ঢাকা ১১:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হরমুজে ‘সিদর’ জাহাজে ইরানের হামলা, কয়েক ক্রু নিহতের দাবি সৌদির Logo বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: ২ জেলের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ২ Logo চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার: ৮ মাসে আক্রান্ত ২১৮৬, আগস্টেই ১২০২ Logo চেলসি থেকে সিটিতে গিয়ে ফার্নান্দেজ—এত বড় ক্লাবে খেলার স্বপ্ন ছিল Logo মোদি-পেজেশকিয়ান সাক্ষাতের পর ভারতের ওপর ‘নিষেধাজ্ঞার’ হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের Logo আজও অমলিন মহানায়ক উত্তম কুমার Logo অনলাইনে যৌন শোষণের শিকার বছরে প্রায় ২ কোটি শিশু : ইউনিসেফ Logo ঘুষ নিয়ে নথি হস্তান্তর, পদোন্নতি আটকে স্বপদে বহাল কর কর্মকর্তা মিতু Logo ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নস পুনর্গঠন Logo দুদককে ক্ষমা চাইতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম আসিফ মাহমুদের

অনলাইনে যৌন শোষণের শিকার বছরে প্রায় ২ কোটি শিশু : ইউনিসেফ

বছরে ২১টি দেশের প্রায় ২ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিশু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যৌন শোষণ বা নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যার অধিকাংশ ঘটনাই ঘটেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফের নতুন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও পূর্ব ইউরোপের ২১টি দেশের তথ্যের ভিত্তিতে এ হিসাব করা হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় প্রতি পাঁচজনের একজন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অন্তত এক ধরনের যৌন শোষণ বা নির্যাতনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় দেড় কোটি শিশু অনিচ্ছাকৃতভাবে যৌন বিষয়বস্তুর মুখোমুখি হয়েছে। প্রায় ৯০ লাখ শিশুকে যৌন আলাপ বা যৌন ছবি শেয়ার করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। আর প্রায় ৪০ লাখ শিশুর যৌন ছবি তাদের সম্মতি ছাড়াই অন্যদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইউনিসেফ বলছে, বিশ্বজুড়ে এ ধরনের নির্যাতনের শিকার শিশুর প্রকৃত সংখ্যা কয়েক কোটি ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিশুদের মধ্যে অনেকেই এসব ঘটনা প্রকাশ বা কর্তৃপক্ষকে জানানোর সুযোগ পায় না।

এ ধরনের সবচেয়ে বড় গবেষণাগুলোর একটি হিসেবে প্রতিবেদনটিকে উল্লেখ করেছে ইউনিসেফ। ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ২১টি দেশে প্রায় ২১ হাজার ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিশুর ওপর পরিচালিত জাতীয় প্রতিনিধিত্বশীল জরিপের তথ্য এতে ব্যবহার করা হয়েছে। দেশগুলোর মধ্যে কেনিয়া, পাকিস্তান, ব্রাজিল ও সার্বিয়াও রয়েছে।

যৌন শোষণ ও নির্যাতনের প্রায় ৬০ শতাংশ ঘটনাই ঘটেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এর মধ্যে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটকের নাম এসেছে। এ ছাড়া ১৪ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে অনলাইন গেমে।

এ বিষয়ে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটার এক মুখপাত্র বলেন, জরিপের তথ্য ২০২০ সাল পর্যন্ত পুরোনো এবং এরপর প্রতিষ্ঠানটি কিশোরদের সুরক্ষায় বেশ কিছু নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে। এর মধ্যে কিশোরদের অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যক্তিগত বা প্রাইভেট রাখা এবং পরিচিত নয় এমন প্রাপ্তবয়স্কদের কাছ থেকে বার্তা আসা ঠেকানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

মেটার পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি হোয়াটসঅ্যাপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, ব্যক্তিগত বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ হিসেবে বিবেচনা করে।

প্রতিবেদনটিতে নির্যাতনের নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি দাবি করে মেটার মুখপাত্র বলেন, শিশু যৌন শোষণ ঠেকাতে প্রতিষ্ঠানটি তাদের সব অ্যাপে কঠোরভাবে কাজ চালিয়ে যাবে। একই সঙ্গে এ ধরনের অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করা হবে।

বাংলা৭১নিউজ,ডেস্ক

Tag :

হরমুজে ‘সিদর’ জাহাজে ইরানের হামলা, কয়েক ক্রু নিহতের দাবি সৌদির

অনলাইনে যৌন শোষণের শিকার বছরে প্রায় ২ কোটি শিশু : ইউনিসেফ

আপডেট সময় ১০:০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বছরে ২১টি দেশের প্রায় ২ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিশু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে যৌন শোষণ বা নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যার অধিকাংশ ঘটনাই ঘটেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফের নতুন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও পূর্ব ইউরোপের ২১টি দেশের তথ্যের ভিত্তিতে এ হিসাব করা হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় প্রতি পাঁচজনের একজন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অন্তত এক ধরনের যৌন শোষণ বা নির্যাতনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় দেড় কোটি শিশু অনিচ্ছাকৃতভাবে যৌন বিষয়বস্তুর মুখোমুখি হয়েছে। প্রায় ৯০ লাখ শিশুকে যৌন আলাপ বা যৌন ছবি শেয়ার করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। আর প্রায় ৪০ লাখ শিশুর যৌন ছবি তাদের সম্মতি ছাড়াই অন্যদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইউনিসেফ বলছে, বিশ্বজুড়ে এ ধরনের নির্যাতনের শিকার শিশুর প্রকৃত সংখ্যা কয়েক কোটি ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিশুদের মধ্যে অনেকেই এসব ঘটনা প্রকাশ বা কর্তৃপক্ষকে জানানোর সুযোগ পায় না।

এ ধরনের সবচেয়ে বড় গবেষণাগুলোর একটি হিসেবে প্রতিবেদনটিকে উল্লেখ করেছে ইউনিসেফ। ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ২১টি দেশে প্রায় ২১ হাজার ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিশুর ওপর পরিচালিত জাতীয় প্রতিনিধিত্বশীল জরিপের তথ্য এতে ব্যবহার করা হয়েছে। দেশগুলোর মধ্যে কেনিয়া, পাকিস্তান, ব্রাজিল ও সার্বিয়াও রয়েছে।

যৌন শোষণ ও নির্যাতনের প্রায় ৬০ শতাংশ ঘটনাই ঘটেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এর মধ্যে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটকের নাম এসেছে। এ ছাড়া ১৪ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে অনলাইন গেমে।

এ বিষয়ে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটার এক মুখপাত্র বলেন, জরিপের তথ্য ২০২০ সাল পর্যন্ত পুরোনো এবং এরপর প্রতিষ্ঠানটি কিশোরদের সুরক্ষায় বেশ কিছু নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে। এর মধ্যে কিশোরদের অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যক্তিগত বা প্রাইভেট রাখা এবং পরিচিত নয় এমন প্রাপ্তবয়স্কদের কাছ থেকে বার্তা আসা ঠেকানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

মেটার পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি হোয়াটসঅ্যাপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, ব্যক্তিগত বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ হিসেবে বিবেচনা করে।

প্রতিবেদনটিতে নির্যাতনের নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি দাবি করে মেটার মুখপাত্র বলেন, শিশু যৌন শোষণ ঠেকাতে প্রতিষ্ঠানটি তাদের সব অ্যাপে কঠোরভাবে কাজ চালিয়ে যাবে। একই সঙ্গে এ ধরনের অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করা হবে।

বাংলা৭১নিউজ,ডেস্ক