ঢাকা ০৬:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

‘বংশের নাম থাকলেও সাফল্য ধরে রাখতে লড়াই’, জন্মদিনে ঋষি কাপুরের সেই কথা

বলিউডের অন্যতম পরিচিত মুখ ঋষি কাপুর। প্রায় পাঁচ দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে রোমান্টিক নায়ক থেকে শক্তিশালী চরিত্রাভিনেতা—বিভিন্ন ভূমিকায় দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

কাপুর পরিবারের মতো প্রভাবশালী পরিবারে জন্ম হলেও নিজের সাফল্য ধরে রাখতে পরিশ্রম ও সততার ওপরই জোর দিতেন এই অভিনেতা।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঋষি কাপুরের জন্মদিন। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে, ফিরে দেখা যায় তার বলা সাফল্য ও পারিবারিক উত্তরাধিকার নিয়ে সেই গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো।

এক সাক্ষাৎকারে ঋষি কাপুর বলেছিলেন, ‘পারিবারিক পরিচয় হয়তো কাউকে সুযোগ এনে দিতে পারে।

তবে সেই সুযোগ ধরে রাখা সহজ নয়। নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে নিয়মিত পরিশ্রম করতে হয়। বংশের পরিচয় থাকলেও সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতে লড়াই করতে হয় এবং কাজের প্রতি আন্তরিক থাকতে হয়।’

ঋষি কাপুরের বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল—পরিবারের নাম কাউকে শুরুতে এগিয়ে দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করে নিজের কাজ ও যোগ্যতার ওপর।

উল্লেখ্য ১৯৭৩ সালে ‘ববি’ সিনেমার মাধ্যমে নায়ক হিসেবে বড় সাফল্য পান ঋষি কাপুর। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি রোমান্টিক নায়ক হিসেবে বলিউডে জনপ্রিয় ছিলেন।

তবে ক্যারিয়ারের একপর্যায়ে তিনি নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চরিত্রাভিনেতা হিসেবে নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন।

এই পরিবর্তন তার ক্যারিয়ারকে আরও সমৃদ্ধ করে।

নতুন প্রজন্মের অভিনেতা ও নির্মাতাদের সঙ্গেও কাজ করার সুযোগ পান তিনি।

ঋষি কাপুরের সেই বক্তব্য শুধু বলিউড নয়, জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক। পারিবারিক পরিচয়, সুযোগ বা সুবিধা কাউকে এগিয়ে দিতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন সাফল্য ধরে রাখতে প্রয়োজন পরিশ্রম, সততা এবং নিজেকে সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা।

ঋষি কাপুরের নিজের ক্যারিয়ারও যেন তারই উদাহরণ। শুরুতে পারিবারিক পরিচয় ও সুযোগ থাকলেও পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে দর্শকের কাছে নিজের জায়গা ধরে রেখেছিলেন তিনি কাজের মাধ্যমে।

১৯৫২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ে জন্ম ঋষি কাপুরের। কাপুর পরিবারের সন্তান হিসেবে ছোটবেলাতেই অভিনয়ে পা রাখেন তিনি। ‘মেরা নাম জোকার’ সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন।

পরে ‘ববি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ একাধিক সম্মাননা।

২০২০ সালের ৩০ এপ্রিল ৬৭ বছর বয়সে মারা যান ঋষি কাপুর। তবে তাঁর অভিনয় এবং সাফল্য নিয়ে বলা কথাগুলো এখনো দর্শক ও ভক্তদের মধ্যে আলোচিত।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

আমলকি খাওয়ার গুণাগুণ

‘বংশের নাম থাকলেও সাফল্য ধরে রাখতে লড়াই’, জন্মদিনে ঋষি কাপুরের সেই কথা

আপডেট সময় ০৫:৪১:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বলিউডের অন্যতম পরিচিত মুখ ঋষি কাপুর। প্রায় পাঁচ দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে রোমান্টিক নায়ক থেকে শক্তিশালী চরিত্রাভিনেতা—বিভিন্ন ভূমিকায় দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

কাপুর পরিবারের মতো প্রভাবশালী পরিবারে জন্ম হলেও নিজের সাফল্য ধরে রাখতে পরিশ্রম ও সততার ওপরই জোর দিতেন এই অভিনেতা।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঋষি কাপুরের জন্মদিন। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে, ফিরে দেখা যায় তার বলা সাফল্য ও পারিবারিক উত্তরাধিকার নিয়ে সেই গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো।

এক সাক্ষাৎকারে ঋষি কাপুর বলেছিলেন, ‘পারিবারিক পরিচয় হয়তো কাউকে সুযোগ এনে দিতে পারে।

তবে সেই সুযোগ ধরে রাখা সহজ নয়। নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে নিয়মিত পরিশ্রম করতে হয়। বংশের পরিচয় থাকলেও সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতে লড়াই করতে হয় এবং কাজের প্রতি আন্তরিক থাকতে হয়।’

ঋষি কাপুরের বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল—পরিবারের নাম কাউকে শুরুতে এগিয়ে দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করে নিজের কাজ ও যোগ্যতার ওপর।

উল্লেখ্য ১৯৭৩ সালে ‘ববি’ সিনেমার মাধ্যমে নায়ক হিসেবে বড় সাফল্য পান ঋষি কাপুর। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি রোমান্টিক নায়ক হিসেবে বলিউডে জনপ্রিয় ছিলেন।

তবে ক্যারিয়ারের একপর্যায়ে তিনি নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চরিত্রাভিনেতা হিসেবে নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন।

এই পরিবর্তন তার ক্যারিয়ারকে আরও সমৃদ্ধ করে।

নতুন প্রজন্মের অভিনেতা ও নির্মাতাদের সঙ্গেও কাজ করার সুযোগ পান তিনি।

ঋষি কাপুরের সেই বক্তব্য শুধু বলিউড নয়, জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক। পারিবারিক পরিচয়, সুযোগ বা সুবিধা কাউকে এগিয়ে দিতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন সাফল্য ধরে রাখতে প্রয়োজন পরিশ্রম, সততা এবং নিজেকে সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা।

ঋষি কাপুরের নিজের ক্যারিয়ারও যেন তারই উদাহরণ। শুরুতে পারিবারিক পরিচয় ও সুযোগ থাকলেও পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে দর্শকের কাছে নিজের জায়গা ধরে রেখেছিলেন তিনি কাজের মাধ্যমে।

১৯৫২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ে জন্ম ঋষি কাপুরের। কাপুর পরিবারের সন্তান হিসেবে ছোটবেলাতেই অভিনয়ে পা রাখেন তিনি। ‘মেরা নাম জোকার’ সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন।

পরে ‘ববি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ একাধিক সম্মাননা।

২০২০ সালের ৩০ এপ্রিল ৬৭ বছর বয়সে মারা যান ঋষি কাপুর। তবে তাঁর অভিনয় এবং সাফল্য নিয়ে বলা কথাগুলো এখনো দর্শক ও ভক্তদের মধ্যে আলোচিত।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ