ঢাকা ১১:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo মেসির মুকুটে নতুন পালক, স্পেনে পাচ্ছেন রাজকীয় সম্মাননা Logo ৮৫৯ রানের মহারণ, শেষ ওভারে ছক্কা মেরে শ্রীলঙ্কার অবিশ্বাস্য জয় Logo পিএইচপির ত্রুটি ঘিরে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা, লাখ লাখ হ্যাকিংয়ের চেষ্টা Logo সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে হামলার দাবি হুথিদের Logo ফের দাম্মাম-রিয়াদে বিমানের সব ফ্লাইট স্থগিত Logo সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকিতে বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট Logo শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল তিব্বত Logo মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় জাপানে থাকছেন না রাষ্ট্রদূত, বিশেষ দায়িত্বে সচিব নজরুল Logo মাঠে চরম ব্যর্থতা, ম্যাচের আগের রাতে শপিংয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা

আজ রাতে আকাশে ঝরতে পারে উল্কাবৃষ্টি, দেখবেন যেভাবে

রাতের আকাশে আজ ঝরতে পারে অসংখ্য উল্কার ঝলকানি। হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণা ও ক্ষুদ্র পাথুরে কণার মধ্য দিয়ে পৃথিবীর অতিক্রমের ফলে সৃষ্ট ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টির সক্রিয় সময় চলছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকেও এ মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এর।

মহাকাশবিষয়ক সংবাদমাধ্যম স্পেস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, আকাশের পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০টি পর্যন্ত উল্কা দেখা যেতে পারে। তবে চাঁদের উজ্জ্বল আলো ও কৃত্রিম আলোর কারণে ক্ষীণ উল্কাগুলো দেখা কঠিন হতে পারে।

এ উল্কাবৃষ্টি দেখতে টেলিস্কোপ বা দূরবীনের প্রয়োজন নেই। পরিষ্কার আকাশ, অন্ধকার পরিবেশ এবং কিছুটা ধৈর্য থাকলেই খালি চোখে উল্কার ছুটে চলা উপভোগ করা সম্ভব।

কেন হয় ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি?

ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টির উৎস হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণা ও ক্ষুদ্র পাথুরে কণা। প্রতিবছর অক্টোবর মাসে পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার পথে এসব মহাজাগতিক ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে। এ সময় কণাগুলো প্রচণ্ড গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে।

বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় সৃষ্ট তীব্র উত্তাপের কারণে কণাগুলো ও আশপাশের গ্যাস থেকে আলো নির্গত হয়। রাতের আকাশে তখন উজ্জ্বল আলোর রেখা দেখা যায়, যা সাধারণভাবে ‘খসে পড়া তারা’ নামে পরিচিত।

ওরিওন নক্ষত্রমণ্ডলের দিক থেকে উল্কাগুলোকে ছুটে আসতে দেখা যায় বলে এ উল্কাবৃষ্টির নাম রাখা হয়েছে ওরিওনিড। হ্যালির ধূমকেতু প্রায় ৭৬ বছর পরপর সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। ২০৬১ সালে ধূমকেতুটিকে আবার পৃথিবী থেকে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।

কখন দেখা যাবে সবচেয়ে বেশি উল্কা?

বুধবার মধ্যরাতের পর থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি দেখার ভালো সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ভোরের আগের কয়েক ঘণ্টায় আকাশ পরিষ্কার ও অন্ধকার থাকলে উল্কা দেখার সম্ভাবনা বাড়ে।

স্পেস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, অনুকূল পরিস্থিতিতে প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০টি পর্যন্ত উল্কা দেখা যেতে পারে। তবে বাস্তবে কতটি উল্কা চোখে পড়বে, তা নির্ভর করবে আকাশের স্বচ্ছতা, আলোকদূষণ ও চাঁদের আলোর ওপর। চাঁদের উজ্জ্বল আলোয় অপেক্ষাকৃত ক্ষীণ উল্কাগুলো সহজেই চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে যেভাবে দেখবেন উল্কাবৃষ্টি

ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি দেখার জন্য বিশেষ কোনো যন্ত্রের প্রয়োজন নেই। তবে মহাজাগতিক এ দৃশ্য ভালোভাবে উপভোগ করতে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।

কৃত্রিম আলো থেকে দূরে থাকুন: শহরের উজ্জ্বল আলো এড়িয়ে খোলা ও অন্ধকার জায়গা বেছে নিন।

আকাশ পরিষ্কার কি না দেখুন: মেঘমুক্ত আকাশে উল্কা দেখার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

চোখকে অন্ধকারে অভ্যস্ত হতে দিন: বাইরে যাওয়ার পর অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় দিন, যাতে চোখ অন্ধকারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।

আকাশের বিস্তৃত অংশে নজর রাখুন: নির্দিষ্ট কোনো বিন্দুর দিকে তাকিয়ে না থেকে আকাশের যতটা সম্ভব বড় অংশ পর্যবেক্ষণ করুন।

ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন: উল্কা নিয়মিত বিরতিতে দেখা যায় না। তাই একটানা কিছুক্ষণ আকাশের দিকে নজর রাখুন।

ঘণ্টায় প্রায় দেড় লাখ মাইল বেগে ছুটে আসে কণা

হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণা ও ক্ষুদ্র পাথুরে কণাগুলো ঘণ্টায় প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ মাইল বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। প্রচণ্ড গতিতে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় সৃষ্ট উত্তাপের ফলে উজ্জ্বল আলোর রেখা তৈরি হয়, যা রাতের আকাশে উল্কা হিসেবে দৃশ্যমান হয়।

তাই ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টির এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখতে বাংলাদেশের আকাশপ্রেমীদের জন্য প্রয়োজন পরিষ্কার আকাশ, আলোকদূষণমুক্ত পরিবেশ এবং ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা।

বাংলা৭১নিউজ/এবি

Tag :

মেসির মুকুটে নতুন পালক, স্পেনে পাচ্ছেন রাজকীয় সম্মাননা

আজ রাতে আকাশে ঝরতে পারে উল্কাবৃষ্টি, দেখবেন যেভাবে

আপডেট সময় ০৬:৫৬:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

রাতের আকাশে আজ ঝরতে পারে অসংখ্য উল্কার ঝলকানি। হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণা ও ক্ষুদ্র পাথুরে কণার মধ্য দিয়ে পৃথিবীর অতিক্রমের ফলে সৃষ্ট ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টির সক্রিয় সময় চলছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকেও এ মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এর।

মহাকাশবিষয়ক সংবাদমাধ্যম স্পেস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, আকাশের পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০টি পর্যন্ত উল্কা দেখা যেতে পারে। তবে চাঁদের উজ্জ্বল আলো ও কৃত্রিম আলোর কারণে ক্ষীণ উল্কাগুলো দেখা কঠিন হতে পারে।

এ উল্কাবৃষ্টি দেখতে টেলিস্কোপ বা দূরবীনের প্রয়োজন নেই। পরিষ্কার আকাশ, অন্ধকার পরিবেশ এবং কিছুটা ধৈর্য থাকলেই খালি চোখে উল্কার ছুটে চলা উপভোগ করা সম্ভব।

কেন হয় ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি?

ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টির উৎস হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণা ও ক্ষুদ্র পাথুরে কণা। প্রতিবছর অক্টোবর মাসে পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার পথে এসব মহাজাগতিক ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে। এ সময় কণাগুলো প্রচণ্ড গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে।

বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় সৃষ্ট তীব্র উত্তাপের কারণে কণাগুলো ও আশপাশের গ্যাস থেকে আলো নির্গত হয়। রাতের আকাশে তখন উজ্জ্বল আলোর রেখা দেখা যায়, যা সাধারণভাবে ‘খসে পড়া তারা’ নামে পরিচিত।

ওরিওন নক্ষত্রমণ্ডলের দিক থেকে উল্কাগুলোকে ছুটে আসতে দেখা যায় বলে এ উল্কাবৃষ্টির নাম রাখা হয়েছে ওরিওনিড। হ্যালির ধূমকেতু প্রায় ৭৬ বছর পরপর সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। ২০৬১ সালে ধূমকেতুটিকে আবার পৃথিবী থেকে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।

কখন দেখা যাবে সবচেয়ে বেশি উল্কা?

বুধবার মধ্যরাতের পর থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি দেখার ভালো সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ভোরের আগের কয়েক ঘণ্টায় আকাশ পরিষ্কার ও অন্ধকার থাকলে উল্কা দেখার সম্ভাবনা বাড়ে।

স্পেস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, অনুকূল পরিস্থিতিতে প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০টি পর্যন্ত উল্কা দেখা যেতে পারে। তবে বাস্তবে কতটি উল্কা চোখে পড়বে, তা নির্ভর করবে আকাশের স্বচ্ছতা, আলোকদূষণ ও চাঁদের আলোর ওপর। চাঁদের উজ্জ্বল আলোয় অপেক্ষাকৃত ক্ষীণ উল্কাগুলো সহজেই চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে যেভাবে দেখবেন উল্কাবৃষ্টি

ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি দেখার জন্য বিশেষ কোনো যন্ত্রের প্রয়োজন নেই। তবে মহাজাগতিক এ দৃশ্য ভালোভাবে উপভোগ করতে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।

কৃত্রিম আলো থেকে দূরে থাকুন: শহরের উজ্জ্বল আলো এড়িয়ে খোলা ও অন্ধকার জায়গা বেছে নিন।

আকাশ পরিষ্কার কি না দেখুন: মেঘমুক্ত আকাশে উল্কা দেখার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

চোখকে অন্ধকারে অভ্যস্ত হতে দিন: বাইরে যাওয়ার পর অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় দিন, যাতে চোখ অন্ধকারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।

আকাশের বিস্তৃত অংশে নজর রাখুন: নির্দিষ্ট কোনো বিন্দুর দিকে তাকিয়ে না থেকে আকাশের যতটা সম্ভব বড় অংশ পর্যবেক্ষণ করুন।

ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন: উল্কা নিয়মিত বিরতিতে দেখা যায় না। তাই একটানা কিছুক্ষণ আকাশের দিকে নজর রাখুন।

ঘণ্টায় প্রায় দেড় লাখ মাইল বেগে ছুটে আসে কণা

হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণা ও ক্ষুদ্র পাথুরে কণাগুলো ঘণ্টায় প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ মাইল বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। প্রচণ্ড গতিতে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় সৃষ্ট উত্তাপের ফলে উজ্জ্বল আলোর রেখা তৈরি হয়, যা রাতের আকাশে উল্কা হিসেবে দৃশ্যমান হয়।

তাই ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টির এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখতে বাংলাদেশের আকাশপ্রেমীদের জন্য প্রয়োজন পরিষ্কার আকাশ, আলোকদূষণমুক্ত পরিবেশ এবং ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা।

বাংলা৭১নিউজ/এবি