ঢাকা ১১:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হরমুজে ‘সিদর’ জাহাজে ইরানের হামলা, কয়েক ক্রু নিহতের দাবি সৌদির Logo বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: ২ জেলের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ২ Logo চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার: ৮ মাসে আক্রান্ত ২১৮৬, আগস্টেই ১২০২ Logo চেলসি থেকে সিটিতে গিয়ে ফার্নান্দেজ—এত বড় ক্লাবে খেলার স্বপ্ন ছিল Logo মোদি-পেজেশকিয়ান সাক্ষাতের পর ভারতের ওপর ‘নিষেধাজ্ঞার’ হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের Logo আজও অমলিন মহানায়ক উত্তম কুমার Logo অনলাইনে যৌন শোষণের শিকার বছরে প্রায় ২ কোটি শিশু : ইউনিসেফ Logo ঘুষ নিয়ে নথি হস্তান্তর, পদোন্নতি আটকে স্বপদে বহাল কর কর্মকর্তা মিতু Logo ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নস পুনর্গঠন Logo দুদককে ক্ষমা চাইতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম আসিফ মাহমুদের

ঘুষ নিয়ে নথি হস্তান্তর, পদোন্নতি আটকে স্বপদে বহাল কর কর্মকর্তা মিতু

আয়কর আইনজীবীর মাধ্যমে ৩৮ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে স্পর্শকাতর নথি সরবরাহ করার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা সহকারী কর কমিশনার জান্নাতুল ফেরদৌস মিতুর পদোন্নতি আগামী ৮ বছরের জন্য স্থগিত করে স্বপদে বহাল করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এনবিআর থেকে জানানো হয়, সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে গত ৩১ আগস্ট প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব সই করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সার্কেল-৯৩, কর অঞ্চল-৫, ঢাকায় সহকারী কর কমিশনার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে করদাতা সালাহ উদ্দিন আহমেদের কাছ থেকে ৩৮ লাখ টাকা গ্রহণের অভিযোগ উঠে জান্নাতুল ফেরদৌসের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এই অর্থের বিনিময়ে তিনি ওই করদাতার আয়কর নথির অধিকাংশ রেকর্ড পরিবর্তন করে নতুন রেকর্ড সংযোজন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি পুরনো আয়কর রিটার্ন, অর্ডার শিট, কর নির্ধারণী আদেশ, আপিল-ট্রিবিউনাল আদেশসমূহ এবং অন্যান্য নথিপত্র করদাতার মনোনীত প্রতিনিধি (আইনজীবী) ওবায়দুল হক সরকার ও তার সহকারী সোহেলের কাছে হস্তান্তর করেন।

এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ এবং ৩(ঘ) বিধি অনুযায়ী ‘দুর্নীতি পরায়ণ’-এর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করে কৈফিয়ত তলব করা হয়।

পরে অভিযুক্ত কর্মকর্তা কৈফিয়তের জবাব দাখিল করে ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করলে গত ১৬ মার্চ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলায় তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি থাকায় বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে দেখা যায়, জান্নাতুল ফেরদৌস মিতুর বিরুদ্ধে আনীত ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তবে ‘দুর্নীতি পরায়ণ’-এর অভিযোগটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, তদন্ত প্রতিবেদন ও বিভাগীয় মামলার সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

একই বিধিমালার ৪(২)(খ) বিধি অনুযায়ী তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে আগামী ৮ আট বছরের জন্য পদোন্নতি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাশাপাশি তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

বাংলা৭১নিউজ/একেএম

Tag :

হরমুজে ‘সিদর’ জাহাজে ইরানের হামলা, কয়েক ক্রু নিহতের দাবি সৌদির

ঘুষ নিয়ে নথি হস্তান্তর, পদোন্নতি আটকে স্বপদে বহাল কর কর্মকর্তা মিতু

আপডেট সময় ১০:০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আয়কর আইনজীবীর মাধ্যমে ৩৮ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে স্পর্শকাতর নথি সরবরাহ করার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা সহকারী কর কমিশনার জান্নাতুল ফেরদৌস মিতুর পদোন্নতি আগামী ৮ বছরের জন্য স্থগিত করে স্বপদে বহাল করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এনবিআর থেকে জানানো হয়, সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে গত ৩১ আগস্ট প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব সই করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সার্কেল-৯৩, কর অঞ্চল-৫, ঢাকায় সহকারী কর কমিশনার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে করদাতা সালাহ উদ্দিন আহমেদের কাছ থেকে ৩৮ লাখ টাকা গ্রহণের অভিযোগ উঠে জান্নাতুল ফেরদৌসের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এই অর্থের বিনিময়ে তিনি ওই করদাতার আয়কর নথির অধিকাংশ রেকর্ড পরিবর্তন করে নতুন রেকর্ড সংযোজন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি পুরনো আয়কর রিটার্ন, অর্ডার শিট, কর নির্ধারণী আদেশ, আপিল-ট্রিবিউনাল আদেশসমূহ এবং অন্যান্য নথিপত্র করদাতার মনোনীত প্রতিনিধি (আইনজীবী) ওবায়দুল হক সরকার ও তার সহকারী সোহেলের কাছে হস্তান্তর করেন।

এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ এবং ৩(ঘ) বিধি অনুযায়ী ‘দুর্নীতি পরায়ণ’-এর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করে কৈফিয়ত তলব করা হয়।

পরে অভিযুক্ত কর্মকর্তা কৈফিয়তের জবাব দাখিল করে ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করলে গত ১৬ মার্চ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলায় তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি থাকায় বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে দেখা যায়, জান্নাতুল ফেরদৌস মিতুর বিরুদ্ধে আনীত ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তবে ‘দুর্নীতি পরায়ণ’-এর অভিযোগটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, তদন্ত প্রতিবেদন ও বিভাগীয় মামলার সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

একই বিধিমালার ৪(২)(খ) বিধি অনুযায়ী তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে আগামী ৮ আট বছরের জন্য পদোন্নতি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাশাপাশি তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

বাংলা৭১নিউজ/একেএম