দৈনন্দিন জীবনে পড়াশোনা, কাজ, বিনোদন, ছবি তোলা থেকে শুরু করে এআই-নির্ভর নানা কাজের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি স্মার্টফোন। স্মার্টফোনের এই বহুমুখী ব্যবহার যেন নির্বিঘ্নে হয় তা নিশ্চিত করে চিপসেট।
প্রযুক্তির বিবর্তনে স্মার্টফোনের ফিচারের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শক্তিশালী চিপসেটের চাহিদাও সমানতালে বেড়েছে।
একটি সিঙ্গেল-কোর ইউনিট থেকে স্মার্টফোনের চিপসেট এখন শক্তিশালী এসওসিতে (সিস্টেম অন আ চিপ) পরিণত হয়েছে; যা সিপিইউ, জিপিইউ, মডেম ও এআই ইঞ্জিনকে একটি সিলিকন পিসের মধ্যে নিয়ে এসেছে। অ্যাপ কত দ্রুততম সময়ে ওপেন হবে, গেমিং কতটা স্থিতিশীল হবে, ছবির প্রসেসিং কতটা নিখুঁত হবে বা ব্যাটারি কতক্ষণ চলবে, এসব কিছুই অনেকাংশেই নির্ভর করে এই ক্ষুদ্র সিলিকনের ওপর।
একসময় চিপসেটের কার্যক্ষমতা মূলত প্রসেসিং স্পিড দিয়ে মূল্যায়ন করা হতো।
তবে আধুনিক স্মার্টফোনে শুধু পারফরম্যান্সের পাশাপাশি, পাওয়ার সক্ষমতা, এআই সক্ষমতা এবং ইমেজিং ও সামগ্রিক ডিভাইস অভিজ্ঞতার ভারসাম্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একটি সক্ষম চিপসেট ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করতে পারে। অ্যাপ দ্রুত চালু হওয়া, মাল্টিটাস্কিং করা, দীর্ঘ সময় ধরে স্থিতিশীল পারফরম্যান্স ও ব্যাটারির কার্যকর ব্যবস্থাপনা—সবকিছুর সঙ্গেই চিপসেটের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
একই সঙ্গে, এআই প্রযুক্তি বিস্তারের ফলে স্মার্টফোনে এআই-নির্ভর ফিচার ও উন্নত ইমেজিং সুবিধা নিশ্চিত করতেও শক্তিশালী চিপসেটের প্রয়োজন বাড়ছে।
ফলে আধুনিক চিপসেটের লক্ষ্য এখন শুধু দ্রুত প্রসেসিং নিশ্চিত করা নয়; বরং প্রয়োজন অনুযায়ী শক্তি ও প্রসেসিং সক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা।
চিপসেটের এই পরিবর্তনের ধারায় শাওমির এক্সরিং ০৩ অন্যতম। এটি এমন একটি চিপসেট প্রযুক্তি যেখানে পারফরম্যান্স, দক্ষতা ও এআই ইমেজিংয়ের মতো বিভিন্ন সক্ষমতাকে সামগ্রিক ডিভাইস অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যবহারকারীদের জন্য আরো সাবলীল দৈনন্দিন ব্যবহার, উন্নত ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা, স্থিতিশীল পারফরম্যান্স এবং আরো সক্ষম এআই-নির্ভর অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
বর্তমানে স্মার্টফোন নির্মাতাদের মধ্যে নিজস্ব সিলিকন বা ইন-হাউস চিপ ডেভেলপমেন্টের প্রবণতা বাড়ছে।
কেননা মূল চিপ প্রযুক্তিতে নিয়ন্ত্রণ থাকলে ওই প্রতিষ্ঠানটি হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার ও প্রসেসিং আর্কিটেকচারকে একসঙ্গে মিলিয়ে একটি সামগ্রিক ডিজাইন দাঁড় করাতে পারে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ডিভাইসের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তিকে আরো কার্যকরভাবে অপ্টিমাইজ করার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে, ডিভাইসের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে সামগ্রিক ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে আরো উন্নত করার সুযোগ তৈরি হয়।
এক্সরিং ০৩-এর ব্যবহার শাওমির ডিভাইস ইকোসিস্টেমের বিস্তৃত সম্ভাবনাকে তুলে ধরে। চিপসেটটি শাওমি ১৮ ফোল্ড এবং শাওমি প্যাড ৯ প্রো ম্যাক্সে ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও এই চিপসেটসহ ফোনগুলো বাংলাদেশে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে না, তার পরও এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে যে, স্মার্টফোন ও কানেক্টেড ডিভাইসের অভিজ্ঞতাকে আরো সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে নিজস্ব চিপসেট প্রযুক্তি থাকাটা ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
পরিশেষে বলা যায়, চিপসেট প্রযুক্তির এই বিবর্তন আগামীর স্মার্ট ডিভাইসকে আরো গতিশীলই করবে না, বরং একই সঙ্গে দক্ষ ও ব্যবহারকারীর প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ





























