ঢাকা ১২:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ইসি ঘোষিত ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে সরকার জানে না : প্রতিমন্ত্রী Logo দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও ইন্টারের মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তন Logo দুর্নীতির মামলায় এস কে সুরের স্ত্রী সুপর্ণার ২ বছরের কারাদণ্ড Logo বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo সঙ্গীর খোঁজে ৪ হাজার কিলোমিটার : আফ্রিকান বন্য কুকুর দলের অবিশ্বাস্য যাত্রা Logo টেস্ট থেকে অবসরের ইঙ্গিত স্মিথের Logo নাট্য নির্মাতা মারুফ হোসেন সজীব আর নেই Logo নাসিরনগরে স্পিডবোট-বাল্কহেড মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২ Logo মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবারের মতো স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র Logo শহীদ ২ সেনা সদস্যের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবারের মতো স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করেছে, তারা পৃথিবীর কক্ষপথে একটি মহাকাশভিত্তিক অস্ত্র মোতায়েন করেছে। এটি শত্রুর হামলা থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে রক্ষা করতে ব্যবহার করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর সচিব ট্রয় মেইনক বলেছেন, শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য হামলা থেকে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে কক্ষপথে এই অস্ত্র মোতায়েন করা জরুরি ছিল।

সোমবার ‘এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্সে’ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশে বাড়তে থাকা হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। তবে অস্ত্রটির ক্ষমতা কী এবং ঠিক কবে এটি কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। এর আগে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।

তারা রাশিয়া ও চীনের সামরিক কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন, ভবিষ্যতে সংঘাত হলে এসব দেশের পক্ষ থেকে মার্কিন স্যাটেলাইটে হামলা বা সেগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশপথ থেকে আসা অন্যান্য হামলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা করাই এই ব্যবস্থার লক্ষ্য। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা এবং শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

১৯৬৭ সালের একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে মহাকাশে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করা হয়। তবে এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মতো বড় দেশগুলো মহাকাশে বিভিন্ন ধরনের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। এর মধ্যে প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইটে হামলা বা সেগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত করার সক্ষমতাও রয়েছে। সামরিক যোগাযোগ, নজরদারি এবং দিকনির্ণয়ের জন্য এসব স্যাটেলাইট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন।

এতে ইউএস স্পেস ফোর্সের ভূমিকা আরো বাড়ানোর কথা বলা হয়। শুধু মার্কিন মহাকাশ সম্পদ রক্ষা নয়, প্রয়োজনে আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতাও এই বাহিনীর থাকতে হবে বলে জানানো হয়। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ‘ইউএস স্পেস ফোর্স’ গঠন করে। এটি সাত দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে দেশটির সামরিক বাহিনীর নতুনতম শাখা। মহাকাশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক সম্পদ রক্ষা করাই এই বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য। এর মধ্যে যোগাযোগ ও নজরদারির কাজে ব্যবহৃত শত শত স্যাটেলাইটও রয়েছে।

মার্কিন স্পেস ফোর্সের এক মুখপাত্র বলেছেন, মহাকাশ নিয়ন্ত্রণের অর্থ হলো প্রতিপক্ষের মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতাকে নজরদারি করা এবং প্রয়োজনে তা ব্যাহত, দুর্বল বা ধ্বংস করার ব্যবস্থা নেওয়া।

তিনি বলেন, এসব সক্ষমতা প্রয়োজনে যুদ্ধের সময় আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক, দুই ধরনের কাজেই ব্যবহার করা যেতে পারে। এদিকে ফেব্রুয়ারির শুরুতে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর থেকে দুটি রুশ স্যাটেলাইট ইউরোপের অন্তত ১২টি স্যাটেলাইটের যোগাযোগ ব্যবস্থায় সম্ভবত নজরদারি চালিয়েছে। এ ঘটনায় মহাকাশে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের মধ্যে সামরিক প্রতিযোগিতা আরো বাড়ছে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এই ধরনের আড়িপাতার মাধ্যমে রুশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো স্যাটেলাইটে পাঠানো গোপন তথ্য জানতে পারত। এমনকি তাত্ত্বিকভাবে তারা কোনো স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টাও করতে পারত। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, রাশিয়া এমন একটি স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠিয়েছে, যেটি অন্য স্যাটেলাইট বা মহাকাশযানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হতে পারে বলে তারা মনে করে।

তবে এ বিষয়ে রাশিয়া প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। মার্কিন স্পেস ফোর্সের মতে, চীন তার সামরিক শক্তি আধুনিক করার অংশ হিসেবে মহাকাশ ও মহাকাশবিরোধী সামরিক সক্ষমতা তৈরি করছে। অন্যদিকে রাশিয়াও মহাকাশকে ভবিষ্যতের যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখে। মার্কিন স্পেস ফোর্সের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়া মনে করে ভবিষ্যতের যুদ্ধে মহাকাশে আধিপত্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

ইসি ঘোষিত ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে সরকার জানে না : প্রতিমন্ত্রী

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবারের মতো স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় ১১:৪৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করেছে, তারা পৃথিবীর কক্ষপথে একটি মহাকাশভিত্তিক অস্ত্র মোতায়েন করেছে। এটি শত্রুর হামলা থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে রক্ষা করতে ব্যবহার করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর সচিব ট্রয় মেইনক বলেছেন, শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য হামলা থেকে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে কক্ষপথে এই অস্ত্র মোতায়েন করা জরুরি ছিল।

সোমবার ‘এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্সে’ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশে বাড়তে থাকা হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। তবে অস্ত্রটির ক্ষমতা কী এবং ঠিক কবে এটি কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। এর আগে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।

তারা রাশিয়া ও চীনের সামরিক কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন, ভবিষ্যতে সংঘাত হলে এসব দেশের পক্ষ থেকে মার্কিন স্যাটেলাইটে হামলা বা সেগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশপথ থেকে আসা অন্যান্য হামলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা করাই এই ব্যবস্থার লক্ষ্য। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা এবং শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

১৯৬৭ সালের একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে মহাকাশে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করা হয়। তবে এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মতো বড় দেশগুলো মহাকাশে বিভিন্ন ধরনের সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। এর মধ্যে প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইটে হামলা বা সেগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত করার সক্ষমতাও রয়েছে। সামরিক যোগাযোগ, নজরদারি এবং দিকনির্ণয়ের জন্য এসব স্যাটেলাইট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন।

এতে ইউএস স্পেস ফোর্সের ভূমিকা আরো বাড়ানোর কথা বলা হয়। শুধু মার্কিন মহাকাশ সম্পদ রক্ষা নয়, প্রয়োজনে আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতাও এই বাহিনীর থাকতে হবে বলে জানানো হয়। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ‘ইউএস স্পেস ফোর্স’ গঠন করে। এটি সাত দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে দেশটির সামরিক বাহিনীর নতুনতম শাখা। মহাকাশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক সম্পদ রক্ষা করাই এই বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য। এর মধ্যে যোগাযোগ ও নজরদারির কাজে ব্যবহৃত শত শত স্যাটেলাইটও রয়েছে।

মার্কিন স্পেস ফোর্সের এক মুখপাত্র বলেছেন, মহাকাশ নিয়ন্ত্রণের অর্থ হলো প্রতিপক্ষের মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতাকে নজরদারি করা এবং প্রয়োজনে তা ব্যাহত, দুর্বল বা ধ্বংস করার ব্যবস্থা নেওয়া।

তিনি বলেন, এসব সক্ষমতা প্রয়োজনে যুদ্ধের সময় আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক, দুই ধরনের কাজেই ব্যবহার করা যেতে পারে। এদিকে ফেব্রুয়ারির শুরুতে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর থেকে দুটি রুশ স্যাটেলাইট ইউরোপের অন্তত ১২টি স্যাটেলাইটের যোগাযোগ ব্যবস্থায় সম্ভবত নজরদারি চালিয়েছে। এ ঘটনায় মহাকাশে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের মধ্যে সামরিক প্রতিযোগিতা আরো বাড়ছে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এই ধরনের আড়িপাতার মাধ্যমে রুশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো স্যাটেলাইটে পাঠানো গোপন তথ্য জানতে পারত। এমনকি তাত্ত্বিকভাবে তারা কোনো স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টাও করতে পারত। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, রাশিয়া এমন একটি স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠিয়েছে, যেটি অন্য স্যাটেলাইট বা মহাকাশযানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হতে পারে বলে তারা মনে করে।

তবে এ বিষয়ে রাশিয়া প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। মার্কিন স্পেস ফোর্সের মতে, চীন তার সামরিক শক্তি আধুনিক করার অংশ হিসেবে মহাকাশ ও মহাকাশবিরোধী সামরিক সক্ষমতা তৈরি করছে। অন্যদিকে রাশিয়াও মহাকাশকে ভবিষ্যতের যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখে। মার্কিন স্পেস ফোর্সের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়া মনে করে ভবিষ্যতের যুদ্ধে মহাকাশে আধিপত্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ