আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ঢাকার লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচরের ইসলামবাগে বুড়িগঙ্গার তীর থেকে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)’র চেয়ারম্যান, ঢাকার জেলা প্রশাসক, লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্ত এক আবেদনে শুনানির পর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ বাস্তবায়ন করে চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।’
বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ বন্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)’র পক্ষে ২০১০ সালে জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন করা হয়।
পরের বছর ১ জুন এই রিটে রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে বুড়িগঙ্গার দূষণ রোধে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়। এসব নির্দেশনার মধ্যে ছিল- নদীতে সরাসরি পতিত হওয়া সব ড্রেনেজ ও পয়োবর্জ্য লাইন চিহ্নিত করে দ্রুত বিচ্ছিন্ন করা, বুড়িগঙ্গায় যেন নতুন করে কোনো বর্জ্য বা ময়লা ফেলা না হয়, সে জন্য নদীর তীরে নিয়মিত টহল দেওয়া, পরিবেশগত ছাড়পত্র (ইসিসি) এবং বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) ছাড়া বড়িগঙ্গার দুই তীরে গড়ে তোলা অবৈধ শিল্প-কারখানা বন্ধ করা।
আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে বুড়িগঙ্গার পানি দূষণ বন্ধে নদীর তীরে যেকোনো প্লাস্টিক বা বর্জ্য ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
কিন্তু গত ১৯ আগস্ট একটি ইংরেজি দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকায় ইসলামবাগে বুড়িগঙ্গার তীরে স্তূপ করে প্লাস্টিক বর্জ্য ও অন্যান্য বর্জ্য রাখা হয়েছে। সময়ের ব্যবধানে এসব বর্জ্য পানিতে মিশে ভয়াবহ দূষণ ঘটাবে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনটি যুক্ত করে গত ৩০ আগস্ট আবেদনটি করা হয় বলে জানান এই আইনজীবী। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ




























