ভারতে উৎসবকেন্দ্রিক কেনাকাটায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব বাড়ছে। পণ্য কেনার আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধারণা নেওয়া, কনটেন্ট নির্মাতাদের পরামর্শ অনুসরণ এবং এআইয়ের সাহায্যে কেনাকাটার পরিকল্পনা করছেন অনেক ক্রেতা।
এ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন বিপণন কৌশল তুলে ধরেছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা।
মেটার প্রকাশিত ‘ফেস্টিভ অ্যাকসিলারেটর ২০২৬: সিএমও প্লেবুক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ভারতের উৎসবের মৌসুমে কেনাকাটার এসব প্রবণতা উঠে এসেছে। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানায়। এতে বলা হয়েছে, কেনাকাটার সুযোগ এখন শুধু দীপাবলিতে সীমাবদ্ধ নেই।
বিয়ের মৌসুম, বড়দিন এবং বছরের শেষের বিভিন্ন ছাড়ের সময়ও ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে।
কেনাকাটার আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খোঁজ
মেটার তথ্য অনুযায়ী, ভারতের উৎসবের মৌসুমে কেনাকাটা করেন এমন ৮৬ শতাংশ ক্রেতা পণ্য কেনার আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে ধারণা নেন। এ ছাড়া প্রায় ৮৫ শতাংশ ক্রেতা প্রতি সপ্তাহে মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তি ব্যবহার করেন।
অনলাইন কেনাকাটায় ছোট শহরগুলোর অংশগ্রহণও বাড়ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে নতুন অনলাইন ক্রেতাদের ৬০ শতাংশ দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের শহরগুলো থেকে আসছেন। অর্থাৎ বড় শহরের বাইরের ক্রেতারাও অনলাইন বাজারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছেন।
কেনাকাটার সময়েও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। মেটার বিশ্লেষণে দুটি সময়কে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথমটি হলো উৎসব বা বিশেষ আয়োজনের প্রায় ছয় সপ্তাহ আগে থেকে শুরু হওয়া পরিকল্পিত কেনাকাটা।
দ্বিতীয়টি হলো আয়োজনের শেষ ৪৮ ঘণ্টায় বেড়ে যাওয়া কেনাকাটা।
এ কারণে ক্রেতাদের কাছে আগেভাগে পণ্যের তথ্য পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি শেষ মুহূর্তে কেনাকাটা করা ব্যক্তিদের জন্যও বিপণন কৌশল প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
কনটেন্ট নির্মাতা ও এআইয়ের ভূমিকা বাড়ছে
উৎসবের মৌসুমে মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোতে সাংস্কৃতিক বিষয়ভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি ৫০ শতাংশ বাড়ে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীদের সম্পৃক্ততা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া উৎসবের মৌসুমে প্রতি দুইজন ক্রেতার একজন ইনফ্লুয়েন্সার বা কনটেন্ট নির্মাতাদের অনুসরণ করেন।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, কোনো পণ্য কিভাবে দৈনন্দিন জীবন বা বিশেষ মুহূর্তকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে, তা তুলে ধরা কনটেন্ট সাধারণ কনটেন্টের তুলনায় ২ দশমিক ৩ গুণ বেশি সংরক্ষণ করা হয়। এতে বোঝা যায়, শুধু ছাড় বা মূল্যছাড়ের বিজ্ঞাপন নয়, পণ্যের ব্যবহার ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক কনটেন্টও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে পারে।
কেনাকাটার ধারণা পেতেও এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। মেটার দাবি, উৎসবের মৌসুমে ৮০ শতাংশ ব্যবহারকারী ধারণা নেওয়া ও কেনাকাটাসংক্রান্ত কাজে এআই ব্যবহার করেছেন। বিজ্ঞাপনের জন্য উপযুক্ত ক্রেতা নির্বাচন, প্রচারণার কনটেন্ট তৈরি, বিজ্ঞাপন প্রদর্শন এবং কেনাকাটার অভিজ্ঞতা উন্নত করার মতো ক্ষেত্রেও এআইভিত্তিক টুল ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
দীপাবলির পরও চলবে বিপণন
মেটার মতে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিপণন পরিকল্পনা শুধু দীপাবলিতে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। ব্ল্যাক ফ্রাইডে, সাইবার মানডে, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিয়ের মৌসুম, বড়দিন, বছরের শেষের উৎসব এবং ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিক্রয় কার্যক্রমেও ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে।
এ জন্য প্রতিটি উপলক্ষে নতুন করে প্রচারণা শুরু না করে আগের প্রচারণায় আগ্রহ দেখানো ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ কাজে হোয়াটসঅ্যাপের গ্রাহক ব্যবস্থাপনা ও ব্রডকাস্ট সুবিধা, রিমাইন্ডার বিজ্ঞাপন এবং মেটার অ্যাডভান্টেজ প্লাস ক্যাটালগের মতো টুল ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
মেটার ই-কমার্স ও রিটেইল বিভাগের ভারতীয় পরিচালক মেঘনা আপ্পারাও বলেন, উৎসবকেন্দ্রিক কেনাকাটা এখন আরও ধারাবাহিক ও পরিবর্তনশীল প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। ক্রেতারা আগেভাগেই পণ্য খুঁজছেন এবং পণ্য সম্পর্কে ধারণা নেওয়া থেকে কেনাকাটার সিদ্ধান্তে দ্রুত পৌঁছাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে কনটেন্ট নির্মাতা ও এআই ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, উৎসবের পুরো সময়জুড়ে ক্রেতাদের আগ্রহ ধরে রাখতে পারলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিপণনের সুযোগ আরো ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারবে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ





























