ঢাকা ০৭:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার Logo রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা দেবাশীষ-গুলশান আরা কারাগারে Logo দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে জুলাই সনদ গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক : সাইফুল হক Logo হাসপাতাল থেকে ফিরেই অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা ডাকলেন চুয়েট উপাচার্য Logo পাঁচ বছর মেয়াদি নতুন অংশীদারিত্ব চুক্তি করতে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ Logo মহাকাশে প্রথম সবুজ নক্ষত্রের সন্ধান, বিস্মিত জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা Logo দুই পুলিশ সদস্যকে বিএসএফ ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা Logo উৎসবের কেনাকাটায় এআই ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব বাড়ছে Logo ঋণের চাপ সামলাতে আর্থিক সংস্কারের তাগিদ আইএমএফের Logo সাবেক সেনা কর্মকর্তা গুলশান আরা ও দেবাশীষ রিমান্ড শেষে কারাগারে

মহাকাশে প্রথম সবুজ নক্ষত্রের সন্ধান, বিস্মিত জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা

মহাকাশে প্রথমবারের মতো সবুজাভ রঙের একটি নক্ষত্র শনাক্ত করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। নক্ষত্রটির নাম ডব্লিউডি জে১৩৩০+৬৪৩৫ (WD J1330+6435)।

এটি একটি শ্বেত বামন নক্ষত্র, যা গ্রহের ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া কিছু উপাদানের কারণে অস্বাভাবিক সবুজ আভা ধারণ করেছে। পৃথিবী থেকে প্রায় ২৮০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই নক্ষত্রের আবিষ্কার মহাকাশের নক্ষত্রগুলোর রং তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন তথ্য দিয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘আরএএস টেকনিকস অ্যান্ড ইনস্ট্রুমেন্টস’ সাময়িকীতে।

কেন সবুজ দেখায় নক্ষত্রটি?

সাধারণত নক্ষত্রের রং নির্ভর করে তার তাপমাত্রার ওপর। তুলনামূলক শীতল নক্ষত্র কমলা বা লালচে দেখায়। সূর্যের মতো নক্ষত্র সাদা আভা দেয়, আর বেশি উত্তপ্ত নক্ষত্রগুলো নীলাভ দেখায়। তবে শ্বেত বামন নক্ষত্রের ক্ষেত্রে এর বায়ুমণ্ডলে থাকা রাসায়নিক উপাদানও রং নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গবেষকেরা জানান, ডব্লিউডি জে১৩৩০+৬৪৩৫-এর বাইরের স্তরে গ্রহের ভাঙা পাথুরে অংশ থেকে আসা ক্যালসিয়াম, লিথিয়াম ও সোডিয়ামের উপস্থিতি রয়েছে। এর মধ্যে সোডিয়ামই নক্ষত্রটির সবুজাভ আভার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণ অবস্থায় সোডিয়াম কমলা আলোর একটি নির্দিষ্ট অংশ শোষণ করে। কিন্তু এই শ্বেত বামনের বায়ুমণ্ডল অত্যন্ত ঘন। সেখানে সোডিয়াম পরমাণুর সঙ্গে হিলিয়াম পরমাণুর বারবার সংঘর্ষ ঘটে।

এতে সোডিয়ামের আলো শোষণের বৈশিষ্ট্য বদলে যায়। ফলে এটি হলুদ, কমলা ও লাল আলোর বিস্তৃত অংশ শোষণ করে।

এর ফলে নক্ষত্র থেকে আসা আলোর রং বদলে যায় এবং সেটিকে হলুদাভ সবুজ বা চার্ট্রুজ রঙের দেখায়। গবেষকদের মতে, সূর্যের মতো সাধারণ নক্ষত্রে এভাবে সবুজ আভা তৈরি হওয়ার কথা নয়।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইকের জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী মার্ক হল্যান্ডস বলেন, নক্ষত্রটির বায়ুমণ্ডলে গ্রহের ধ্বংসাবশেষ থেকে বিভিন্ন উপাদান জমা হওয়ার বিষয়টি প্রথমে গবেষকদের আগ্রহ তৈরি করেছিল। পরে তারা এর অস্বাভাবিক রঙের কারণ শনাক্ত করেন।

আরো মিলেছে গোলাপি নক্ষত্র

গবেষকেরা পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৫ আলোকবর্ষের মধ্যে থাকা ১৫১টি শ্বেত বামন নক্ষত্রের রং বিশ্লেষণ করেছেন। এ সময় তাঁরা আরেকটি নক্ষত্রের সন্ধান পান, যেটিকে স্যালমন মাছের মতো গোলাপি দেখায়।

ডব্লিউডি জে১০১১+২৮৪৫ (WD J1011+2845) নামের নক্ষত্রটি পৃথিবী থেকে ৪৮ আলোকবর্ষ দূরে লিও মাইনর নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত। এর রং তৈরিতে সোডিয়ামের পরিবর্তে কার্বন ভূমিকা রেখেছে। গবেষকদের মতে, এ ক্ষেত্রে কার্বন নক্ষত্রটির গভীর অভ্যন্তর থেকে উঠে এসেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, শ্বেত বামন নক্ষত্রের বায়ুমণ্ডলে কোন উপাদান বেশি রয়েছে, তার ওপর রং নির্ভর করতে পারে। কার্বনসমৃদ্ধ শ্বেত বামন সাধারণত গোলাপি বা বেগুনি আভাযুক্ত হতে পারে। গ্রহের ধ্বংসাবশেষ থেকে বিভিন্ন উপাদানে সমৃদ্ধ নক্ষত্রগুলো হলুদাভ দেখাতে পারে। আর হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের মিশ্র বায়ুমণ্ডলযুক্ত অপেক্ষাকৃত শীতল শ্বেত বামনগুলো সায়ান বা হালকা নীল রঙের হতে পারে।

শ্বেত বামন হলো কম বা মাঝারি ভরের কোনো নক্ষত্রের জীবনের শেষ পর্যায়ের অবশিষ্ট কেন্দ্র। জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে নক্ষত্রটি তার বাইরের স্তর ছড়িয়ে দেয় এবং ঘন কেন্দ্রটি অবশিষ্ট থাকে। সাধারণত একটি শ্বেত বামনের ভর সূর্যের প্রায় অর্ধেক হলেও এর আকার পৃথিবীর কাছাকাছি।

গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার দেখায়, নক্ষত্রের রং শুধু তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে না; এর বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক গঠনও রং বদলে দিতে পারে। বাস্তব মহাবিশ্ব কখনো কখনো কল্পবিজ্ঞানের কল্পনার মতোই বিস্ময়কর হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন গবেষণার প্রধান লেখক মার্ক হল্যান্ডস।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার

মহাকাশে প্রথম সবুজ নক্ষত্রের সন্ধান, বিস্মিত জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা

আপডেট সময় ০৬:২১:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

মহাকাশে প্রথমবারের মতো সবুজাভ রঙের একটি নক্ষত্র শনাক্ত করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। নক্ষত্রটির নাম ডব্লিউডি জে১৩৩০+৬৪৩৫ (WD J1330+6435)।

এটি একটি শ্বেত বামন নক্ষত্র, যা গ্রহের ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া কিছু উপাদানের কারণে অস্বাভাবিক সবুজ আভা ধারণ করেছে। পৃথিবী থেকে প্রায় ২৮০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই নক্ষত্রের আবিষ্কার মহাকাশের নক্ষত্রগুলোর রং তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন তথ্য দিয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘আরএএস টেকনিকস অ্যান্ড ইনস্ট্রুমেন্টস’ সাময়িকীতে।

কেন সবুজ দেখায় নক্ষত্রটি?

সাধারণত নক্ষত্রের রং নির্ভর করে তার তাপমাত্রার ওপর। তুলনামূলক শীতল নক্ষত্র কমলা বা লালচে দেখায়। সূর্যের মতো নক্ষত্র সাদা আভা দেয়, আর বেশি উত্তপ্ত নক্ষত্রগুলো নীলাভ দেখায়। তবে শ্বেত বামন নক্ষত্রের ক্ষেত্রে এর বায়ুমণ্ডলে থাকা রাসায়নিক উপাদানও রং নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গবেষকেরা জানান, ডব্লিউডি জে১৩৩০+৬৪৩৫-এর বাইরের স্তরে গ্রহের ভাঙা পাথুরে অংশ থেকে আসা ক্যালসিয়াম, লিথিয়াম ও সোডিয়ামের উপস্থিতি রয়েছে। এর মধ্যে সোডিয়ামই নক্ষত্রটির সবুজাভ আভার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণ অবস্থায় সোডিয়াম কমলা আলোর একটি নির্দিষ্ট অংশ শোষণ করে। কিন্তু এই শ্বেত বামনের বায়ুমণ্ডল অত্যন্ত ঘন। সেখানে সোডিয়াম পরমাণুর সঙ্গে হিলিয়াম পরমাণুর বারবার সংঘর্ষ ঘটে।

এতে সোডিয়ামের আলো শোষণের বৈশিষ্ট্য বদলে যায়। ফলে এটি হলুদ, কমলা ও লাল আলোর বিস্তৃত অংশ শোষণ করে।

এর ফলে নক্ষত্র থেকে আসা আলোর রং বদলে যায় এবং সেটিকে হলুদাভ সবুজ বা চার্ট্রুজ রঙের দেখায়। গবেষকদের মতে, সূর্যের মতো সাধারণ নক্ষত্রে এভাবে সবুজ আভা তৈরি হওয়ার কথা নয়।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইকের জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী মার্ক হল্যান্ডস বলেন, নক্ষত্রটির বায়ুমণ্ডলে গ্রহের ধ্বংসাবশেষ থেকে বিভিন্ন উপাদান জমা হওয়ার বিষয়টি প্রথমে গবেষকদের আগ্রহ তৈরি করেছিল। পরে তারা এর অস্বাভাবিক রঙের কারণ শনাক্ত করেন।

আরো মিলেছে গোলাপি নক্ষত্র

গবেষকেরা পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৫ আলোকবর্ষের মধ্যে থাকা ১৫১টি শ্বেত বামন নক্ষত্রের রং বিশ্লেষণ করেছেন। এ সময় তাঁরা আরেকটি নক্ষত্রের সন্ধান পান, যেটিকে স্যালমন মাছের মতো গোলাপি দেখায়।

ডব্লিউডি জে১০১১+২৮৪৫ (WD J1011+2845) নামের নক্ষত্রটি পৃথিবী থেকে ৪৮ আলোকবর্ষ দূরে লিও মাইনর নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত। এর রং তৈরিতে সোডিয়ামের পরিবর্তে কার্বন ভূমিকা রেখেছে। গবেষকদের মতে, এ ক্ষেত্রে কার্বন নক্ষত্রটির গভীর অভ্যন্তর থেকে উঠে এসেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, শ্বেত বামন নক্ষত্রের বায়ুমণ্ডলে কোন উপাদান বেশি রয়েছে, তার ওপর রং নির্ভর করতে পারে। কার্বনসমৃদ্ধ শ্বেত বামন সাধারণত গোলাপি বা বেগুনি আভাযুক্ত হতে পারে। গ্রহের ধ্বংসাবশেষ থেকে বিভিন্ন উপাদানে সমৃদ্ধ নক্ষত্রগুলো হলুদাভ দেখাতে পারে। আর হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের মিশ্র বায়ুমণ্ডলযুক্ত অপেক্ষাকৃত শীতল শ্বেত বামনগুলো সায়ান বা হালকা নীল রঙের হতে পারে।

শ্বেত বামন হলো কম বা মাঝারি ভরের কোনো নক্ষত্রের জীবনের শেষ পর্যায়ের অবশিষ্ট কেন্দ্র। জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে নক্ষত্রটি তার বাইরের স্তর ছড়িয়ে দেয় এবং ঘন কেন্দ্রটি অবশিষ্ট থাকে। সাধারণত একটি শ্বেত বামনের ভর সূর্যের প্রায় অর্ধেক হলেও এর আকার পৃথিবীর কাছাকাছি।

গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার দেখায়, নক্ষত্রের রং শুধু তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে না; এর বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক গঠনও রং বদলে দিতে পারে। বাস্তব মহাবিশ্ব কখনো কখনো কল্পবিজ্ঞানের কল্পনার মতোই বিস্ময়কর হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন গবেষণার প্রধান লেখক মার্ক হল্যান্ডস।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ