প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের দায়ে ম্যানচেস্টার সিটি দোষী সাব্যস্ত হলে ক্লাবটির জন্য শুধু আর্থিক জরিমানা যথেষ্ট শাস্তি হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন ক্লাবটির সাবেক চেয়ারম্যান ডেভিড বার্নস্টেইন।
ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন জানিয়েছে, প্রিমিয়ার লিগের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অধিকাংশ অভিযোগই সত্য প্রমাণিত হতে চলেছে।
সিটির পক্ষ থেকে সরাসরি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা না হলেও এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়াটি এখনো ‘চলমান রয়েছে’। আর গোপনীয়তা রক্ষার খাতিরে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ।
২০০৯-১০ মৌসুম থেকে শুরু হওয়া এসব অভিযোগের সময়কালের মধ্যে ম্যানচেস্টার সিটি একাধিক বড় বড় ট্রফি জিতেছে। তবে ক্লাবটি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা বার্নস্টেইন এই আপিল প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন।
টাইমস রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বার্নস্টেইন বলেন, ‘গতকাল খবরটি শুনে আমি পুরো স্তব্ধ ও মর্মাহত হয়ে পড়েছিলাম। সাবেক চেয়ারম্যান হওয়ার পাশাপাশি আমি ৭০ বছর ধরে এই ক্লাবের অনুরাগী। ক্লাবের এই অসামান্য সাফল্যের যুগটি এভাবে কলঙ্কিত হতে দেখা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে সম্ভাব্য শাস্তি কেমন হওয়া উচিত—এমন প্রশ্নে সিটির সাবেক এই কর্তাধার বলেন, ‘আপিল প্রক্রিয়া শেষ হতে যদি তারা ১১৫টি অভিযোগে দোষী প্রমাণিত হয়, তবে আমার প্রিয় ক্লাবটিকে চরম শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। আমি শুধু এতটুকুই বলব, শুধু অর্থ জরিমানা দিয়ে পার পাওয়াটা যথেষ্ট হবে না, দুর্ভাগ্যবশত শাস্তি হিসেবে আরও বড় ও কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রিটেনের সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব লিসা নন্দি ও সাবেক বিরোধীদলীয় সংস্কৃতিবিষয়ক ছায়াসচিব নাইজেল হাডলস্টন। তারা উভয়েই মত দেন যে, ফুটবলের সততা রক্ষা এবং সমর্থক ও ক্লাবের স্বার্থে এই দীর্ঘায়িত তদন্ত ও আপিল প্রক্রিয়া দ্রুত এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে শেষ করা উচিত।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ


























