বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের জন্মদিনে ১৯৮১ সালের আলোচিত সিনেমা ‘সিলসিলা’ দেখলেন জেন-জি প্রজন্মের দর্শক। উদ্দেশ্য ছিল অমিতাভ বচ্চন ও রেখার পর্দার রসায়ন বোঝা। কিন্তু সিনেমা দেখা শেষে তার মনে তৈরি হলো অন্য রকম কিছু প্রশ্ন। ভালোবাসা, সামাজিক দায়িত্ব, পরকীয়া আর আত্মত্যাগের গল্পে মুগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি সিনেমার কিছু সংলাপ, হাস্যরস ও চরিত্রের সিদ্ধান্ত নিয়ে অস্বস্তিও প্রকাশ করেছেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে লেখক নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। ২০২৬ সালে বসে যশ চোপড়ার পরিচালিত ‘সিলসিলা’ দেখতে গিয়ে তিনি বুঝতে পেরেছেন, কেন কয়েক দশক ধরে সিনেমাটি দর্শক ও গণমাধ্যমের আলোচনায় রয়েছে। তবে সময় বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে সিনেমাটির কিছু বিষয় দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে গেছে।
পর্দার প্রেম, বাস্তবের আলোচনায় ‘সিলসিলা’
‘সিলসিলা’য় অমিত মালহোত্রার চরিত্রে অভিনয় করেন অমিতাভ বচ্চন, শোভার ভূমিকায় জয়া বচ্চন এবং চাঁদনীর চরিত্রে রেখা। আরও অভিনয় করেছেন সঞ্জীব কুমার ও শশী কাপুর। সিনেমার গল্পে অমিত ভালোবাসেন চাঁদনীকে। কিন্তু তার ভাই শেখরের আকস্মিক মৃত্যুর পর অন্তঃসত্ত্বা শোভাকে বিয়ে করেন অমিত। অন্যদিকে, চাঁদনীও চিকিৎসক আনন্দকে বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করেন। পরে অমিত ও চাঁদনীর আবার দেখা হলে পুরোনো প্রেম নতুন করে জেগে ওঠে। তাদের সম্পর্ক জড়িয়ে পড়ে বিবাহিত জীবনের টানাপোড়েন ও সামাজিক দায়িত্বের সঙ্গে।
সিনেমাটির প্রতি নব্যার আগ্রহের অন্যতম কারণ ছিল অমিতাভ, জয়া ও রেখাকে ঘিরে বাস্তব জীবনের আলোচিত সম্পর্কের সমীকরণ। সিনেমায় তাদের একসঙ্গে উপস্থিতি এবং অমিতাভ-রেখার রোমান্টিক দৃশ্য দর্শকের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দেয়। বাস্তবের গুঞ্জন ও পর্দার গল্পের এই সংযোগ ‘সিলসিলা’কে বাড়তি আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছিল।
পুরোনো হাস্যরস
সিনেমার প্রেমের গল্প ও সংগীত উপভোগ করলেও এর কিছু হাস্যরস অস্বস্তিকর মনে হয়েছে জেন-জিদের। সিনেমার ঠাট্টার কিছু দৃশ্য তাদের আজকের সময়ের তুলনায় অপ্রাসঙ্গিক ও বিরক্তিকর ছিল। এ ছাড়া ‘লড়কি তো পরায়ে ঘর কি আমানত হ্যায়’ অর্থাৎ মেয়েরা অন্যের ঘরের আমানত এ ধরনের সংলাপও জেন-জিদেরর দৃষ্টি কেড়েছে। বর্তমান সময়ে এমন বক্তব্য নারীর স্বাধীনতা, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা ও লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন তারা।
ভালোবাসার গল্প
নব্যার জানান জিন-জিরা মনে করে, পরকীয়া ও সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে ‘সিলসিলা’র গল্প তার সময়ের তুলনায় সাহসী ছিল। কিন্তু অমিতের সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে তার প্রশ্ন রয়েছে। চাঁদনীকে ভালোবাসার কথা জেনেও কেন অমিত শোভাকে বিয়ে করলেন? কেন নিজের অনুভূতি ও সিদ্ধান্তের পরিণতি নিয়ে শুরুতেই সৎ হলেন না? সিনেমায় অমিত ও চাঁদনীর সম্পর্ককে কবিতা, মনোরম দৃশ্য ও মুগ্ধকর সংগীতের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু তাদের সম্পর্কের কারণে অন্য দুই মানুষের জীবনে যে মানসিক আঘাত তৈরি হয়, তা কি যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে? নব্যার পর্যালোচনায় উঠে এসেছে এমন প্রশ্নও।
সিনেমার শেষটিও জেন-জিদের পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি। এত আবেগ, দ্বন্দ্ব ও ত্যাগের পর অমিত ও চাঁদনীর আলাদা হয়ে যাওয়াকে তাদের কাছে হতাশাজনক মনে হয়েছে। জেন-জিদের মতে, শেষ পর্যন্ত দায়িত্বের কাছে ভালোবাসার পরাজয় দেখানো হলেও সেই সিদ্ধান্তের নৈতিক জটিলতা আরও গভীরভাবে তুলে ধরা যেত।
সব মিলিয়ে, ৪৫ বছর পর ‘সিলসিলা’ দেখার অভিজ্ঞতা সব মিলিয়ে ভালো হলেও। এই সময়ে এসে জেন-জিদের কিছু বিষয় এই সময়ে একেবারেই যায় না। সময়ের সঙ্গে বদলেছে সমাজ, সম্পর্কের ধারণা ও দর্শকের প্রত্যাশা। তাই ‘সিলসিলা’ এখনো আলোচনায় থাকলেও কিছু বিষয় নিয়ে নতুন প্রজন্মের দর্শকের মনে প্রশ্ন থেকেই যায়।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস





























