চাকরির বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-সংক্রান্ত দক্ষতার গুরুত্ব বাড়ছে। এবার ভবিষ্যতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও এআইয়ে দক্ষ কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ভারতের অন্যতম বড় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (টিসিএস)।
প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে তাদের নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের প্রায় ৮০ শতাংশের ডিজিটাল ও এআই-সংক্রান্ত দক্ষতা থাকবে।
সম্প্রতি ভারতের সংবাদমাধ্যম পিটিআইকে দেওয়া বক্তব্যে টিসিএসের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা আরতি সুব্রামানিয়ান জানান, প্রতিষ্ঠানটি এআই ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি দক্ষ কর্মী নিয়োগে গুরুত্ব দিচ্ছে। গত জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে টিসিএস ৪ হাজার ৫০০ কর্মী নিয়োগ করেছে। তাদের মধ্যে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশের বিশেষায়িত এআই দক্ষতা ছিল।
আর প্রায় ৮০ শতাংশ কর্মী ছিলেন নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তিতে দক্ষ।
প্রতিষ্ঠানটি মনে করছে, ভবিষ্যতেও নিয়োগের ক্ষেত্রে এ ধরনের দক্ষতার গুরুত্ব বজায় থাকবে। বাজারে প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন আরতি সুব্রামানিয়ান। ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানায়।
শুধু নতুনদের নয়, অভিজ্ঞদেরও এআই দক্ষতা জরুরি
এআইয়ের ব্যবহার বাড়ায় সদ্য স্নাতক হওয়া চাকরিপ্রার্থীদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ কর্মীদেরও নতুন প্রযুক্তি শেখার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। তবে টিসিএসের মতে, এ ক্ষেত্রে শুধু তরুণদেরই সুবিধা হবে, এমন নয়। অভিজ্ঞ কর্মীরাও এআই বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে এগিয়ে থাকতে পারেন।
টিসিএসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে কৃত্তিবাসন বলেন, মধ্যম পর্যায়ের কোনো প্রকৌশলী নতুন প্রযুক্তি শিখতে আগ্রহী হলে তাঁর জন্য তা বড় সুবিধা হতে পারে। কারণ, অভিজ্ঞ কর্মীরা প্রযুক্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট খাত ও ব্যবসার প্রয়োজন সম্পর্কেও ভালো ধারণা রাখেন।
অর্থাৎ, শুধু এআই টুল ব্যবহার জানাই যথেষ্ট নয়; প্রযুক্তি কীভাবে বাস্তব কাজ ও ব্যবসার সমস্যার সমাধান করতে পারে, সেটিও বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। এআই সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ, বিনিয়োগ এবং অংশীদারত্বের দিকেও নজর দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
টিসিএসের আয়ের বড় অংশ আসছে এআই থেকে
এআই ব্যবসা সম্প্রসারণের পেছনে আয়ের পাশাপাশি মুনাফা বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে টিসিএসের। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে তাদের মোট আয়ের প্রায় ১০ শতাংশ এসেছে এআই-সংশ্লিষ্ট কাজ থেকে।
টিসিএসের প্রধান নির্বাহী কে কৃত্তিবাসনের মতে, এআই-সংশ্লিষ্ট চুক্তির পরিমাণ বাড়লে মুনাফার হারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সাধারণত গ্রাহকেরা প্রথমে নির্দিষ্ট কোনো কাজ বা বিভাগের জন্য ছোট পরিসরে এআই প্রকল্প শুরু করেন। বিনিয়োগের সুফল পাওয়া গেলে পরে অন্য বিভাগেও সেই প্রকল্প সম্প্রসারণ করেন।
তবে প্রতিষ্ঠানটি সব চুক্তিকে আলাদাভাবে এআই চুক্তি হিসেবে চিহ্নিত করতে সতর্ক। কৃত্তিবাসন জানিয়েছেন, টিসিএসের প্রায় সব কাজেই এখন কোনো না কোনোভাবে এআই যুক্ত হচ্ছে। সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির মোট চুক্তিমূল্য ছিল ৯৬০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে এআই-সংশ্লিষ্ট কাজের অংশ কত, তা আলাদাভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান পরিস্থিতির মধ্যেও এআইয়ে জোর
টিসিএসের এআই ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনসংক্রান্ত নীতির পরিবর্তন নিয়ে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার টিসিএস, ইনফোসিস, উইপ্রো ও এইচসিএলটেকসহ আটটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পার্ম কর্মসূচির আওতায় স্থায়ী শ্রম-সনদ আবেদনের প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় এই সনদ গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
তবে টিসিএস জানিয়েছে, এ সিদ্ধান্তে তাদের কর্মী নিয়োগ পরিকল্পনা বা গ্রাহকদের সঙ্গে কাজের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, গত দুই বছরে পার্ম কর্মসূচির আওতায় তাদের আবেদনের সংখ্যা এক অঙ্কের মধ্যে ছিল।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ




























