ঢাকা ০৯:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা, ২ কিশোর গ্রেপ্তার Logo তাইওয়ানে পৌঁছাল প্রথম দুটি মার্কিন অত্যাধুনিক এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান Logo প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo ভারতীয় নৌসেনাকে ফাঁদে ফেলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ‘হাতিয়ে নিলো’ পাকিস্তানি নারী! Logo সীমান্তে পুলিশ-বিজিবির যৌথ অভিযানে ১৯ ককটেল উদ্ধার Logo পাকিস্তানে রপ্তানি বাড়াতে বিজিএমইএর তাগিদ, ব্যবসায়ী দল পাঠালে বিটুবি বৈঠকের আশ্বাস Logo রাজধানীতে আগামীকাল ৭ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায় Logo পুঁজিবাজারের চেহারা এক বছরে বদলে যাবে : অর্থমন্ত্রী Logo গ্যাস সিলিন্ডারের সরকারি দামে অনিয়ম, অভিযানে ৩৯ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা, ২ কিশোর গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারের পর তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

রবিবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিক উল্লাহর আদালতে জবানবন্দি দেয় তারা।

গ্রেপ্তার দুই কিশোর হলো সোনাইমুড়ী উপজেলার শাকতলা গ্রামের আশ্রাফুল ইসলাম শ্রাবন (১৬) ও আকবর হোসেন ফাহিম (১৭)।

পিবিআই জানায়, ওই দুই কিশোর এলাকায় একটি দল গড়ে তুলে ত্রাস সৃষ্টি, অরাজকতা ও মব তৈরির মাধ্যমে জনশান্তি বিঘ্নিত করে আসছিল।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন রাত ১১টা থেকে ১২ জুন রাত ১টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে সোনাইমুড়ী উপজেলার শাকতলা ছিদ্দিকিয়া আলিয়া মাদরাসার পূর্ব পাশে এবং পরে নদোনা আছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন সড়কে ফয়েজ আহাম্মদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

পূর্বশত্রুতার জেরে ফয়েজকে মাদকসেবীর অপবাদ দিয়ে পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরে অভিযুক্ত কিশোর ও তাদের সহযোগীরা লাঠিসোঁটা ও রড দিয়ে ফয়েজকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ১২ জুন সোনাইমুড়ী থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করা হয়।

মামলায় সবুজ (২২), মনা (২৫) ও জামাল (২৬)সহ অজ্ঞাতপরিচয়দের আসামি করা হয়। মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় সংস্থাটি স্বউদ্যোগে তদন্তের দায়িত্ব নেয়।

পিবিআই জানায়, এক মাসের বেশি সময় ধরে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নথিপত্র বিশ্লেষণ ও নিবিড় তদন্তের পাশাপাশি কয়েক দফা অভিযান চালানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় রবিবার ভোর পৌনে ৩টার দিকে শাকতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে এজাহারবহির্ভূত ও তদন্তে উঠে আসা ওই দুই কিশোরকে আইনি হেফাজতে নেওয়া হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলে জানায় পিবিআই।

পরে বিকেল ৩টার দিকে তাদের আদালতে হাজির করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

তদন্তে আরো জানা যায়, ওই দুই কিশোর নিজ এলাকা ও আশপাশের এলাকার কিশোরদের নিয়ে একটি দল গড়ে তুলেছিল। দলটি এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি, অরাজক পরিস্থিতি তৈরি এবং মব সৃজনের মাধ্যমে জনশান্তি বিঘ্নিত করে আসছিল। ঘটনার দিন মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে ফয়েজের সঙ্গে তাদের ও সহযোগীদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তারা লাঠিসোঁটা ও রড দিয়ে ফয়েজকে পিটিয়ে হত্যা করে।

পিবিআই নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে আসার পর নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হয়। আটক দুই কিশোর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে চাইলে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা, ২ কিশোর গ্রেপ্তার

‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা, ২ কিশোর গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০৮:০০:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারের পর তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

রবিবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিক উল্লাহর আদালতে জবানবন্দি দেয় তারা।

গ্রেপ্তার দুই কিশোর হলো সোনাইমুড়ী উপজেলার শাকতলা গ্রামের আশ্রাফুল ইসলাম শ্রাবন (১৬) ও আকবর হোসেন ফাহিম (১৭)।

পিবিআই জানায়, ওই দুই কিশোর এলাকায় একটি দল গড়ে তুলে ত্রাস সৃষ্টি, অরাজকতা ও মব তৈরির মাধ্যমে জনশান্তি বিঘ্নিত করে আসছিল।

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন রাত ১১টা থেকে ১২ জুন রাত ১টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে সোনাইমুড়ী উপজেলার শাকতলা ছিদ্দিকিয়া আলিয়া মাদরাসার পূর্ব পাশে এবং পরে নদোনা আছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন সড়কে ফয়েজ আহাম্মদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

পূর্বশত্রুতার জেরে ফয়েজকে মাদকসেবীর অপবাদ দিয়ে পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরে অভিযুক্ত কিশোর ও তাদের সহযোগীরা লাঠিসোঁটা ও রড দিয়ে ফয়েজকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ১২ জুন সোনাইমুড়ী থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করা হয়।

মামলায় সবুজ (২২), মনা (২৫) ও জামাল (২৬)সহ অজ্ঞাতপরিচয়দের আসামি করা হয়। মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় সংস্থাটি স্বউদ্যোগে তদন্তের দায়িত্ব নেয়।

পিবিআই জানায়, এক মাসের বেশি সময় ধরে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নথিপত্র বিশ্লেষণ ও নিবিড় তদন্তের পাশাপাশি কয়েক দফা অভিযান চালানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় রবিবার ভোর পৌনে ৩টার দিকে শাকতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে এজাহারবহির্ভূত ও তদন্তে উঠে আসা ওই দুই কিশোরকে আইনি হেফাজতে নেওয়া হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলে জানায় পিবিআই।

পরে বিকেল ৩টার দিকে তাদের আদালতে হাজির করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

তদন্তে আরো জানা যায়, ওই দুই কিশোর নিজ এলাকা ও আশপাশের এলাকার কিশোরদের নিয়ে একটি দল গড়ে তুলেছিল। দলটি এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি, অরাজক পরিস্থিতি তৈরি এবং মব সৃজনের মাধ্যমে জনশান্তি বিঘ্নিত করে আসছিল। ঘটনার দিন মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে ফয়েজের সঙ্গে তাদের ও সহযোগীদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তারা লাঠিসোঁটা ও রড দিয়ে ফয়েজকে পিটিয়ে হত্যা করে।

পিবিআই নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে আসার পর নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হয়। আটক দুই কিশোর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে চাইলে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ