ঢাকা ০৬:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলামোটরে চাঁদা চেয়ে গুলি, বহিষ্কৃত যুবদল নেতা সাইমনসহ ৪ জন রিমান্ডে

রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না পেয়ে মারধর ও ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগের মামলায় বহিষ্কৃত যুবদল নেতা ফেরদৌস আহমেদ সাইমনসহ চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে মামলার প্রধান আসামি সাইমনকে চার দিন এবং অপর তিন আসামিকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

রিমান্ডে যাওয়া অপর আসামিরা হলেন ওমর (৩২), মোর্শেদ (২৫) ও মো. শাওন (২৫)।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আরিফ রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুনানির সময় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. নাসিম।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে হাতিরঝিল থানাধীন বাংলামোটরের নিউ ইস্কাটন এলাকায় একটি বাসার সামনে বাদী মো. সোহানের পথরোধ করেন আসামিরা। এ সময় প্রধান আসামি ফেরদৌস আহমেদ সাইমন তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।

বাদী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাইমন পিস্তল বের করে তার বুকের দিকে তাক করেন এবং গুলি করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে পিস্তলের বাট দিয়ে সোহানের মাথায় আঘাত করেন তিনি। অন্য আসামিরাও তাকে মারধর করেন। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

আহত সোহান স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পথে তার ভগ্নিপতি মো. মোক্তার হোসেন তার সঙ্গে যোগ দেন।

এ সময় সাইমনসহ অন্য আসামিরা মোটরসাইকেলে করে সেখানে এসে আবারও সোহানকে মারধরের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাধা দিতে গেলে মোক্তার হোসেনকেও মারধর করা হয়। এ সময় সাইমন পিস্তল দিয়ে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে কয়েকজনকে আটক করেন। পালানোর চেষ্টাকালে সাইমনকেও আটক করা হয়। খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়। পরে এ ঘটনায় সোহান বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় মামলা করেন।

রিমান্ড আবেদনে পুলিশ উল্লেখ করেছে, গ্রেপ্তার আসামিরা সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী দলের সক্রিয় সদস্য বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং মামলার অন্যান্য তথ্য উদ্ধারের জন্য তাঁদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

এ ছাড়া আসামিদের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল ও কলাবাগান থানায় বিভিন্ন মাদক মামলা রয়েছে বলেও পুলিশের রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

বাংলামোটরে চাঁদা চেয়ে গুলি, বহিষ্কৃত যুবদল নেতা সাইমনসহ ৪ জন রিমান্ডে

আপডেট সময় ০৫:১৯:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না পেয়ে মারধর ও ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগের মামলায় বহিষ্কৃত যুবদল নেতা ফেরদৌস আহমেদ সাইমনসহ চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে মামলার প্রধান আসামি সাইমনকে চার দিন এবং অপর তিন আসামিকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

রিমান্ডে যাওয়া অপর আসামিরা হলেন ওমর (৩২), মোর্শেদ (২৫) ও মো. শাওন (২৫)।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আরিফ রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুনানির সময় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. নাসিম।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে হাতিরঝিল থানাধীন বাংলামোটরের নিউ ইস্কাটন এলাকায় একটি বাসার সামনে বাদী মো. সোহানের পথরোধ করেন আসামিরা। এ সময় প্রধান আসামি ফেরদৌস আহমেদ সাইমন তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।

বাদী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাইমন পিস্তল বের করে তার বুকের দিকে তাক করেন এবং গুলি করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে পিস্তলের বাট দিয়ে সোহানের মাথায় আঘাত করেন তিনি। অন্য আসামিরাও তাকে মারধর করেন। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

আহত সোহান স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পথে তার ভগ্নিপতি মো. মোক্তার হোসেন তার সঙ্গে যোগ দেন।

এ সময় সাইমনসহ অন্য আসামিরা মোটরসাইকেলে করে সেখানে এসে আবারও সোহানকে মারধরের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাধা দিতে গেলে মোক্তার হোসেনকেও মারধর করা হয়। এ সময় সাইমন পিস্তল দিয়ে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে কয়েকজনকে আটক করেন। পালানোর চেষ্টাকালে সাইমনকেও আটক করা হয়। খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়। পরে এ ঘটনায় সোহান বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় মামলা করেন।

রিমান্ড আবেদনে পুলিশ উল্লেখ করেছে, গ্রেপ্তার আসামিরা সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী দলের সক্রিয় সদস্য বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং মামলার অন্যান্য তথ্য উদ্ধারের জন্য তাঁদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

এ ছাড়া আসামিদের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল ও কলাবাগান থানায় বিভিন্ন মাদক মামলা রয়েছে বলেও পুলিশের রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ