কারারক্ষী ও আইনজীবীর ছদ্মবেশে অভিনব কৌশলে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— মো. আব্দুস সালাম (৪৯) ও মো. সুরুজ (২৬)।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত তিনটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা জানায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করত। পরে তাদের ফোন করে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন মামলার আসামিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করত।
এরপর ওই আসামিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণার ফাঁদ পাতত চক্রটি।
প্রথমে চক্রের একজন নিজেকে সাইফুল, কারারক্ষী, কারাগার প্রধান ফটক, কাশিমপুর কারাগার পরিচয় দিয়ে আসামির স্বজনদের ফোন করত। তাদের বলা হতো, তাদের নিকটাত্মীয়ের জামিন নির্ধারিত আইনজীবীর মাধ্যমে নয়, মানবাধিকার সংস্থার আইনজীবী ‘সিরাজ’-এর মাধ্যমে হয়েছে।
পরে আইনজীবী পরিচয়ে কথা বলার জন্য চক্রের অপর সদস্যের একটি মুঠোফোন নম্বর দেওয়া হতো।
ওই নম্বরে ফোন করলে প্রতারক নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে বলত, আসামির জামিন হয়ে গেছে। আদালতের অন্যান্য প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে হবে এবং তার হাতে সময় কম।
এরপর ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের কাছাকাছি কোনো দোকানের বিকাশ বা নগদ পারসোনাল নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা হতো। টাকা পাঠানোর পর প্রতারকেরা তা তুলে নিয়ে মুঠোফোন বন্ধ করে দিত। পরে দ্রুত ওই এলাকা ছেড়ে চলে যেত তারা।
ডিবি জানায়, গত ১ জুলাই হাতিরঝিল থানায় করা বিকাশ-নগদ প্রতারণার একটি মামলা তদন্ত করতে গিয়ে চক্রটির এই অভিনব প্রতারণার বিষয়টি নজরে আসে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়।
এরপর বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের একটি দল গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুস সালাম ও সুরুজকে গ্রেপ্তার করে।
ডিবি বলছে, গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ উদ্ধারে অভিযান চলছে।
অপরিচিত কারও কথায় যাচাই-বাছাই ছাড়া আর্থিক লেনদেন না করার পরামর্শ দিয়েছে ডিবি। অনলাইনে বা মুঠোফোনে কারও পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় পরিচয় নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ























