ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ন্যায়বিচার নিশ্চিতে প্যারালিগ্যাল সেবাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে: আইনমন্ত্রী Logo টাঙ্গাইলে বাস-পিকআপ-মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ২ Logo কুষ্টিয়াকে লালন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে : সংস্কৃতিমন্ত্রী Logo শিগগিরই অপ্রতিম হত্যা মামলার চার্জশিট : কুমিল্লা পুলিশ সুপার Logo বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সম্ভাবনা ও ঝুঁকি দেখছে আইএমএফ Logo শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে সংসদে ও রাজপথে আন্দোলন চলবে Logo রংপুরে নারীদের জন্য তৈরি কারখানা পেল বিশ্বের সেরা ভবনের স্বীকৃতি Logo ইউক্রেনে রুশ হামলায় বিদ্যুৎহীন কয়েক লাখ বাসিন্দা, নিহত ৮ Logo প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর দুই দেশের সম্পর্ক উন্নীত করবে : জহির উদ্দিন স্বপন Logo বেলজিয়ামে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা দেবাশীষ-গুলশান আরা কারাগারে

ঢাকার পল্লবী থানায় রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনে করা মামলায় রিমান্ড শেষে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট গুলশান আরাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান এ আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বকর ছিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত রোববার রাতে ঢাকার দুটি এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে ডিবি পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের পরিদর্শক আলী আকবর তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। সোমবার তাদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড শেষে শুক্রবার তাদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মো. আতাউর রহমান খান রুকু ও মো. মশিউর রহমান জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে কাওছার আহম্মেদ জামিনের বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও গুলশান আরার বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত থেকে তহবিল সংগ্রহ, সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টারস আলফা’ ও ‘বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ নামে দুটি গ্রুপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তারা সাবেক সেনাপ্রধান (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলাতক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন। ‘কালআজকাল ডটকম’ নামে একটি পেজ তৈরি করে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতায় উসকানি দেওয়ার মতো কনটেন্ট প্রকাশের অভিযোগও করা হয়েছে।

এজাহারে কাজী গুলশান আরার বিষয়ে বলা হয়, ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর জাতীয় নির্বাচনের আগে দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে গণভবনে গিয়ে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি প্রকাশ্যে একাত্মতা ও আনুগত্য প্রকাশ করেন।

এ ছাড়া ‘সেনা পরিষদ’ নামে একটি কমিটি গঠন এবং এর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়িয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞা ছড়ানোর অভিযোগও মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

ন্যায়বিচার নিশ্চিতে প্যারালিগ্যাল সেবাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে: আইনমন্ত্রী

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা দেবাশীষ-গুলশান আরা কারাগারে

আপডেট সময় ০৭:০৯:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকার পল্লবী থানায় রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনে করা মামলায় রিমান্ড শেষে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট গুলশান আরাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান এ আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বকর ছিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত রোববার রাতে ঢাকার দুটি এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে ডিবি পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের পরিদর্শক আলী আকবর তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। সোমবার তাদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড শেষে শুক্রবার তাদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মো. আতাউর রহমান খান রুকু ও মো. মশিউর রহমান জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে কাওছার আহম্মেদ জামিনের বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও গুলশান আরার বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত থেকে তহবিল সংগ্রহ, সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টারস আলফা’ ও ‘বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ নামে দুটি গ্রুপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তারা সাবেক সেনাপ্রধান (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলাতক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন। ‘কালআজকাল ডটকম’ নামে একটি পেজ তৈরি করে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতায় উসকানি দেওয়ার মতো কনটেন্ট প্রকাশের অভিযোগও করা হয়েছে।

এজাহারে কাজী গুলশান আরার বিষয়ে বলা হয়, ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর জাতীয় নির্বাচনের আগে দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে গণভবনে গিয়ে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি প্রকাশ্যে একাত্মতা ও আনুগত্য প্রকাশ করেন।

এ ছাড়া ‘সেনা পরিষদ’ নামে একটি কমিটি গঠন এবং এর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়িয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞা ছড়ানোর অভিযোগও মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ