ঢাকা ০৪:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন চাকরিজীবীরা Logo কলেজছাত্র নাঈম হত্যার দায়ে ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড Logo অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার Logo শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অবশিষ্ট চার্জ শুনানি পেছাল Logo নিউগিনি প্রোপার্টিজে হামলা : গ্রেপ্তার তিন আসামি রিমান্ডে Logo গাজী নজরুলের জামিনে আপত্তি নেই মরিয়ম পরিবারের! Logo ভিক্টিম ভিক্টিমের মতো থাকবা, তুমি প্রতিবাদ করবা কেন: আসিফ মাহমুদ Logo ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী Logo এনভিডিয়ার ওপর নির্ভরতা কমাতে হুয়াওয়ের সঙ্গে ডিপসিকের চুক্তি Logo তিস্তার পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

কলেজছাত্র নাঈম হত্যার দায়ে ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রেজাউল করিম নাঈমকে হত্যার দায়ে ৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন জেলা দায়রা জজ আদালত। এ ছাড়া সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় ৫ জনকে মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয়।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মুহাম্মদ রবিউল আউয়াল এই রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন, মো. নুরুল ইসলাম, মো. সাইমন ইসলাম, নাহিদুল ইসলাম রনি, আনোয়ার হোসেন। এদের মধ্যে নাহিদুল ইসলাম রনি ও আনোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছেন।

খালাসপ্রাপ্তরা হলেন, ইমন মিয়া (পলাতক), আল আমিন, সাকির আহমদ শাকিল, পারভীন বেগম, রুখসানা আক্তার জেসি।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় চাঁদা নিতে আসামি নুরুল ইসলাম ও অন্যান্য আসামিরা মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বর্ষিজোড়া গ্রামে চেরাগ মিয়ার বাসায় প্রবেশ করে নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া ও মা শামসুন নাহারকে গালাগালি ও মারধর শুরু করেন। নাঈম ঘটনা থামাতে এগিয়ে গেলে তাকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে আসামিরা। পরে নাঈমকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার দুদিন পর ৯ নভেম্বর নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় মামলা করেন।

দীর্ঘ শুনানি শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮-এর ৩৬৮(১) ধারার বিধানমতে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত চার আসামিকে মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসির রশিতে ঝুলিয়ে কার্যকর করার নির্দেশ দেন আদালতের বিজ্ঞ বিচারক।

পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ড. আব্দুল মতিন চৌধুরী রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, প্রকৃত আসামিদের দণ্ড প্রদানে বাদী পক্ষসহ আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ও শ্রদ্ধা বাড়বে। অপরাধীরা বুঝতে পারবে যে অপরাধ করে আইনি সাজা থেকে রেহাই পাওয়া যায় না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

কলেজছাত্র নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া ও স্বজনরা এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি।

এই রায় দ্রুত কার্যকরে প্রত্যাশা ও পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি করেন তারা।

এদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফনিলাল ধর ও স্বজনরা জানান, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন চাকরিজীবীরা

কলেজছাত্র নাঈম হত্যার দায়ে ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় ০৪:১৩:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রেজাউল করিম নাঈমকে হত্যার দায়ে ৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন জেলা দায়রা জজ আদালত। এ ছাড়া সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় ৫ জনকে মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয়।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মুহাম্মদ রবিউল আউয়াল এই রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন, মো. নুরুল ইসলাম, মো. সাইমন ইসলাম, নাহিদুল ইসলাম রনি, আনোয়ার হোসেন। এদের মধ্যে নাহিদুল ইসলাম রনি ও আনোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছেন।

খালাসপ্রাপ্তরা হলেন, ইমন মিয়া (পলাতক), আল আমিন, সাকির আহমদ শাকিল, পারভীন বেগম, রুখসানা আক্তার জেসি।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় চাঁদা নিতে আসামি নুরুল ইসলাম ও অন্যান্য আসামিরা মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বর্ষিজোড়া গ্রামে চেরাগ মিয়ার বাসায় প্রবেশ করে নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া ও মা শামসুন নাহারকে গালাগালি ও মারধর শুরু করেন। নাঈম ঘটনা থামাতে এগিয়ে গেলে তাকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে আসামিরা। পরে নাঈমকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার দুদিন পর ৯ নভেম্বর নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় মামলা করেন।

দীর্ঘ শুনানি শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮-এর ৩৬৮(১) ধারার বিধানমতে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত চার আসামিকে মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসির রশিতে ঝুলিয়ে কার্যকর করার নির্দেশ দেন আদালতের বিজ্ঞ বিচারক।

পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ড. আব্দুল মতিন চৌধুরী রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, প্রকৃত আসামিদের দণ্ড প্রদানে বাদী পক্ষসহ আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ও শ্রদ্ধা বাড়বে। অপরাধীরা বুঝতে পারবে যে অপরাধ করে আইনি সাজা থেকে রেহাই পাওয়া যায় না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

কলেজছাত্র নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া ও স্বজনরা এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি।

এই রায় দ্রুত কার্যকরে প্রত্যাশা ও পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি করেন তারা।

এদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফনিলাল ধর ও স্বজনরা জানান, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ