকার ব্যাটিংয়ে ৯.৪ ওভারে ৬৮ রানের জুটি গড়েন তারা। গুরবাজ ৩১ বলে ৩৬ রান করে ফেরার পর সিদ্দিকউল্লাহ আতাল (৬) দ্রুত বিদায় নিলেও একপ্রান্ত আগলে রাখেন ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান।

তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক রহমত শাহকে সাথে নিয়ে ৮২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলের জয় সুনিশ্চিত করেন জাদরান। রহমত শাহ ৬৩ বলে ৪৩ রান করে আউট হন। তবে ইব্রাহিম জাদরান ৯৬ বলে ৭০ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। তাঁর হাতেই ওঠে ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’-এর পুরস্কার। শেষ দিকে হাশমতউল্লাহ শাহিদি ৫ বলে ৭ রানে অপরাজিত থেকে চারের মার মেরে দলীয় জয় নিশ্চিত করেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে নিউম্যান নিয়ামহুরি ২টি এবং ওয়েসলি মাধেভেরে ১টি উইকেট নেন।

এই ত্রিদেশীয় সিরিজে আফগানিস্তানই ছিল সবচেয়ে ধারাবাহিক দল। লিগ পর্বে জিম্বাবুয়ে ও বাংলাদেশ—দুটি দলকেই হারিয়ে ফাইনালে ওঠে তারা। দুই দিন আগে বাংলাদেশ যেভাবে ১৬০ রানে আটকে গিয়ে ৭ উইকেটে হেরেছিল, ঠিক একই পথে হেঁটে ফাইনাল হারল জিম্বাবুয়েও।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস