ঢাকা ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ম্যানচেস্টার সিটিকে শাস্তি দিলে বিনিয়োগ কমবে—ইংল্যান্ডকে সতর্কবার্তা আমিরাতের

ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে বড় ধরনের শাস্তির সিদ্ধান্ত এলে ভবিষ্যতে ইংল্যান্ডে বিনিয়োগের আগ্রহ কমে যেতে পারে—ব্রিটিশ সরকারকে এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর স্বাধীন কমিশনের রায়ে ম্যানচেস্টার সিটিকে একাধিক গুরুতর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিটিকে শাস্তি দেওয়ার বিষয়টি যুক্তরাজ্য ও আমিরাতের বৃহত্তর অর্থনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। গত পাঁচ বছরে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন খাতে আমিরাতের বিনিয়োগের পরিমাণ ৩ হাজার কোটি পাউন্ডের (৪ লাখ ১৮৭ হাজার কোটি ৯০ লাখ টাকা) বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত সিটি বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে আয় বাড়িয়ে দেখানো এবং খরচ কম দেখানোর মতো অনিয়ম করেছে। এসব চুক্তিকে কমিশন ‘ভুয়া’ চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সিটির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে জরিমানা, পয়েন্ট কেটে নেওয়া, দ্বিতীয় স্তরে নেমে দেওয়া (অবনমন) কিংবা আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়গুলো আলোচনায় আছে। তবে এখনো কোনো শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। রায়ের বিরুদ্ধে গতকাল আপিল করেছে সিটি।

তবে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট।

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের মুখপাত্র বলেছেন, ‘কেউই নিয়মের ঊর্ধ্বে নয়। অন্যায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের উপযুক্ত পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।’

অন্যদিকে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে সিটি কর্তৃপক্ষ বলেছে, ‘কমিশনের রায়ে আইন, নীতি ও তথ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুল রয়েছে এবং ক্লাবের অবস্থানের পক্ষে প্রমাণ রয়েছে।’

এখন সিটির আপিলের পর পরবর্তী রায়ের দিকেই তাকিয়ে আছে ইংলিশ ফুটবল। এর মধ্যেই মামলাটি ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে যুক্তরাজ্য-আমিরাতের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

ম্যানচেস্টার সিটিকে শাস্তি দিলে বিনিয়োগ কমবে—ইংল্যান্ডকে সতর্কবার্তা আমিরাতের

আপডেট সময় ০৫:৩১:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে বড় ধরনের শাস্তির সিদ্ধান্ত এলে ভবিষ্যতে ইংল্যান্ডে বিনিয়োগের আগ্রহ কমে যেতে পারে—ব্রিটিশ সরকারকে এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর স্বাধীন কমিশনের রায়ে ম্যানচেস্টার সিটিকে একাধিক গুরুতর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিটিকে শাস্তি দেওয়ার বিষয়টি যুক্তরাজ্য ও আমিরাতের বৃহত্তর অর্থনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। গত পাঁচ বছরে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন খাতে আমিরাতের বিনিয়োগের পরিমাণ ৩ হাজার কোটি পাউন্ডের (৪ লাখ ১৮৭ হাজার কোটি ৯০ লাখ টাকা) বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত সিটি বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে আয় বাড়িয়ে দেখানো এবং খরচ কম দেখানোর মতো অনিয়ম করেছে। এসব চুক্তিকে কমিশন ‘ভুয়া’ চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সিটির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে জরিমানা, পয়েন্ট কেটে নেওয়া, দ্বিতীয় স্তরে নেমে দেওয়া (অবনমন) কিংবা আরো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়গুলো আলোচনায় আছে। তবে এখনো কোনো শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। রায়ের বিরুদ্ধে গতকাল আপিল করেছে সিটি।

তবে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট।

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের মুখপাত্র বলেছেন, ‘কেউই নিয়মের ঊর্ধ্বে নয়। অন্যায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের উপযুক্ত পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।’

অন্যদিকে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে সিটি কর্তৃপক্ষ বলেছে, ‘কমিশনের রায়ে আইন, নীতি ও তথ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুল রয়েছে এবং ক্লাবের অবস্থানের পক্ষে প্রমাণ রয়েছে।’

এখন সিটির আপিলের পর পরবর্তী রায়ের দিকেই তাকিয়ে আছে ইংলিশ ফুটবল। এর মধ্যেই মামলাটি ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে যুক্তরাজ্য-আমিরাতের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ