রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদীতে নিউগিনি প্রোপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে অবৈধভাবে প্রবেশ করে ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের জামাতা মো. মিজানুর রহমানসহ তিনজনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রিমান্ডপ্রাপ্ত অন্য দুই আসামি হলেন- শাহরিয়ার মাহমুদ (৬০) ও মো. শাহ আলম ওরফে অনিক (৪৭)।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এর আগে মিজানুরকে গত ২৯ সেপ্টেম্বর কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আল আমিন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করিলেও এজাহার নামীয় পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার, অজ্ঞাতনামা আসামিদের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র, চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার, ঘটনার মূল রহস্য উৎঘাটন করতে নিবিড় ও গভীরভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড পাওয়া প্রয়োজন।
আদালতে রিমান্ডের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী যুক্তি তুলে ধরেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন দক্ষিন মানিকদীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রোপোর্টিজ লিমিটেড-এর প্রকল্প এলাকায় আনুমানিক ৫০ জন দুষ্কৃতকারী জনতাবদ্ধ হয়ে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে।
এসময় তারা এলোপাতাড়ি প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং রামদা, ছোরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, হামলাকারীরা প্রকল্প এলাকা থেকে নগদ টাকা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, বিআরবি ক্যাবল, ক্যামেরা ও প্রফেশনাল মিডিয়া ইকুইপমেন্টসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে বাদি প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি এবং এক কোটি ৫০ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ওই সময়ে আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিস’ নামের স্টুডিওতে অনাধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাঁচ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
এই ঘটনায় প্রকল্পের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

























