ঢাকা ০৪:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রখ্যাত সম্প্রচারক ও সমাজসেবী এস্থার র‍্যান্টজেন আর নেই

যুক্তরাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপিকা ও সমাজসেবী এস্থার র‍্যান্টজেন ৮৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের শেষ পর্যায়ের ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন তিনি।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পরিবারের এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রয়াণের খবর নিশ্চিত করা হয়। ১৯৭০ ও ৮০-র দশকে বিবিসির ‘দ্যাটস লাইফ!’ অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে তিনি পরিচিতি লাভ করেন।

১৯৭৩ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত প্রচারিত বিবিসির জনপ্রিয় ফ্ল্যাগশিপ শো ‘দ্যাটস লাইফ!’-এর মাধ্যমে বিনোদনের পাশাপাশি বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী ইস্যুতে কাজ করেন এস্থার র‍্যান্টজেন। তার উপস্থাপিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের প্রভাবেই যুক্তরাজ্যে শিশুদের জন্য গাড়ির সিটবেল্ট বাধ্যতামূলক করা হয় এবং খেলার মাঠে আঘাত এড়াতে নিরাপদ মেঝের ব্যবস্থা করা হয়।

শিশু নির্যাতন রুখতে ১৯৮৬ সালে তিনি ‘চাইল্ডলাইন’ নামক ২৪ ঘণ্টার বিনা মূল্যে হেল্পলাইন চালু করেন। পরবর্তীতে ২০১২ সালে একাকী বয়স্কদের সহায়তায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘দ্য সিলভার লাইন’।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ৬৬৯ জন ইহুদি শিশুকে জীবন বাঁচানো নিকোলাস উইন্টনের মহৎ কীর্তি তার অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই প্রথম বিশ্বজুড়ে প্রকাশ পায়। জীবনের শেষভাগে এসে ক্যান্সারে আক্রান্ত র‍্যান্টজেন যুক্তরাজ্যে স্বেচ্ছামৃত্যু বা ‘অ্যাসিস্টেড ডাইং’ আইনি বৈধতা দেওয়ার দাবিতে প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

সুইজারল্যান্ডের ক্লিনিকে গিয়ে স্বেচ্ছামৃত্যু গ্রহণের পরিকল্পনা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছিলেন তিনি। ২০২৫ সালের শেষদিকে ক্যান্সারের যাবতীয় চিকিৎসা বন্ধ করে দেন এই প্রবীণ উপস্থাপিকা।

মানবাধিকার ও জনস্বার্থে নিজের কাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, ‘সামাজিক পরিবর্তন আনার চেষ্টাটা এক ধরনের নেশার মতো।’ ২০০০ সালে তার স্বামী ডেসমন্ড উইলকক্সের মৃত্যুর পর তিনি সামাজিক কাজে আরো গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েন। মৃত্যুকালে তিনি তিন সন্তান ও বহু অনুরাগী রেখে গেছেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

প্রখ্যাত সম্প্রচারক ও সমাজসেবী এস্থার র‍্যান্টজেন আর নেই

আপডেট সময় ০১:৩৮:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপিকা ও সমাজসেবী এস্থার র‍্যান্টজেন ৮৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের শেষ পর্যায়ের ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন তিনি।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পরিবারের এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রয়াণের খবর নিশ্চিত করা হয়। ১৯৭০ ও ৮০-র দশকে বিবিসির ‘দ্যাটস লাইফ!’ অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে তিনি পরিচিতি লাভ করেন।

১৯৭৩ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত প্রচারিত বিবিসির জনপ্রিয় ফ্ল্যাগশিপ শো ‘দ্যাটস লাইফ!’-এর মাধ্যমে বিনোদনের পাশাপাশি বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী ইস্যুতে কাজ করেন এস্থার র‍্যান্টজেন। তার উপস্থাপিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের প্রভাবেই যুক্তরাজ্যে শিশুদের জন্য গাড়ির সিটবেল্ট বাধ্যতামূলক করা হয় এবং খেলার মাঠে আঘাত এড়াতে নিরাপদ মেঝের ব্যবস্থা করা হয়।

শিশু নির্যাতন রুখতে ১৯৮৬ সালে তিনি ‘চাইল্ডলাইন’ নামক ২৪ ঘণ্টার বিনা মূল্যে হেল্পলাইন চালু করেন। পরবর্তীতে ২০১২ সালে একাকী বয়স্কদের সহায়তায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘দ্য সিলভার লাইন’।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ৬৬৯ জন ইহুদি শিশুকে জীবন বাঁচানো নিকোলাস উইন্টনের মহৎ কীর্তি তার অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই প্রথম বিশ্বজুড়ে প্রকাশ পায়। জীবনের শেষভাগে এসে ক্যান্সারে আক্রান্ত র‍্যান্টজেন যুক্তরাজ্যে স্বেচ্ছামৃত্যু বা ‘অ্যাসিস্টেড ডাইং’ আইনি বৈধতা দেওয়ার দাবিতে প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

সুইজারল্যান্ডের ক্লিনিকে গিয়ে স্বেচ্ছামৃত্যু গ্রহণের পরিকল্পনা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছিলেন তিনি। ২০২৫ সালের শেষদিকে ক্যান্সারের যাবতীয় চিকিৎসা বন্ধ করে দেন এই প্রবীণ উপস্থাপিকা।

মানবাধিকার ও জনস্বার্থে নিজের কাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, ‘সামাজিক পরিবর্তন আনার চেষ্টাটা এক ধরনের নেশার মতো।’ ২০০০ সালে তার স্বামী ডেসমন্ড উইলকক্সের মৃত্যুর পর তিনি সামাজিক কাজে আরো গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েন। মৃত্যুকালে তিনি তিন সন্তান ও বহু অনুরাগী রেখে গেছেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ