ঢাকা ০৪:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo একসাথে নেই সৃজিত-মিথিলা, বিচ্ছেদের ইঙ্গিত দিলেন নিজেই Logo যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি এড়িয়ে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার স্থানান্তর করেছে ইরান Logo দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে গুলি, আসামি মঞ্জুরুল রিমান্ডে Logo দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর জমির দখল বুঝিয়ে পেলেন লিপি রাণী সরকার Logo কুষ্টিয়ায় নৈশপ্রহরীদের বেঁধে স্বর্ণের দোকানসহ ৫ প্রতিষ্ঠানে ডাকাতি Logo ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী Logo মৈত্রী এক্সপ্রেস নিয়ে খুব শিগগিরই ভালো খবর দিতে পারব: ভারতীয় হাইকমিশনার Logo আওয়ামী লীগ-অন্তর্বর্তীসহ বর্তমান সরকারের দুর্নীতির হিসাব খতিয়ে দেখবে সরকারি হিসাব কমিটি: তাহের Logo ‘ওরা বড্ড জঘন্য’— ইপিএল থেকে ফিরে লা লিগার দল নিয়ে রদ্রি Logo আগাথা ক্রিস্টির সৃষ্টি ‘পোয়ারো’ এবার নতুন রূপে পর্দায়

বাজার চাঙ্গা পাটের, ন্যায্য দামে হাসিমুখ কৃষকের

ছয় বিঘা জমিতে এবছর পাটের আবাদ করেন নজরুল ইসলাম। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ধরলার চর বড়লই এলাকার এই চাষি পাট কেটে তা জাগ দিয়েছেন পাশের ধরলা নদীতে।

ফলে পানির জন্য ভুগতে হয়নি। বাজারে দাম পেয়েছেন ভালো।

শুধু নজরুল নন, উৎপাদন খরচ বাড়লেও এবছর পাটের দাম ভালো পাওয়ায় লাভবান হয়েছেন জেলার অধিকাংশ কৃষক। বেসরকারি পাটক্রয় কেন্দ্রের ক্রেতা না আসলেও স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মজুদদাররা পাট কিনে গুদামজাত করছেন।

ফলে দিনে দিনে বাড়ছে বাজারে পাটের চাহিদা। বাড়ছে দামও।

নজরুল জানান, নদীর পানিতে জাগ দেয়ায় পাটের রং ও মান ভালো হয়েছে। প্রথমে খরা ও পরে বৃষ্টিতে পাটের আবাদ ভালো হয়েছে।

প্রতিমণ পাটে গত বছরের চেয়ে অন্তত ৫০০ টাকা বেশি দাম পাচ্ছেন। তিনি জানান, তার ভাইও পাটের আবাদ করেছেন ১৫ বিঘা জমিতে। পাট বিক্রির জন্য হাটেও যেতে হচ্ছে না তাদের। চাহিদা বেশি থাকায় বাড়িতে এসে পাইকাররা পাট নিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে, মোকামের চেয়ে স্থানীয় বাজারে পাটের দাম বেশি থাকায় হাসি ফুটেছে পাটচাষিদের মুখে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় পাটচাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে চাষ হয়েছে ১৫ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে।

সরেজমিন বিভিন্ন এলাকা ও বাজার ঘুরে জানা গেছে, এরইমধ্যে জমি থেকে পাটকাটা প্রায় শেষ। হাট-বাজারে পাটের ভরা মৌসুমে ভালো দাম পেয়ে কৃষকও খুশি। বর্তমানে প্রতিমণ পাট মানভেদে বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ৮০০ টাকা থেকে চার হাজার ৫০০ টাকায়। মৌসুমের শুরুর দিকে দাম কিছুটা কম থাকলেও বাজার এখন চাঙ্গা।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী হাটের পাট ব্যবসায়ী জীবন ঘোষ জানান, তারা গুদাম ভাড়া করে বেশি মুনাফার আশায় পাট কিনে মজুদ করছেন। বেসরকারি কম্পানি পাট কেনা শুরু করলে দাম বাড়তে পারে, তখন বিক্রি করবেন।

আরেক পাট ব্যবসায়ী বাবুল আখতার বীর জানান, অন্যান্য বছর এসময় ট্রাকযোগে এই এলাকার পাট খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকায় চলে যেতো। এবার মোকামের চেয়ে স্থানীয় বাজারে দাম বেশি। ফলে বাইরের ব্যবসায়ী আসছেন না, স্থানীয়রাই মজুদ করছেন।

যাত্রাপুর হাটের পাট ব্যবসায়ী শরীফ আলম জানান, চরাঞ্চলে এবার পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। নদীপারে হাট হওয়ায় নৌকাযোগে প্রচুর পাট আসছে হাটে।

কুড়িগ্রাম জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ মো. মেহেদী হাসান বলেন, আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এবছর সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে চাষিদের পাট জাগ দিতে অনেক বিপাকে পড়তে হয়েছে। তার পরও ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় কৃষক লাভবান হচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

একসাথে নেই সৃজিত-মিথিলা, বিচ্ছেদের ইঙ্গিত দিলেন নিজেই

বাজার চাঙ্গা পাটের, ন্যায্য দামে হাসিমুখ কৃষকের

আপডেট সময় ০৩:০১:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছয় বিঘা জমিতে এবছর পাটের আবাদ করেন নজরুল ইসলাম। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ধরলার চর বড়লই এলাকার এই চাষি পাট কেটে তা জাগ দিয়েছেন পাশের ধরলা নদীতে।

ফলে পানির জন্য ভুগতে হয়নি। বাজারে দাম পেয়েছেন ভালো।

শুধু নজরুল নন, উৎপাদন খরচ বাড়লেও এবছর পাটের দাম ভালো পাওয়ায় লাভবান হয়েছেন জেলার অধিকাংশ কৃষক। বেসরকারি পাটক্রয় কেন্দ্রের ক্রেতা না আসলেও স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মজুদদাররা পাট কিনে গুদামজাত করছেন।

ফলে দিনে দিনে বাড়ছে বাজারে পাটের চাহিদা। বাড়ছে দামও।

নজরুল জানান, নদীর পানিতে জাগ দেয়ায় পাটের রং ও মান ভালো হয়েছে। প্রথমে খরা ও পরে বৃষ্টিতে পাটের আবাদ ভালো হয়েছে।

প্রতিমণ পাটে গত বছরের চেয়ে অন্তত ৫০০ টাকা বেশি দাম পাচ্ছেন। তিনি জানান, তার ভাইও পাটের আবাদ করেছেন ১৫ বিঘা জমিতে। পাট বিক্রির জন্য হাটেও যেতে হচ্ছে না তাদের। চাহিদা বেশি থাকায় বাড়িতে এসে পাইকাররা পাট নিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে, মোকামের চেয়ে স্থানীয় বাজারে পাটের দাম বেশি থাকায় হাসি ফুটেছে পাটচাষিদের মুখে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় পাটচাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে চাষ হয়েছে ১৫ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে।

সরেজমিন বিভিন্ন এলাকা ও বাজার ঘুরে জানা গেছে, এরইমধ্যে জমি থেকে পাটকাটা প্রায় শেষ। হাট-বাজারে পাটের ভরা মৌসুমে ভালো দাম পেয়ে কৃষকও খুশি। বর্তমানে প্রতিমণ পাট মানভেদে বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ৮০০ টাকা থেকে চার হাজার ৫০০ টাকায়। মৌসুমের শুরুর দিকে দাম কিছুটা কম থাকলেও বাজার এখন চাঙ্গা।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী হাটের পাট ব্যবসায়ী জীবন ঘোষ জানান, তারা গুদাম ভাড়া করে বেশি মুনাফার আশায় পাট কিনে মজুদ করছেন। বেসরকারি কম্পানি পাট কেনা শুরু করলে দাম বাড়তে পারে, তখন বিক্রি করবেন।

আরেক পাট ব্যবসায়ী বাবুল আখতার বীর জানান, অন্যান্য বছর এসময় ট্রাকযোগে এই এলাকার পাট খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকায় চলে যেতো। এবার মোকামের চেয়ে স্থানীয় বাজারে দাম বেশি। ফলে বাইরের ব্যবসায়ী আসছেন না, স্থানীয়রাই মজুদ করছেন।

যাত্রাপুর হাটের পাট ব্যবসায়ী শরীফ আলম জানান, চরাঞ্চলে এবার পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। নদীপারে হাট হওয়ায় নৌকাযোগে প্রচুর পাট আসছে হাটে।

কুড়িগ্রাম জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ মো. মেহেদী হাসান বলেন, আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এবছর সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে চাষিদের পাট জাগ দিতে অনেক বিপাকে পড়তে হয়েছে। তার পরও ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় কৃষক লাভবান হচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ