বিক্ষোভে স্লোগান তুলছেন। পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। কিন্তু থামেনি তার প্রতিবাদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তার বক্তব্যের হাজারো ভিডিও। এরপর থেকেই তাকে নিয়ে মানুষের কৌতূহল বাড়ছে। কে এই নেহা বোরা? তার বয়স কত? কোথায় থাকেন? কোন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেছেন?
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে কথিত নির্বাচনি অনিয়মের প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন ২৯ বছর বয়সী এই তরুণী। তার নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন।
নেহা বোরা ভারতের বামপন্থী ছাত্রসংগঠন সর্বভারতীয় ছাত্র সমিতির জাতীয় সভাপতি। তার বাড়ি উত্তরাখণ্ডের খতিমায়। পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু কলেজে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে দিল্লির ড. বি আর আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়েন। এ ছাড়া, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা ও মঞ্চ পরিবেশনাবিষয়ক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি।
নাট্যচর্চা থেকে ছাত্ররাজনীতি:
নাট্যচর্চার মধ্য দিয়ে রাজনীতির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় নেহার। পরে ২০১৯ ও ২০২০ সালে ভারতের নাগরিকত্ব আইনবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন তিনি। এরপর সর্বভারতীয় ছাত্র সমিতির সঙ্গে যুক্ত হন। ধীরে ধীরে সংগঠনটির নেতৃত্বে উঠে আসেন এবং জাতীয় সভাপতির দায়িত্ব পান।
সাম্প্রতিক বিক্ষোভে তার সক্রিয় ভূমিকা আলোচনায় আসার পেছনেও রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। এক্স ও ইনস্টাগ্রামে তিনি আন্দোলনের পরিস্থিতি, পুলিশের পদক্ষেপ এবং বিক্ষোভকারীদের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে নিয়মিত বক্তব্য দিচ্ছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরের দিকে যেতে বাধা দেয় দিল্লি পুলিশ। এরপর নেহা তাদের প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের দিল্লি হাট এলাকায় আবার জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। একপর্যায়ে তাকেও আটক করা হয়।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে নেহাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আটক আছি, আন্দোলন নয়।’ পুলিশের বাধার মুখে পড়া সমর্থকদের যেখানে আছেন, সেখান থেকেই প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কেন আলোচনায় নেহা:
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেহা কথাবার্তায় শান্ত স্বভাবের হলেও মাইক্রোফোন হাতে বক্তব্য দেয়ার সময় দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন। হিন্দি ও ইংরেজিতে দেয়া তার বক্তৃতায় সাংবিধানিক অধিকার, সামাজিক বৈষম্য এবং সরকারের জবাবদিহির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
দিল্লির চলমান বিক্ষোভের পর গুগলে নেহার বয়স, স্থায়ী বাসস্থান, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পারিবারিক পরিচয় নিয়ে অনুসন্ধান বেড়েছে। ১২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সপ্তাহান্তে তার সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়তে শুরু করে এবং সোমবার সকালে তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
তবে নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা কিংবা আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেয়া হয়নি। নেহা বোরা মূলত ছাত্ররাজনীতিতে তার ভূমিকা, বিক্ষোভে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বক্তব্যের কারণে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস



























