ঢাকা ০৬:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

বিভিন্ন দেশে পালানো রেকর্ড ৬০ লাখ আফগানী ফিরেছে আফগানিস্তানে

তিন বছরেরও কম সময়ে প্রায় ৬০ লাখ আফগান শরণার্থী নিজ দেশে ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। সংস্থাটি বলছে, সাম্প্রতিক ইতিহাসে এত বড় পরিসরে মানুষের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইউএনএইচসিআর জানায়, প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে সব ফেরত যাওয়া যেন স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক প্রত্যাবাসনের মধ্যে স্বেচ্ছায় ফেরার পাশাপাশি জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর ঘটনাও রয়েছে।

ফিরে যাওয়া আফগানদের সুনির্দিষ্ট দেশভিত্তিক সংখ্যা ইউএনএইচসিআর প্রকাশ না করলেও, তাদের বড় একটি অংশ প্রতিবেশী পাকিস্তান ও ইরান থেকে ফিরেছেন। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ইরান থেকেই প্রায় ২১ লাখ আফগান দেশে ফিরেছেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গত জুনে জানিয়েছিলেন, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ইসলামাবাদের পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাবাসন কর্মসূচি শুরুর পর ২৪ লাখের বেশি আফগান নাগরিক দেশে ফিরে গেছেন। পাকিস্তানে আফগানদের ফেরত পাঠানোর এই প্রক্রিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও জোরদার হয়েছে।

১৯৭৯ সালে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের পর দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার কারণে লাখ লাখ আফগান পাকিস্তান ও ইরানে আশ্রয় নেন। বর্তমানে পাকিস্তানে ৭ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি নিবন্ধিত আফগান শরণার্থী রয়েছেন। এর বাইরে অনিবন্ধিত আফগানদের সংখ্যা ১০ লাখের বেশি বলে বিভিন্ন হিসাবে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে বিপুলসংখ্যক মানুষ ফিরে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে আফগানিস্তানে তাদের আশ্রয়, কর্মসংস্থান ও মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউএনএইচসিআরও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দেশে ফিরে যাওয়া আফগানদের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

আমলকি খাওয়ার গুণাগুণ

বিভিন্ন দেশে পালানো রেকর্ড ৬০ লাখ আফগানী ফিরেছে আফগানিস্তানে

আপডেট সময় ০৫:০৪:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তিন বছরেরও কম সময়ে প্রায় ৬০ লাখ আফগান শরণার্থী নিজ দেশে ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। সংস্থাটি বলছে, সাম্প্রতিক ইতিহাসে এত বড় পরিসরে মানুষের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইউএনএইচসিআর জানায়, প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে সব ফেরত যাওয়া যেন স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক প্রত্যাবাসনের মধ্যে স্বেচ্ছায় ফেরার পাশাপাশি জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর ঘটনাও রয়েছে।

ফিরে যাওয়া আফগানদের সুনির্দিষ্ট দেশভিত্তিক সংখ্যা ইউএনএইচসিআর প্রকাশ না করলেও, তাদের বড় একটি অংশ প্রতিবেশী পাকিস্তান ও ইরান থেকে ফিরেছেন। সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ইরান থেকেই প্রায় ২১ লাখ আফগান দেশে ফিরেছেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গত জুনে জানিয়েছিলেন, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ইসলামাবাদের পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাবাসন কর্মসূচি শুরুর পর ২৪ লাখের বেশি আফগান নাগরিক দেশে ফিরে গেছেন। পাকিস্তানে আফগানদের ফেরত পাঠানোর এই প্রক্রিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও জোরদার হয়েছে।

১৯৭৯ সালে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের পর দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার কারণে লাখ লাখ আফগান পাকিস্তান ও ইরানে আশ্রয় নেন। বর্তমানে পাকিস্তানে ৭ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি নিবন্ধিত আফগান শরণার্থী রয়েছেন। এর বাইরে অনিবন্ধিত আফগানদের সংখ্যা ১০ লাখের বেশি বলে বিভিন্ন হিসাবে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে বিপুলসংখ্যক মানুষ ফিরে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে আফগানিস্তানে তাদের আশ্রয়, কর্মসংস্থান ও মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউএনএইচসিআরও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দেশে ফিরে যাওয়া আফগানদের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ