অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এ রইছ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া অভিনেতা বিজয় চৌধুরী। বর্তমানে তিনি হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার ছেলে সাবিদ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে অভিনেতার মেয়ে ফিওনা ইসলাম বাবার সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। তিনি লিখেন, ‘আমার বাবা আবু আজাদ চৌধুরী (বিজয়) বর্তমানে অনেক অসুস্থ। তিনি এখন হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছেন এবং চিকিৎসাধীন। আমার বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন তাকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং সকল বিপদ-আপদ থেকে হেফাজত করেন।
সকলের কাছে আন্তরিকভাবে দোয়ার আবেদন রইল। আল্লাহ যেন আমার বাবাকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন। আমিন।’
শুক্রবার সকালে কালের কণ্ঠের সঙ্গে কথা অভিনেতার ছেলে সাবিদ বিন আবু আজাদ চৌধুরীর।
তিনি বলেন, ‘গতকাল বৃহস্পতিবার আব্বু তার এক ভাগ্নের দাওয়াতে সিংগাইর গিয়েছিলেন। সেখানে যাওয়ার পর হঠাৎ করেই বুকে ব্যথা শুরু হয়। এরপর আব্বুকে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে আসা হয় এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকরা জানান, হার্ট অ্যাটাক করেছেন। এখন আব্বুকে পিসিসিইউতে রাখা হয়েছে।’
কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ পরিচালনা করেছেন চাষী নজরুল ইসলাম।
১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি প্রায় তিন দশক পরও দর্শকের কাছে সমানভাবে স্মরণীয়। বিশেষ করে সিনেমার শেষ দৃশ্যে রইছের আত্মত্যাগ আজও আবেগাপ্লুত করে দর্শকদের।
এই একটি চরিত্রই বিজয় চৌধুরীকে এনে দিয়েছিল ব্যাপক পরিচিতি। সিনেমাটিতে অভিনয়ের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ২২ বছর। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতার নাম রাখা হয়েছিল ‘বিজয়’। বর্তমানে ৫৪ বছরে পা দিয়েছেন তিনি। তবে দর্শকের কাছে আজও তার পরিচয় ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এর সেই রইছ।
বিজয় চৌধুরীর জন্ম ও বেড়ে ওঠা রাজধানীর দক্ষিণ বাড্ডায়। ১৯৯৩ সালে পরিচালক রায়হান মুজিবের ‘প্রেমপ্রীতি’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হয় বিজয়ের। এরপর দুই-তিনটি সিনেমায় অভিনয় করলেও রইছ চরিত্রের মতো আর কোনো চরিত্র তাকে সেই পরিচিতি এনে দিতে পারেনি। ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ সিনেমার পর আর কোনো ছবি করেননি বিজয়।
১৯৯৬ সালে সালমা চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বিজয়। এই দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার বাবা মোহাম্মদ মনির চৌধুরী অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী এবং মা মিনা চৌধুরী গৃহিণী। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে বিজয় একজন।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ



























