ঢাকা ১২:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার বব ম্যাকি আর নেই

বিশ্ব বিনোদন দুনিয়ার ঝলমলে আলোকচ্ছটার পেছনের গল্পটি যদি কারো নকশায় আঁকা হয়ে থাকে, তবে তিনি বব ম্যাকি। শের, টিনা টার্নার, ডলি পার্টন কিংবা এলটন জনের মতো কালজয়ী তারকাদের রূপালী পর্দা ও মঞ্চের জাদুকরী উপস্থিতি ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি।

ফ্যাশন জগতে ‘সুলতান অব সিকুইনস’ নামে পরিচিত এই আমেরিকান কস্টিউম ডিজাইনার ৮৭ বছর বয়সে পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে।

১৯৩৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরি পার্কে জন্ম নেওয়া এই পথপ্রদর্শকের ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ফরাসি-আমেরিকান পোশাকশিল্পী জঁ লুইয়ের স্কেচ আর্টিস্ট হিসেবে। ১৯৬২ সালে জন এফ কেনেডিকে ‘হ্যাপি বার্থডে’ গাওয়ার রাতে মেরিলিন মনরোর পরা আইকনিক পোশাকটির স্কেচও একেছিলেন তিনি। সেখান থেকে শুরু করে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৯টি এমি, একটি টনি অ্যাওয়ার্ড আর তিনটি অস্কার মনোনয়ন অর্জন করেন তিনি।

পপতারকা শের-এর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে প্রভাবশালী রূপকার ছিলেন ম্যাকি। ১৯৮৬ সালের অস্কারে শের-এর পরা ঐতিহাসিক ‘মোহক’ শিরোভূষণ ও সাহসী পোশাকটির ডিজাইনার ছিলেন তিনিই। মার্কিন টেলিভিশনে প্রথমবারের মতো পোশাকের মাধ্যমে তারকার নাভি প্রদর্শনের মতো সাহসী পদক্ষেপের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার নকশার। নবীন প্রজন্মের সঙ্গেও তিনি ছিলেন সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

২০২৪ সালের গ্র্যামিতে মাইলি সাইরাসের বিজয়ী মুহূর্তের পোশাক কিংবা সম্প্রতি সাবরিনা কার্পেন্টারের রেড কার্পেট লুক—সবকিছুতেই ছিল তার ছোঁয়া।

জীবনের শেষ দিনগুলো পর্যন্ত কাজ করে যাওয়া এই শিল্পী একবার বলেছিলেন, কাজ থেকেই কখনো অবসর নিতে চান না তিনি। ৮৭ বছরের দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ জীবন শেষে তার প্রয়াণে ফ্যাশন দুনিয়ায় একটি উজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল, তবে তার তৈরি চোখধাঁধানো সৃষ্টিগুলো তারকাদের রূপালী ছন্দে চিরকাল বেঁচে থাকবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার বব ম্যাকি আর নেই

আপডেট সময় ১১:২১:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ব বিনোদন দুনিয়ার ঝলমলে আলোকচ্ছটার পেছনের গল্পটি যদি কারো নকশায় আঁকা হয়ে থাকে, তবে তিনি বব ম্যাকি। শের, টিনা টার্নার, ডলি পার্টন কিংবা এলটন জনের মতো কালজয়ী তারকাদের রূপালী পর্দা ও মঞ্চের জাদুকরী উপস্থিতি ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি।

ফ্যাশন জগতে ‘সুলতান অব সিকুইনস’ নামে পরিচিত এই আমেরিকান কস্টিউম ডিজাইনার ৮৭ বছর বয়সে পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে।

১৯৩৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরি পার্কে জন্ম নেওয়া এই পথপ্রদর্শকের ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ফরাসি-আমেরিকান পোশাকশিল্পী জঁ লুইয়ের স্কেচ আর্টিস্ট হিসেবে। ১৯৬২ সালে জন এফ কেনেডিকে ‘হ্যাপি বার্থডে’ গাওয়ার রাতে মেরিলিন মনরোর পরা আইকনিক পোশাকটির স্কেচও একেছিলেন তিনি। সেখান থেকে শুরু করে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৯টি এমি, একটি টনি অ্যাওয়ার্ড আর তিনটি অস্কার মনোনয়ন অর্জন করেন তিনি।

পপতারকা শের-এর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে প্রভাবশালী রূপকার ছিলেন ম্যাকি। ১৯৮৬ সালের অস্কারে শের-এর পরা ঐতিহাসিক ‘মোহক’ শিরোভূষণ ও সাহসী পোশাকটির ডিজাইনার ছিলেন তিনিই। মার্কিন টেলিভিশনে প্রথমবারের মতো পোশাকের মাধ্যমে তারকার নাভি প্রদর্শনের মতো সাহসী পদক্ষেপের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার নকশার। নবীন প্রজন্মের সঙ্গেও তিনি ছিলেন সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

২০২৪ সালের গ্র্যামিতে মাইলি সাইরাসের বিজয়ী মুহূর্তের পোশাক কিংবা সম্প্রতি সাবরিনা কার্পেন্টারের রেড কার্পেট লুক—সবকিছুতেই ছিল তার ছোঁয়া।

জীবনের শেষ দিনগুলো পর্যন্ত কাজ করে যাওয়া এই শিল্পী একবার বলেছিলেন, কাজ থেকেই কখনো অবসর নিতে চান না তিনি। ৮৭ বছরের দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ জীবন শেষে তার প্রয়াণে ফ্যাশন দুনিয়ায় একটি উজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল, তবে তার তৈরি চোখধাঁধানো সৃষ্টিগুলো তারকাদের রূপালী ছন্দে চিরকাল বেঁচে থাকবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ