ঢাকা ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সেন্টমার্টিনে পর্যটনের সময়সীমা ও পর্যটক সংখ্যা পুনর্বিবেচনা করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী Logo সৌদি আরবে হামলায় নিহত নাসরুল্লাহর মরদেহ দেশে ফেরাতে পরিবারের আকুতি Logo সৌদি আরবে বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বললো দূতাবাস Logo মোহাম্মদপুরে ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে ৯টি ককটেল উদ্ধার Logo সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ ও তার স্ত্রীর সম্পদের হিসাব নেবে দুদক Logo বিদেশি বিনিয়োগ টানতে বেসরকারি পুঁজিতে জোর বিশ্বব্যাংকের Logo ইসরায়েলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, হতাহত ২০ Logo ফটিকছড়িতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও অসচ্ছলদের আর্থিক সহায়তা Logo দেশের সিনেমা হলের উন্নয়নে পদক্ষেপ নেবে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী Logo চাকরি পেতে এআই জানা জরুরি, নিয়োগে বড় পরিবর্তন আনছে টিসিএস

সৌদি আরবে হামলায় নিহত নাসরুল্লাহর মরদেহ দেশে ফেরাতে পরিবারের আকুতি

পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ৪৫ জনের একটি দলের সঙ্গে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের হাফেজ মুফতি মো. নাসরুল্লাহ (৪৫)। কিন্তু ওমরাহ পালন করতে গিয়ে আর দেশে ফেরা হলো না তার। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় তার মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। বাবাকে হারিয়ে দিশেহারা তার তিন শিশুসন্তান। একই দলের সঙ্গে ওমরাহ করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তার চাচাতো ভাই দাউদুল ইসলাম।

নাসরুল্লাহ নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যরা জানান, সৌদি আরবে হামলার ঘটনায় নাসরুল্লাহ নিহত হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকে শোকাহত স্বজনেরা। একদিকে প্রিয়জনকে হারানোর শোক, অন্যদিকে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা।

নাসরুল্লাহর ছোট ভাই হাফেজ মাওলানা মো. আতিকুল্লাহ বলেন, ভাইয়ের এমন মৃত্যু তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তার মৃত্যুর পর ভাবি ও তিন শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে পুরো পরিবার উদ্বিগ্ন। নাসরুল্লাহর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারের সহযোগিতা চান তারা।

চার ভাইয়ের মধ্যে নাসরুল্লাহ ছিলেন তৃতীয়। তার বাবা-মা, স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ছিল পরিবার। চার ভাই-ই পবিত্র কোরআনের হাফেজ। নাসরুল্লাহর বড় ছেলে জামিলের বয়স আট বছর। সে জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী।

ছেলেকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন নাসরুল্লাহর বাবা মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ। তিনি ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এদিকে নাসরুল্লাহর চাচাতো ভাই দাউদুল ইসলামও একই দলের সঙ্গে ওমরাহ করতে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। ছেলের আহত হওয়ার খবরে উদ্বিগ্ন তাঁর বাবা মাওলানা মুহিবুল্লাহ। সৌদি আরবে দাউদুলের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তিনি সৌদি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

নাসরুল্লাহর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রায়হান জানান, মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

বাংলা৭১নিউজ/এবি

Tag :

সেন্টমার্টিনে পর্যটনের সময়সীমা ও পর্যটক সংখ্যা পুনর্বিবেচনা করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী

সৌদি আরবে হামলায় নিহত নাসরুল্লাহর মরদেহ দেশে ফেরাতে পরিবারের আকুতি

আপডেট সময় ০৮:৫৪:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ৪৫ জনের একটি দলের সঙ্গে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের হাফেজ মুফতি মো. নাসরুল্লাহ (৪৫)। কিন্তু ওমরাহ পালন করতে গিয়ে আর দেশে ফেরা হলো না তার। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় তার মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। বাবাকে হারিয়ে দিশেহারা তার তিন শিশুসন্তান। একই দলের সঙ্গে ওমরাহ করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তার চাচাতো ভাই দাউদুল ইসলাম।

নাসরুল্লাহ নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যরা জানান, সৌদি আরবে হামলার ঘটনায় নাসরুল্লাহ নিহত হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকে শোকাহত স্বজনেরা। একদিকে প্রিয়জনকে হারানোর শোক, অন্যদিকে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা।

নাসরুল্লাহর ছোট ভাই হাফেজ মাওলানা মো. আতিকুল্লাহ বলেন, ভাইয়ের এমন মৃত্যু তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তার মৃত্যুর পর ভাবি ও তিন শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে পুরো পরিবার উদ্বিগ্ন। নাসরুল্লাহর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারের সহযোগিতা চান তারা।

চার ভাইয়ের মধ্যে নাসরুল্লাহ ছিলেন তৃতীয়। তার বাবা-মা, স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ছিল পরিবার। চার ভাই-ই পবিত্র কোরআনের হাফেজ। নাসরুল্লাহর বড় ছেলে জামিলের বয়স আট বছর। সে জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী।

ছেলেকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন নাসরুল্লাহর বাবা মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ। তিনি ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এদিকে নাসরুল্লাহর চাচাতো ভাই দাউদুল ইসলামও একই দলের সঙ্গে ওমরাহ করতে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। ছেলের আহত হওয়ার খবরে উদ্বিগ্ন তাঁর বাবা মাওলানা মুহিবুল্লাহ। সৌদি আরবে দাউদুলের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তিনি সৌদি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

নাসরুল্লাহর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রায়হান জানান, মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

বাংলা৭১নিউজ/এবি