ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে ম্যানচেস্টার সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে একটি স্বাধীন কমিশন। তবে এই রায়কে স্রেফ ‘প্রিমিয়ার লিগের ষড়যন্ত্রতত্ত্ব’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফেরান সোরিয়ানো।
মঙ্গলবার এক কড়া বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তার ক্লাব আবারও নিজেদের নিরপরাধ প্রমাণ করবে।
২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের সবকটি অভিযোগে সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এর জবাবে ক্লাবটি তাৎক্ষণিকভাবে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করেছে।
এক ভিডিও বার্তায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সোরিয়ানো বলেন, ‘প্রিমিয়ার লিগ কমিশনের একটি নথি প্রকাশ করা হয়েছে, যার মতামত আমাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে গেছে।
এটি আসলে কী, আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে এবং কিভাবে নিজেদের ক্লাবকে রক্ষা করে শেষ পর্যন্ত নিরপরাধ প্রমাণ করা হবে তা আমি স্পষ্ট করতে চাই।’
আপিল বাতিল হলে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে পারে ম্যানচেস্টার সিটি। পয়েন্ট কর্তন কিংবা বড় অংকের জরিমানার পাশাপাশি ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষ বিভাগ থেকে অবনমন (রেলিগেশন) পর্যন্ত হতে পারে তাদের। এমনকি ২০০৮ সালে আবুধাবি মালিকানা আসার পর থেকে এ পর্যন্ত অর্জিত আটটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপাও কেড়ে নেওয়া হতে পারে।
অভিযোগ খারিজ করার মতো ‘অখণ্ডনীয়’ প্রমাণ প্রিমিয়ার লিগকে দেওয়া হয়েছে দাবি করে সোরিয়ানো সিটির পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘পুরো প্রিমিয়ার লিগের মামলাটি একটি একক ও ভিত্তিহীন কাল্পনিক অভিযোগের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। তা হলো—মালিকের ব্যক্তিগত অর্থ নাকি আবুধাবির স্পন্সরদের মাধ্যমে গোপনে ক্লাবে ঢোকানো হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অসত্য। আমরা কমিশনকে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, অর্থ স্থানান্তরের প্রমাণ ও সাক্ষীসহ অখণ্ডনীয় সব তথ্য প্রমাণ দিয়েছি যা স্পষ্ট করে যে এমন কিছু ঘটেওনি, ঘটা সম্ভবও ছিল না।
প্রিমিয়ার লিগ কমিশনের এই রায়কে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ দাবি করে ম্যান সিটির এই কর্মকর্তা জানান, তাদের আইনি দল ইতোমধ্যে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
সোরিয়ানো বলেন, ‘আমাদের এবং আইনজীবীদের জন্য এটি বিস্ময়কর যে প্রায় দুই বছর পর কমিশন প্রিমিয়ার লিগের সেই পুরনো ষোড়যন্ত্র তত্ত্বকেই সমর্থন জানাল। এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ক্লাব কর্তৃপক্ষের দেওয়া পাহাড়সম প্রমাণকে স্রেফ উপেক্ষা করা হয়েছে। আমাদের আইনজীবীরা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে আপিল জমা দেবেন, যেখানে আইনের স্পষ্ট ভুল ও ভুল তথ্যের বিষয়টি তুলে ধরা হবে।’
২০২০ সালে উয়েফার আর্থিক ফেয়ার প্লে ভঙ্গের দায়ে দুই বছরের ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়ে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে আপিল করে জয়ী হয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি।
পুরনো সেই স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে সোরিয়ানো আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, ‘মনে রাখবেন, আমরা আগেও এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি। ২০২০ সালেও একই ধরনের ইস্যুতে আমাদের বিরুদ্ধে ভুল রায় দেওয়া হয়েছিল। আমরা আপিল করে জিতেছিলাম। এবারও আমরা ক্লাবের স্বার্থ রক্ষায় সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেব। খুব শিগগির আমরা এই কঠিন সময় পার করে জয়ী হয়ে ফিরে আসব।’
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ





























