ঢাকা ০৫:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ‘বংশের নাম থাকলেও সাফল্য ধরে রাখতে লড়াই’, জন্মদিনে ঋষি কাপুরের সেই কথা Logo গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে না সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী Logo কেরালায় ১০ বছর পালিয়ে ছিলেন ধর্ষণ মামলার আসামি, অবশেষে গ্রেপ্তার Logo জনস্বার্থ বিষয়ক প্রকল্পের অর্থায়নে নতুন উৎসের খোঁজে সরকার: অর্থমন্ত্রী Logo বিভিন্ন দেশে পালানো রেকর্ড ৬০ লাখ আফগানী ফিরেছে আফগানিস্তানে Logo এআই ছাড়া মানুষ যেন ‘অদক্ষ বানর’, খোঁচা ইলন মাস্কের Logo দুশ্চিন্তা ও বিষাদ দূর করার দোয়া Logo ফেসবুকের ভেরিফায়েড ব্যাজ এবার মিলবে ফ্রিতে Logo পে স্কেলের গেজেট চূড়ান্ত পর্যায়ে, প্রজ্ঞাপনের পর আছে আরো কয়েক ধাপ Logo সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করার ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

আজও সুরে মাতাচ্ছেন সাবিনা ইয়াসমিন

বাংলা গানের আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র সাবিনা ইয়াসমিন। শৈশবেই সুরের ভুবনে পা রাখেন। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে শ্রতাদের সুরের মায়াজালে বেঁধেছেন। সত্তর পেরিয়েও তাঁর কণ্ঠের জাদুকরি মূর্ছনা আজও মুগ্ধ করে রাখে শ্রোতাদের। গেল ঈদুল ফিতরে মুক্তি প্রাপ্ত ‘দম’ সিনেমায় গায়িকার তুমুল জনপ্রিয় গান ‘এই মন তোমাকে দিলাম’-এ নতুন কণ্ঠ দিয়েছিলেন। এরইমাধ্যমে দীর্ঘদিন পরে নেপথ্য শিল্পী হিসেবে পাওয়া যায় তাঁকে। আজ গায়িকা পা রাখলেন ৭৩ বছরে।

১৯৫৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার কপোতাক্ষ তীরের আবহ আর সুরের মায়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পৈতৃক নিবাস সাতক্ষীরা হলেও তাঁর জন্ম ও প্রাথমিক জীবন কেটেছে ঢাকায়। সংগীতানুরাগী পরিবারে তাঁর বেড়ে ওঠা। মা মৌলুদা খাতুনের কাছে তাঁর প্রথম গানের হাতেখড়ি। তাঁর চার বোনের মধ্যে ফরিদা ইয়াসমিন, ফওজিয়া খান ও নীলুফার ইয়াসমিন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী। সংগীতাচর্চার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায়ও তিনি ছিলেন সমান মেধাবী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

শৈশবে সুরের ভুবনে পা রাখা সাবিনা মাত্র ৭ বছর বয়সে মঞ্চে গান পরিবেশন শুরু করেন। ১৯৬২ সালে সুরকার রবীন ঘোষের সুরে শিশুশিল্পী হিসেবে প্রথম গানে কণ্ঠ দেন। এরপর ১৯৬৭ সালে প্রখ্যাত পরিচালক জহির রায়হানের ‘আগুন নিয়ে খেলা’ চলচ্চিত্রে ‘মধুর জোছনা দীপালি’ গানে প্লে ব্যাক শিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু হয়।

প্রায় পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য সংগীতজীবনে তিনি উপহার দিয়েছেন কালজয়ী সব দেশাত্মবোধক গান, চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় গান, ধ্রুপদ, লোকসংগীত ও আধুনিক বাংলা গান। চলচ্চিত্রের গানে রেকর্ড গড়ে তিনি দশ হাজারের বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। কিংবদন্তি অভিনেত্রী কবরী থেকে শুরু করে শাবনাজ, ববিতা হয়ে বর্তমান প্রজন্মের নায়িকাদের লিপেও তাঁর কণ্ঠ সমান জনপ্রিয়তা পেয়েছে। প্রখ্যাত শিল্পী আব্দুল আলীম থেকে শুরু করে বর্তমান প্রজন্মের শিল্পীদের সঙ্গেও সমান তালে গান গেয়েছেন তিনি। কিংবদন্তি সুরকার আর ডি বর্মণের সুরে গান গাওয়ার দুর্লভ সুযোগও হয়েছে তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে।

সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি লাভ করেছেন দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদক (১৯৮৪) ও স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৯৬)। চলচ্চিত্রে অনবদ্য গায়কীর জন্য রেকর্ড সংখ্যক চৌদ্দবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন এই গুণী শিল্পী। এ ছাড়া ১৯৮৫ সালে ভারত থেকে সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ইংল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে, হংকং, আমেরিকা, বাহরাইন, ভারত ও পাকিস্তানসহ পৃথিবীর নানা প্রান্তে বাংলা গানকে সমাদৃত করেছেন এই শিল্পী। গানের পাশাপাশি বরেণ্য নির্মাতা গাজী মাজহারুল আনোয়ারের ‘উল্কা’ সিনেমায় অভিনয় করেও বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

‘বংশের নাম থাকলেও সাফল্য ধরে রাখতে লড়াই’, জন্মদিনে ঋষি কাপুরের সেই কথা

আজও সুরে মাতাচ্ছেন সাবিনা ইয়াসমিন

আপডেট সময় ০৪:৩৭:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলা গানের আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র সাবিনা ইয়াসমিন। শৈশবেই সুরের ভুবনে পা রাখেন। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে শ্রতাদের সুরের মায়াজালে বেঁধেছেন। সত্তর পেরিয়েও তাঁর কণ্ঠের জাদুকরি মূর্ছনা আজও মুগ্ধ করে রাখে শ্রোতাদের। গেল ঈদুল ফিতরে মুক্তি প্রাপ্ত ‘দম’ সিনেমায় গায়িকার তুমুল জনপ্রিয় গান ‘এই মন তোমাকে দিলাম’-এ নতুন কণ্ঠ দিয়েছিলেন। এরইমাধ্যমে দীর্ঘদিন পরে নেপথ্য শিল্পী হিসেবে পাওয়া যায় তাঁকে। আজ গায়িকা পা রাখলেন ৭৩ বছরে।

১৯৫৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার কপোতাক্ষ তীরের আবহ আর সুরের মায়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পৈতৃক নিবাস সাতক্ষীরা হলেও তাঁর জন্ম ও প্রাথমিক জীবন কেটেছে ঢাকায়। সংগীতানুরাগী পরিবারে তাঁর বেড়ে ওঠা। মা মৌলুদা খাতুনের কাছে তাঁর প্রথম গানের হাতেখড়ি। তাঁর চার বোনের মধ্যে ফরিদা ইয়াসমিন, ফওজিয়া খান ও নীলুফার ইয়াসমিন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী। সংগীতাচর্চার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায়ও তিনি ছিলেন সমান মেধাবী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

শৈশবে সুরের ভুবনে পা রাখা সাবিনা মাত্র ৭ বছর বয়সে মঞ্চে গান পরিবেশন শুরু করেন। ১৯৬২ সালে সুরকার রবীন ঘোষের সুরে শিশুশিল্পী হিসেবে প্রথম গানে কণ্ঠ দেন। এরপর ১৯৬৭ সালে প্রখ্যাত পরিচালক জহির রায়হানের ‘আগুন নিয়ে খেলা’ চলচ্চিত্রে ‘মধুর জোছনা দীপালি’ গানে প্লে ব্যাক শিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু হয়।

প্রায় পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য সংগীতজীবনে তিনি উপহার দিয়েছেন কালজয়ী সব দেশাত্মবোধক গান, চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় গান, ধ্রুপদ, লোকসংগীত ও আধুনিক বাংলা গান। চলচ্চিত্রের গানে রেকর্ড গড়ে তিনি দশ হাজারের বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। কিংবদন্তি অভিনেত্রী কবরী থেকে শুরু করে শাবনাজ, ববিতা হয়ে বর্তমান প্রজন্মের নায়িকাদের লিপেও তাঁর কণ্ঠ সমান জনপ্রিয়তা পেয়েছে। প্রখ্যাত শিল্পী আব্দুল আলীম থেকে শুরু করে বর্তমান প্রজন্মের শিল্পীদের সঙ্গেও সমান তালে গান গেয়েছেন তিনি। কিংবদন্তি সুরকার আর ডি বর্মণের সুরে গান গাওয়ার দুর্লভ সুযোগও হয়েছে তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে।

সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি লাভ করেছেন দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদক (১৯৮৪) ও স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৯৬)। চলচ্চিত্রে অনবদ্য গায়কীর জন্য রেকর্ড সংখ্যক চৌদ্দবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন এই গুণী শিল্পী। এ ছাড়া ১৯৮৫ সালে ভারত থেকে সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ইংল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে, হংকং, আমেরিকা, বাহরাইন, ভারত ও পাকিস্তানসহ পৃথিবীর নানা প্রান্তে বাংলা গানকে সমাদৃত করেছেন এই শিল্পী। গানের পাশাপাশি বরেণ্য নির্মাতা গাজী মাজহারুল আনোয়ারের ‘উল্কা’ সিনেমায় অভিনয় করেও বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস