কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের কাজের গতি বাড়ানো থেকে শুরু করে চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তবে এর দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে বাড়ছে নানা ধরনের ঝুঁকিও।
সাইবার অপরাধ, ভুয়া ভিডিও ও কণ্ঠস্বর তৈরি, প্রতারণা, চাকরিতে পরিবর্তন এবং এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি এআই নিয়ে আলোচনায় মানবজাতির অস্তিত্বের সম্ভাব্য ঝুঁকিও সামনে এসেছে। কিছু গবেষক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ভবিষ্যতে অত্যন্ত শক্তিশালী এআই ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তবে এ ধরনের আশঙ্কা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে এবং এগুলো নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়।
এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনায় একটি গবেষণার কথাও উঠে এসেছে। ২০২৪ সালে ২ হাজার ৭৭৮ জন এআই গবেষকের ওপর করা এক জরিপে মধ্যম মানের উত্তর হিসেবে প্রায় ৫ শতাংশ সম্ভাবনা দেওয়া হয়েছিল—এআই মানুষের বিলুপ্তি বা একই মাত্রার ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটাতে পারে। তবে এই সংখ্যা কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়, বরং গবেষকদের ব্যক্তিগত সম্ভাবনা-অনুমানের প্রতিফলন।
ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানায়।
এআইয়ের বর্তমান ঝুঁকিও কম নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিটি সাইবার হামলা, ফিশিং, ডিপফেক, ভয়েস ক্লোনিং ও স্বয়ংক্রিয় প্রতারণাকে আরও দ্রুত এবং সহজে ছড়িয়ে দিতে পারে। আগে যে ধরনের প্রতারণা করতে অনেক সময় ও দক্ষতার প্রয়োজন হতো, এআই ব্যবহার করে সেগুলো এখন আরও বড় পরিসরে করা সম্ভব।
এআই এজেন্ট নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এসব এজেন্ট ব্যবহারকারীর হয়ে বিভিন্ন অনলাইন কাজ করতে পারে।
তবে তাদের পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি না থাকলে অননুমোদিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ, তথ্য সংগ্রহ বা অন্য সিস্টেমে অপ্রত্যাশিত কার্যক্রম চালানোর মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
চাকরির ক্ষেত্রেও এআই বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে একই ধরনের পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের ক্ষেত্রে মানুষের প্রয়োজন কমতে পারে। এর ফলে কিছু নতুন কাজ তৈরি হলেও অনেক কর্মীর দক্ষতা নতুন করে গড়ে তোলার প্রয়োজন হতে পারে। এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মানুষের নিজস্ব চিন্তাশক্তি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভ্যাসেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
তবে ঝুঁকির পাশাপাশি এআইয়ের সম্ভাবনাও অনেক বড়। প্রযুক্তিটি মানুষের পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ কমিয়ে সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধান ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজে বেশি সময় দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে। চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যক্তিভেদে চিকিৎসা পরিকল্পনা ও নতুন ওষুধ বা চিকিৎসাপদ্ধতি তৈরিতেও এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইকে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া নয়, বরং এর ব্যবহার কীভাবে নিরাপদ ও দায়িত্বশীল রাখা যায়, সেটিই বড় প্রশ্ন। কারণ এআইয়ের সুবিধা যেমন সবার জন্য সমানভাবে পৌঁছাতে নাও পারে, তেমনি এর ক্ষতির বোঝাও সবার ওপর সমানভাবে পড়বে না।
তাই এআইয়ের উন্নয়নের সঙ্গে কার্যকর আইন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে। প্রযুক্তির সুফল গ্রহণের পাশাপাশি এর সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে সরকার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবহারকারীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এআই মানুষের জন্য বড় সম্ভাবনার দরজা খুলে দিলেও সেই সম্ভাবনা যেন নতুন ঝুঁকির কারণ না হয়, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ




























