বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ (এফএক্স ইন্টারভেনশন), আন্ত ব্যাংক লেনদেন ও বিভিন্ন তথ্যের রিপোর্টিং কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় আনতে ‘ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট (এফএক্সএম) মডিউল’ চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এই সিস্টেমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান মঙ্গলবার এফএক্সএম সিস্টেমের উদ্বোধন করেন। এ সময় ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ এবং ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট-১-এর পরিচালক এ. কে. এম. রমিজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, অভ্যন্তরীণ বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন সময়ে এফএক্স ইন্টারভেনশন অকশনের আয়োজন করে। পাশাপাশি আন্তব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্পট, ফরওয়ার্ড ও সোয়াপ লেনদেন করে ব্যাংকগুলো।
এত দিন এসব কার্যক্রমের একটি বড় অংশ ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পরিচালিত হতো।
নতুন এফএক্সএম মডিউলের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় আসবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব জনবলের মাধ্যমে সিস্টেমটি তৈরি করা হয়েছে।
এ ছাড়া ব্যাংকগুলোর গ্রাহক পর্যায়ের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের তথ্যও এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আরো কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনা করা যাবে।
আমদানি, রপ্তানি ও রেমিট্যান্সসহ বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের তথ্য ব্যাংকগুলো থেকে সংগ্রহ করে রেফারেন্স রেট প্রস্তুত করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমানে এই রেফারেন্স রেট প্রতিদিন দুবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাষ্য, নতুন ব্যবস্থায় বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন রিয়েল টাইম ভিত্তিতে সম্পাদন করা সম্ভব হবে। এতে রেফারেন্স রেট আরো নির্ভুলভাবে প্রস্তুত করা যাবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্যের যথার্থতা, স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা ও কার্যক্রমের গতি বাড়বে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর তারল্য ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে।
রিয়েল টাইম ভিত্তিতে বাজারের তথ্য পাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বাজার তদারকি বা মার্কেট সার্ভেইলেন্স কার্যক্রমও জোরদার হবে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্রুত সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এফএক্সএম ব্যবহারের সুবিধার্থে এর ব্যবহারবিধি ও কার্যপ্রণালি নিয়ে একটি ‘অপারেশনাল গাইডলাইন’ তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর অবগতির জন্য এ বিষয়ে ইতিমধ্যে একটি সার্কুলারও জারি করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের কার্যক্রম অটোমেশনের ফলে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে। একই সঙ্গে বাজার ব্যবস্থাপনা ও নীতিনির্ধারণে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখবে নতুন এই ব্যবস্থা।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ























