ঢাকা ১১:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হরমুজে ‘সিদর’ জাহাজে ইরানের হামলা, কয়েক ক্রু নিহতের দাবি সৌদির Logo বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: ২ জেলের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ২ Logo চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার: ৮ মাসে আক্রান্ত ২১৮৬, আগস্টেই ১২০২ Logo চেলসি থেকে সিটিতে গিয়ে ফার্নান্দেজ—এত বড় ক্লাবে খেলার স্বপ্ন ছিল Logo মোদি-পেজেশকিয়ান সাক্ষাতের পর ভারতের ওপর ‘নিষেধাজ্ঞার’ হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের Logo আজও অমলিন মহানায়ক উত্তম কুমার Logo অনলাইনে যৌন শোষণের শিকার বছরে প্রায় ২ কোটি শিশু : ইউনিসেফ Logo ঘুষ নিয়ে নথি হস্তান্তর, পদোন্নতি আটকে স্বপদে বহাল কর কর্মকর্তা মিতু Logo ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নস পুনর্গঠন Logo দুদককে ক্ষমা চাইতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম আসিফ মাহমুদের

আজও অমলিন মহানায়ক উত্তম কুমার

বাংলা সিনেমার ইতিহাসে কিছু নাম সময়ের সঙ্গে পুরোনো হয় না, বরং প্রজন্ম পেরিয়ে আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। উত্তম কুমার তেমনই এক নাম। পশ্চিমবঙ্গের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশের দর্শকের হৃদয়েও আজও অমলিন তিনি। ‘মহানায়ক’ তকমায় তার তারকাখ্যাতি আরও উজ্জ্বল হলেও, সেই আবরণের আড়ালে থাকা অসাধারণ অভিনেতা উত্তম কুমারকে নতুন করে আবিষ্কারের প্রয়োজন এখনো ফুরায়নি।

সেলুলয়েডের পর্দায় তার এক চিলতে হাসি, সংলাপ উচ্চারণের স্বতন্ত্র ভঙ্গি কিংবা ব্যক্তিত্বের নিজস্বতা- চার দশক পার হয়েও এতটুকু ফিকে হয়নি। বাংলা চলচ্চিত্রের সেই এক ও একক ‘মহানায়ক’ উত্তম কুমারের আজ ১০০তম জন্মবার্ষিকী। ১৯২৬ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া এ কালজয়ী তারকা শতবর্ষে পা রাখলেন।

আজকের ‘উত্তম কুমার’ হয়ে ওঠার পেছনের গল্পটি অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়ের। ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতায় সাধারণ এক পরিবারে জন্ম নেওয়া এই অসামান্য প্রতিভাবান অভিনেতা কঠোর পরিশ্রম ও যোগ্যতাবলে নিজেকে বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেন।

বাংলা সিনেমার রোমান্টিসিজমের কথা উঠলেই পর্দায় ভেসে ওঠে উত্তম-সুচিত্রা জুটি। ‘সপ্তপদী’, ‘হারানো সুর’, ‘সাগরিকা’, ‘সবার উপরে’ কিংবা ‘চাওয়া পাওয়া’র মতো একেকটি মাস্টারপিস সিনেমা দর্শকদের হৃদয়ে যুগ যুগ ধরে স্থায়ী আসন তৈরি করে নিয়েছে।

তবে কেবল রোমান্টিক নায়কের পরিচয়ে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি উত্তম কুমার। রূপালি পর্দায় তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার এক অনন্য উদাহরণ। সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ ও ‘চিড়িয়াখানা’ থেকে শুরু করে ‘ঝিন্দের বন্দী’র মতো চলচ্চিত্রে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। বিশেষ করে সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ ছবিতে তাঁর অভিনয়কে ভারতীয় সিনেমা ইতিহাসের অন্যতম সেরা কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়।

অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র পরিচালনা, প্রযোজনা এমনকি সংগীতচর্চাতেও ছিল তাঁর সমান পদচারণা ও সৃজনশীল উপস্থিতি। ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই মাত্র ৫৩ বছর বয়সে প্রয়াণ ঘটে এই মহানায়কের। তবে মৃত্যুর চার দশক পেরিয়েও তার জনপ্রিয়তার আভা একটুও কমেনি।

জন্মশতবর্ষের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে দুই বাংলার চলচ্চিত্র অঙ্গন ও কোটি কোটি অনুরাগী গভীর ভালোবাসায় স্মরণ করছে বাংলা সিনেমার রূপালী জগতের এই অবিসংবাদিত রাজপুত্রকে।

Tag :

হরমুজে ‘সিদর’ জাহাজে ইরানের হামলা, কয়েক ক্রু নিহতের দাবি সৌদির

আজও অমলিন মহানায়ক উত্তম কুমার

আপডেট সময় ১০:১৩:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলা সিনেমার ইতিহাসে কিছু নাম সময়ের সঙ্গে পুরোনো হয় না, বরং প্রজন্ম পেরিয়ে আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। উত্তম কুমার তেমনই এক নাম। পশ্চিমবঙ্গের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশের দর্শকের হৃদয়েও আজও অমলিন তিনি। ‘মহানায়ক’ তকমায় তার তারকাখ্যাতি আরও উজ্জ্বল হলেও, সেই আবরণের আড়ালে থাকা অসাধারণ অভিনেতা উত্তম কুমারকে নতুন করে আবিষ্কারের প্রয়োজন এখনো ফুরায়নি।

সেলুলয়েডের পর্দায় তার এক চিলতে হাসি, সংলাপ উচ্চারণের স্বতন্ত্র ভঙ্গি কিংবা ব্যক্তিত্বের নিজস্বতা- চার দশক পার হয়েও এতটুকু ফিকে হয়নি। বাংলা চলচ্চিত্রের সেই এক ও একক ‘মহানায়ক’ উত্তম কুমারের আজ ১০০তম জন্মবার্ষিকী। ১৯২৬ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া এ কালজয়ী তারকা শতবর্ষে পা রাখলেন।

আজকের ‘উত্তম কুমার’ হয়ে ওঠার পেছনের গল্পটি অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়ের। ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতায় সাধারণ এক পরিবারে জন্ম নেওয়া এই অসামান্য প্রতিভাবান অভিনেতা কঠোর পরিশ্রম ও যোগ্যতাবলে নিজেকে বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেন।

বাংলা সিনেমার রোমান্টিসিজমের কথা উঠলেই পর্দায় ভেসে ওঠে উত্তম-সুচিত্রা জুটি। ‘সপ্তপদী’, ‘হারানো সুর’, ‘সাগরিকা’, ‘সবার উপরে’ কিংবা ‘চাওয়া পাওয়া’র মতো একেকটি মাস্টারপিস সিনেমা দর্শকদের হৃদয়ে যুগ যুগ ধরে স্থায়ী আসন তৈরি করে নিয়েছে।

তবে কেবল রোমান্টিক নায়কের পরিচয়ে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি উত্তম কুমার। রূপালি পর্দায় তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার এক অনন্য উদাহরণ। সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ ও ‘চিড়িয়াখানা’ থেকে শুরু করে ‘ঝিন্দের বন্দী’র মতো চলচ্চিত্রে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। বিশেষ করে সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’ ছবিতে তাঁর অভিনয়কে ভারতীয় সিনেমা ইতিহাসের অন্যতম সেরা কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়।

অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র পরিচালনা, প্রযোজনা এমনকি সংগীতচর্চাতেও ছিল তাঁর সমান পদচারণা ও সৃজনশীল উপস্থিতি। ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই মাত্র ৫৩ বছর বয়সে প্রয়াণ ঘটে এই মহানায়কের। তবে মৃত্যুর চার দশক পেরিয়েও তার জনপ্রিয়তার আভা একটুও কমেনি।

জন্মশতবর্ষের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে দুই বাংলার চলচ্চিত্র অঙ্গন ও কোটি কোটি অনুরাগী গভীর ভালোবাসায় স্মরণ করছে বাংলা সিনেমার রূপালী জগতের এই অবিসংবাদিত রাজপুত্রকে।