ঢাকা ০২:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে ৮ মাসে সড়কে ঝরেছে ১১০ প্রাণ

ময়মনসিংহে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় ১১০ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছে অন্তত ১১১ জন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত ময়মনসিংহে মোট ১১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় এসব হতাহত হয়েছে।

এই তথ্যের বাইরে, গত ২ অক্টোবর ময়মনসিংহ শহরতলির আকুয়া গদ্রপা এলাকায় বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের চার জনসহ মোট সাত জন নিহত হন। তাদের সবার বাড়িই জামালপুর জেলায়।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, এক দুর্ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু যে কত বড় কষ্টের সেটা আমরা অনুধাবন করতে পারি। দুর্ঘটনা কমানোর জন্য খুব জরুরি হচ্ছে চালকদের সচেতনতা। এ সচেতনতা তৈরি করতে সরকারকে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

নিরাপদ সড়ক চাই-এর ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল কাদের চৌধুরী মুন্না বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু একটি পরিবারের জন্য অনেক বেদনার। সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার জন্য রাজনৈতিক শক্তি ও প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে। নাগরিক সংগঠনগুলোকেও জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে।

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ২৩টি দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে ১৭ জন। ফেব্রুয়ারিতে ২৭টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ২২ জন, আহত ৪৬ জন।

মার্চে ১৬টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ১৬ জন। জুলাই মাসে ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে কম নিহত হয়েছে, চারজন। আহত হয়েছে দুজন।

উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখ যায়, আট মাসে ভালুকায় সর্বোচ্চ ৩০ জন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ জন নিহত হয়েছে ত্রিশালে। এ দুটি উপজেলায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক রয়েছে। এ মহাসড়কে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণেই বেশি দুর্ঘটনা ঘটে।

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের ভাষ্যমতে, ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ, যানবাহনের বেপরোয়া ও অতিরিক্ত গতি, অসতর্কতা, ওভারটেকিং, চালকদের অদক্ষতা, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, সড়কের ত্রুটি ও ট্রাফিক আইন না মানা। দুর্ঘটনা প্রতিরোধের পথচারী ও যাত্রীদেরও নিয়ম মেনে সতর্কতার সঙ্গে রাস্তা পারাপার ও যানবাহনে ভ্রমণ করতে হবে।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে একক কোনো কারণ নেই। বেপরোয়া গতি, অসতর্কতা, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, চালকের অদক্ষতা ও ট্রাফিক আইন না মানাসহ বিভিন্ন কারণ দায়ী। বিশেষ করে অতিরিক্ত গতি চালকের নিয়ন্ত্রণ ও জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়ার সময় কমিয়ে দেয়। তাই দক্ষ ও প্রশিক্ষিত চালক এবং নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরীফুল আলম বলেন, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে গতিসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অনেক চালক সেই নির্দেশনা মানছেন না। সড়ক ভালো হওয়ায় চালকেরা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালান। ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনা কীভাবে কমানো যায়, সে বিষয় নিয়ে ভবিষ্যতে আরও কাজ করা হবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

ময়মনসিংহে ৮ মাসে সড়কে ঝরেছে ১১০ প্রাণ

আপডেট সময় ০৮:২৪:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

ময়মনসিংহে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় ১১০ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছে অন্তত ১১১ জন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত ময়মনসিংহে মোট ১১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় এসব হতাহত হয়েছে।

এই তথ্যের বাইরে, গত ২ অক্টোবর ময়মনসিংহ শহরতলির আকুয়া গদ্রপা এলাকায় বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের চার জনসহ মোট সাত জন নিহত হন। তাদের সবার বাড়িই জামালপুর জেলায়।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সম্পাদক আলী ইউসুফ বলেন, এক দুর্ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু যে কত বড় কষ্টের সেটা আমরা অনুধাবন করতে পারি। দুর্ঘটনা কমানোর জন্য খুব জরুরি হচ্ছে চালকদের সচেতনতা। এ সচেতনতা তৈরি করতে সরকারকে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

নিরাপদ সড়ক চাই-এর ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল কাদের চৌধুরী মুন্না বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু একটি পরিবারের জন্য অনেক বেদনার। সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার জন্য রাজনৈতিক শক্তি ও প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে। নাগরিক সংগঠনগুলোকেও জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে।

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ২৩টি দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে ১৭ জন। ফেব্রুয়ারিতে ২৭টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ২২ জন, আহত ৪৬ জন।

মার্চে ১৬টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ১৬ জন। জুলাই মাসে ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় সবচেয়ে কম নিহত হয়েছে, চারজন। আহত হয়েছে দুজন।

উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখ যায়, আট মাসে ভালুকায় সর্বোচ্চ ৩০ জন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ জন নিহত হয়েছে ত্রিশালে। এ দুটি উপজেলায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক রয়েছে। এ মহাসড়কে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণেই বেশি দুর্ঘটনা ঘটে।

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের ভাষ্যমতে, ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ, যানবাহনের বেপরোয়া ও অতিরিক্ত গতি, অসতর্কতা, ওভারটেকিং, চালকদের অদক্ষতা, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, সড়কের ত্রুটি ও ট্রাফিক আইন না মানা। দুর্ঘটনা প্রতিরোধের পথচারী ও যাত্রীদেরও নিয়ম মেনে সতর্কতার সঙ্গে রাস্তা পারাপার ও যানবাহনে ভ্রমণ করতে হবে।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে একক কোনো কারণ নেই। বেপরোয়া গতি, অসতর্কতা, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, চালকের অদক্ষতা ও ট্রাফিক আইন না মানাসহ বিভিন্ন কারণ দায়ী। বিশেষ করে অতিরিক্ত গতি চালকের নিয়ন্ত্রণ ও জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়ার সময় কমিয়ে দেয়। তাই দক্ষ ও প্রশিক্ষিত চালক এবং নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরীফুল আলম বলেন, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে গতিসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অনেক চালক সেই নির্দেশনা মানছেন না। সড়ক ভালো হওয়ায় চালকেরা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালান। ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনা কীভাবে কমানো যায়, সে বিষয় নিয়ে ভবিষ্যতে আরও কাজ করা হবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ